মুখে আকর্ণবিস্তৃত হাসি। কিন্তু সেটাই বদলে যায় মাঠে নামলে। গোল গোল চোখ পাকিয়ে হই হই করে হেসে ওঠা উধাও। বিপক্ষ খেলোয়াড়, তা সে যেই হোক না কেন, তাকে এক ইঞ্চি জমি ছেড়ে দিতে প্রস্তুত নন মহম্মদ সিরাজ!

মহম্মদ সিরাজ
শেষ আপডেট: 5 August 2025 11:54
দ্য ওয়াল ব্যুরো: মুখে আকর্ণবিস্তৃত হাসি। কিন্তু সেটাই বদলে যায় মাঠে নামলে। গোল গোল চোখ পাকিয়ে হই হই করে হেসে ওঠা উধাও। বিপক্ষ খেলোয়াড়, তা সে যেই হোক না কেন, তাকে এক ইঞ্চি জমি ছেড়ে দিতে প্রস্তুত নন মহম্মদ সিরাজ (Mohammed Siraj)। এই আগ্রাসনই টিম ইন্ডিয়ার পেসারকে বাকিদের থেকে আলাদা করে। সারাক্ষণ তেতে থাকেন। কখনও কখনও ফুটে ওঠে ক্রোধ। যে কারণে ইংল্যান্ড শিবির বিশেষ ডাকনাম দিয়েছে: ‘মিস্টার অ্যাংরি’ (Mr. Angry)! এই খবর সিরিজশেষে ফাঁস করেছেন ইংল্যান্ডের প্রাক্তন অধিনায়ক নাসের হুসেন (Nasser Hussain)।
ওভাল টেস্টের (Oval Test) নায়ককে নিয়ে হুসেন তাঁর কলামে লিখেছেন, ‘ওর মধ্যে আগুন আছে। ইংল্যান্ডের ছেলেরা ওকে ‘মিস্টার অ্যাংরি’ বলে ডাকে। মাঠে সিরাজের ফলো-থ্রু সত্যি নজিরবিহীন। ও সব সময় আপনার মনোযোগ দাবি করে। সিরাজের যাবতীয় নাটকীয় মুহূর্ত নিয়ে একটা মন্তাজ বানানো যায়… লর্ডসে হাঁটু গেড়ে হতাশায় ডুবে থাকা আবার ডিআরএস পক্ষে গেলে আনন্দ-উচ্ছ্বাস, বিপক্ষে গেলে হাহাকার!’
ওভাল টেস্ট প্রায় একা হাতে জিতিয়ে সিরিজ সমতা এনে দিয়েছেন সিরাজ। ৩৭৪ রানের লক্ষ্য পিছু ধাওয়া করতে গিয়ে তিনি একাই নিয়েছেন নয়টি উইকেট। দ্বিতীয় ইনিংসে পাঁচটি, অন্তিম দিনে তিনটি! আবার একই টেস্টে শতকবীর হ্যারি ব্রুক, ১৯ রানের মাথায় তাঁর ক্যাচ ফেলে দেন সিরাজ। তখন মনে হচ্ছিল ম্যাচ এবং সেই সঙ্গে আস্ত সিরিজও বুঝি এই একটি ভুলেই হাতছাড়া হল। তবু সিরাজ বিশ্বাস হারাননি। শেষমেশ ছয় রানে ভারত ঐতিহাসিক টেস্ট জিতেছে। ২-২ ফলাফলের দ্বৈরথে ২৩ উইকেট তুলে তিনিই সর্বোচ্চ উইকেটশিকারি।
এই সফরে সিরাজের উন্নতি নিয়েও প্রশংসা করেছেন হুসেন। তিনি লিখেছেন, ‘সিরাজ যেন বিনোদন দিতেই জন্মেছে! কিন্তু তার চাইতেও গুরুত্বপূর্ণ, ওর হৃদয়, আবেগ আর দক্ষতা। প্রথমে ছিল ‘হিট-দ্য-ডেক’ গোছের পেসার, যে কিনা জো রুটের মতো ব্যাটারকে এলবিডব্লিউ করতে পারত। এখন সিরাজ এমন আউটসুইং তৈরি করেছে যে, শুভমন গিল দ্বিতীয় নতুন বল নিতেও আগ্রহ দেখাচ্ছে না!’
হুসেন আরও যোগ করেন, ‘ওর ইয়র্কারও দুর্দান্ত! তৃতীয় দিনের শেষ দিকে ক্রলিকে যেমন আউট করেছিল। সোমবার দুপুরের আগে একই অস্ত্র ব্যবহার করে অ্যাটকিনসনকে ড্রেসিং রুমে ফেরাল। ও দু’নম্বর ছয় মারতে চেয়েছিল। সেই ছক্কা মারতে পারলে ম্যাচটাই বেরিয়ে যেত ভারতের হাত থেকে। ওর নিখুঁত ইয়র্কারেই জিতল টিম ইন্ডিয়া। ভুল করলেই সিরিজ হাতছাড়া। তাই প্রচণ্ড চাপের মধ্যে নিখুঁত কাজ করেছে সিরাজ। ও একজন চ্যাম্পিয়ন ক্রিকেটার!’