একটা টেস্ট সিরিজ কতটা রোমাঞ্চকর হলে তাকে ‘যুগের সেরা’ বলা যায়? কী সেই নিক্তি? কী সেই পরিমাপ? ‘উইজডেন’ (Wisden) বলছে—স্রেফ স্কোরলাইন নয়। দেখতে হবে ম্যাচ ঘিরে তৈরি হওয়া নাটক, প্রত্যাবর্তন, স্নায়ুর টক্কর, ব্যতিক্রমী পারফরম্যান্স আর লড়াইয়ের মোড় ঘোরানো মুহূর্ত।

সৌজন্যে: উইসডেন
শেষ আপডেট: 8 August 2025 17:42
দ্য ওয়াল ব্যুরো: একটা টেস্ট সিরিজ কতটা রোমাঞ্চকর হলে তাকে ‘যুগের সেরা’ বলা যায়? কী সেই নিক্তি? কী সেই পরিমাপ?
‘উইজডেন’ (Wisden) বলছে—স্রেফ স্কোরলাইন নয়। দেখতে হবে ম্যাচ ঘিরে তৈরি হওয়া নাটক, প্রত্যাবর্তন, স্নায়ুর টক্কর, ব্যতিক্রমী পারফরম্যান্স আর লড়াইয়ের মোড় ঘোরানো মুহূর্ত। এমন একগুচ্ছ মানদণ্ডের ভিত্তিতেই তারা বেছে নিয়েছে একুশ শতকের সেরা ১৫ টেস্ট সিরিজ (The 15 greatest Test series of the 21st century)। তালিকার একেবারে শীর্ষে রয়েছে ২০২১ সালে টিম ইন্ডিয়ার গাব্বা-বিজয়, তেমনই জায়গা করে নিয়েছে সদ্যসমাপ্ত অ্যান্ডারসন-টেন্ডুলকর ট্রফি।
আসুন, এক নজরে দেখে নেওয়া যাক সেই শতক-সেরার লিস্টি!
১. ভারত (২) বনাম অস্ট্রেলিয়া (১), ২০২০-২১
৩৬ রানে অল আউট, কোহলির ফিরে যাওয়া, একের পর এক চোট। তবু মেলবোর্নে রাহানের শতরানে ঘুরে দাঁড়ায় ভারত। সিডনিতে অশ্বিন-বিহারীর অসাধারণ লড়াইয়ে টেস্ট ড্র। ব্রিসবেনে প্রথম সারির অর্ধেক দল ছাড়াই জয়। ঋষভ পন্থ ৮৯ রানে অপরাজিত। সিরিজ ২-১। ক্রিকেট ইতিহাসে এক অভূতপূর্ব প্রত্যাবর্তন!
২. ইংল্যান্ড (২) বনাম অস্ট্রেলিয়া (১), ২০০৫
১৬ বছরের অপেক্ষা। এজবাস্টনের থ্রিলার, ওল্ড ট্র্যাফোর্ডে পন্টিংয়ের মহাকাব্যিক ১৫৬, পালটা ওভালে কেভিন পিটারসেনের অবিস্মরণীয় ১৫৮। ম্যাকগ্রা, ওয়ার্ন, ফ্লিনটফ, হারমিসন—সবার নজরকাড়া পারফরম্যান্সে টেস্ট ইতিহাসের অন্যতম সেরা অ্যাসেজ।
৩. ভারত (২) বনাম অস্ট্রেলিয়া (১), ২০০০-০১
ইডেনে ফলো-অন সত্ত্বেও জয়, লক্ষ্মণের ২৮১, দ্রাবিড়ের ১৮০, হরভজনের হ্যাটট্রিক সমেত ৭ উইকেট (৭-১২৩)। এরপর চেন্নাইয়ে ভাজ্জির ৮-৮৪, শচিনের শতরান। শেষপর্যন্ত ১৫৫ রান তাড়া করে সিরিজ জয়।
৪. ইংল্যান্ড (২) বনাম অস্ট্রেলিয়া (২), ২০২৩
বাজবলের জমানায় অসাধারণ প্রত্যাবর্তন। ০-২ পিছিয়ে থেকে ২-২ সমতা। বেয়ারস্টোর স্টাম্পিং ঘিরে বিতর্ক, স্টোকসের ১৫৫, ওভালে ব্রডের কেরিয়ারের শেষ ম্যাচে জয়। নাটক আর উত্তেজনায় ভরপুর রুদ্ধশ্বাস অ্যাসেজ।
৫. ইংল্যান্ড (২) বনাম ভারত (২), ২০২৫
নতুন ট্রফি—‘অ্যান্ডারসন-টেন্ডুলকর’। ভারত হারল হেডিংলিতে, জয় করল এজবাস্টন। লর্ডসে ২২ রানে পরাজিত হয়েও শেষ ইনিংসে অসাধারণ লড়াই, ওভালে দুর্দান্ত ফিনিশে সিরিজ সমতা। সফরজুড়ে মাঠে, মাঠের বাইরে তীব্র টেনশন।
৬. ইংল্যান্ড (০) বনাম শ্রীলঙ্কা (১), ২০১৪
মাত্র দুটি টেস্ট। প্রথমটা ড্র—শেষ বল পর্যন্ত লড়াই। দ্বিতীয় টেস্টে ৩৫০ রানের লক্ষ্যে নেমে মঈন আলির শতরান। অ্যান্ডারসন খেললেন ৫৪ বল। কিন্তু অন্তিম ডেলিভারিতে ক্যাচ তুললেন, হেরে গেল ইংল্যান্ড।
৭. বাংলাদেশ (০) বনাম ওয়েস্ট ইন্ডিজ (২), ২০২১
কাইল মেয়ার্সের অভিষেকেই ২১০ রানে অনবদ্য ইনিংস, ৩৯৫ রান তাড়া করে জয়। পরের টেস্টে রাহকিম কর্নওয়ালের ৯ উইকেট, ম্যাচ জিততে বাংলাদেশের ৬৮ রানের প্রয়োজন—কিন্তু শেষরক্ষা হয়নি।
৮. দক্ষিণ আফ্রিকা (১) বনাম অস্ট্রেলিয়া (১), ২০১১
কেপটাউনে একদিনে চার ইনিংস! অস্ট্রেলিয়া ২৮৪, দক্ষিণ আফ্রিকা ৯৬, অস্ট্রেলিয়া ফের ৪৭, এরপর হাশিম আমলা-গ্রেম স্মিথ জুটিতে ঐতিহাসিক জয়। জোহানেসবার্গে প্যাট কামিন্সের ৬ উইকেট ও ব্যাট হাতে স্মরণীয় ইনিংস।
৯. ভারত (২) বনাম অস্ট্রেলিয়া (১), ২০১৬-১৭
পুণেতে হারের পর বেঙ্গালুরুতে অশ্বিনের জাদুতে ম্যাচ পকেটে। রাঁচিতে পূজারা-ঋদ্ধিমানের শতরান। ধর্মশালায় জাদেজা-উমেশের দুরন্ত বোলিং। শেষ ম্যাচে জয়, সিরিজ ভারতের।
১০. দক্ষিণ আফ্রিকা (১) বনাম ইংল্যান্ড (২), ২০০৪-০৫
৪০ বছর পর দক্ষিণ আফ্রিকায় ঐতিহাসিক জয়। স্ট্রস, ট্রেস্কোথিক, হগার্ড—সবাই একসঙ্গে জ্বলে ওঠেন। শেষ টেস্টে ইংল্যান্ড প্রাণান্ত পরিশ্রমে ড্র ছিনিয়ে নেয়।
১১. ওয়েস্ট ইন্ডিজ (১) বনাম শ্রীলঙ্কা (১), ২০১৮
বল টেম্পারিং কাণ্ডে চণ্ডিমাল নির্বাসিত। গ্যাব্রিয়েলের ১৩ উইকেট, বৃষ্টির বাধা। তৃতীয় টেস্টে ৫০ রানের লিড নিয়েও ক্যারিবিয়ানরা ৯৩ রানে অল আউট। পেরেরা ভাইদের লম্বা পার্টনারশিপে টেস্ট জিতে নেয় শ্রীলঙ্কা।
১২. পাকিস্তান (১) বনাম নিউজিল্যান্ড (২), ২০১৮-১৯
আবু ধাবিতে আজহার আলি ৭ ওভার এক রানে কাটিয়ে দেন। ওটাই টার্নিং পয়েন্ট। পরের ম্যাচে ইয়াসির শাহের ১৪ উইকেট। তৃতীয় টেস্টে উইলিয়ামসন-নিকলসের শতরান, পাকিস্তান হেরে যায়।
১৩. অস্ট্রেলিয়া (০) বনাম নিউজিল্যান্ড (০), ২০০১-০২
অসাধারণ দুই ড্র। একটিতে নিউজিল্যান্ড ১৯৯ রানে পিছিয়ে থেকে ডিক্লেয়ার করে অস্ট্রেলিয়াকে চ্যালেঞ্জ ছুড়ে দেয়। অন্য ম্যাচে নিউজিল্যান্ড অস্ট্রেলিয়ার গড়া ৪৪০ রানের টার্গেট তাড়া করতে নেমে ৩৮১/৭ অবধি পৌঁছয়।
১৪. শ্রীলঙ্কা (০) বনাম অস্ট্রেলিয়া (৩), ২০০৪
হোয়াইটওয়াশ হলেও হাড্ডাহাড্ডি লড়াই। প্রতিটি ম্যাচেই শ্রীলঙ্কার প্রথম ইনিংসে লিড। তবু অস্ট্রেলিয়া তৃতীয় ইনিংসের দুরন্ত ব্যাটিংয়ের সৌজন্যে সিরিজ জিতে নেয়।
১৫. বাংলাদেশ (১) বনাম ইংল্যান্ড (১), ২০১৬
মিরপুরে মেহেদি হাসান মিরাজের অভিষেকেই ১২ উইকেট, সঙ্গতে সাকিব, তামিমের শতরান। দ্বিতীয় ইনিংসে ইংল্যান্ড বিনা উইকেটে ১০০ থেকে ১৬৪ রানে অল আউট। বাংলাদেশ টেস্ট জেতে। সিরিজ সমতায় শেষ হয়।