৩৭৪ রানের লক্ষ্য তাড়া করতে নেমে একসময় মনে হচ্ছিল ম্যাচ হাতের বাইরে চলে যাচ্ছে। জো রুট আর হ্যারি ব্রুক রীতিমতো ঝড় তোলেন। কিন্তু সেখান থেকেই ভারত লড়াইয়ে ফেরে।

শুভমান গিল
শেষ আপডেট: 4 August 2025 18:36
দ্য ওয়াল ব্যুরো: সংশয়ীদের প্রশ্ন ছিল, এই আনকোরা, তরুণ দল বেইজ্জত হয়ে ফিরবে না তো?
সমালোচকরা সওয়াল তোলেন, কেন কোহলিকে সরানোর চক্রান্ত হল? কেন রোহিত অবসর নিতে বাধ্য হলেন?
নিন্দুকরা ফুট কাটেন, কত ব্যবধানে হেরে ফিরবে টিম ইন্ডিয়া? পুরোপুরি হোয়াইটওয়াশ? নাকি কোনওক্রমে একটি ম্যাচ জিতবে?
এত প্রশ্ন, এত বিদ্রুপের সমুচিত জবাব দিল ভারত। দিলেন শুভমান গিলও। পর্বান্তরের মধ্য দিয়ে যাওয়া দলের অনভিজ্ঞ সেনানী। একের পর এক তারকা অবসর নিচ্ছেন। তারপরেও রীতিমতো অনভিজ্ঞ খেলোয়াড়ে গড়া টিমের হাল ধরলেন। ব্যাট হাতে রান তুললেন দেদার—সফরের সর্বোচ্চ স্কোরারও তো তিনিই। ভাঙলেন একের পর এক রেকর্ড। আর নেতৃত্ব দিলেন সামনে দাঁড়িয়ে।
ওভালে জিতে সিরিজে সমতা ফিরিয়ে শুভমান গিল আনন্দের সপ্তম স্বর্গে। বয়স মাত্র ২৫। এর মধ্যেই জাতীয় টেস্ট দলের নেতৃত্ব তাঁর হাতে। মে মাসে অধিনায়ক ঘোষণার পর কত ঠাট্টা, কত প্রশ্ন! বিদেশের মাটিতে টেস্টে তাঁর রেকর্ড বিশেষ আহামরি ছিল না। সমালোচকরা তাকেই নিশানা করেন। তার উপর দলে নেই বিরাট কোহলি, রোহিত শর্মা। মনে হচ্ছিল, আন্ডারসন-তেন্ডুলকর ট্রফি শুরু হওয়ার আগেই ভারত বুঝি হেরে ভূত!
কিন্তু ৪৫ দিন পর ছবিটা একেবারে পাল্টে গিয়েছে। সিরিজ ড্র। ট্রফি ভাগাভাগি হলেও গিলদের কাছে এটা জয়ের শামিল। অধিনায়ক নিজে ৭৫ গড়ে সাকুল্যে ৭৫৪ রান তুলেছেন। সঙ্গে চারটি সেঞ্চুরি। ব্যাটিং, ফর্ম, অধিনায়কত্ব—সবকিছু নিয়েই যাঁদের সন্দেহ ছিল, গিলের ধারাবাহিকতা তাঁদের মুখের উপর জবাব!
ওভালে শেষ টেস্ট তো রুদ্ধশ্বাস থ্রিলার। ৩৭৪ রানের লক্ষ্য তাড়া করতে নেমে একসময় মনে হচ্ছিল ম্যাচ হাতের বাইরে চলে যাচ্ছে। জো রুট আর হ্যারি ব্রুক রীতিমতো ঝড় তোলেন। কিন্তু সেখান থেকেই ভারত লড়াইয়ে ফেরে। বোলাররা নিজেদের নিংড়ে দেন। যশস্বীর সেঞ্চুরিও ভোলা যাবে না। কিন্তু নায়ক যদি কেউ হন, তিনি মহম্মদ সিরাজ। দ্বিতীয় ইনিংসে নিলেন পাঁচ উইকেট। ইংল্যান্ড থামল ৩৫৪-তে। ভারত ৬ রানে জয় ছিনিয়ে নিল।
ম্যাচের পর গিলের মুখে আত্মবিশ্বাস। পুরস্কার বিতরণী মঞ্চে তিনি বললেন, ‘দুটো দলই দারুণ খেলেছে। শেষ দিন পর্যন্ত কে জিতবে বোঝা যায়নি। এতেই মালুম হয়, সবাই নিজেদের সেরাটা দিয়েছে। দলে সিরাজ আর প্রসিদ্ধের মতো বোলার থাকতে অধিনায়কত্ব অনেকটা সহজ হয়ে যায়। আজ যেভাবে আমরা ছাপ রেখেছি, সেটা অসাধারণ। কাল থেকেই আত্মবিশ্বাসী ছিলাম। জানতাম ওরা চাপে আছে। আর সেই চাপটাই ধরে রাখতে চেয়েছি!’
সিরাজের প্রশংসা করে গিল আরও বলেন, ‘ও যে কোনও অধিনায়কের স্বপ্ন। প্রতিটা বলে, প্রতিটা স্পেলে সবটুকু দিয়েছে। ২-২ ফলাফল যথাযথ। এটা দেখায় দুটো দল কতটা আবেগ নিয়ে খেলেছে। আমার লক্ষ্য ছিল এই সিরিজে সেরা ব্যাটসম্যান হওয়া। সেটা হতে পেরে তৃপ্ত। আসলে টেকনিক আর মানসিকতা—দুটোই ঠিক রাখতে হয়। গত ছয় সপ্তাহের বড় শিক্ষা—কখনও হাল না ছাড়া!’
ইংল্যান্ডে ভারতীয় অধিনায়কের চ্যালেঞ্জ ঐতিহাসিকভাবে কঠিন। ২০০৭ সালে রাহুল দ্রাবিড় ২১ বছরের অপেক্ষা ঘুচিয়ে সিরিজ জিতেছিলেন। তারপর থেকে এমএস ধোনি, বিরাট কোহলি—কারও হাতেই সাফল্য আসেনি। ২০১১-য় ০-৪ হার, ২০১৪-য় ১-৩, ২০১৮-য় ১-৪। ২০২১-এর সিরিজও শেষ হয়েছিল ২-২ ড্রয়ে।
দলনেতা হিসেবে অভিষেক সফরে সেই অসম্ভবকে সম্ভব করে দেখালেন শুভমান গিল। ইংল্যান্ডের মাটিতে সিরিজ ড্র। কোহলির যেখানে চার বছর লেগেছিল, ধোনি যা কোনওদিনই পারেননি, সেখানে গিল প্রথম অ্যাসাইনমেন্টেই সসম্মানে পাশ করলেন।