ট্রফি গুরুগ্রামে থাকুক। রেকর্ড থাকুক স্কোরবোর্ডে। কোহলির ফোকাস আপাতত একটাই—বিশ্বকাপ!

বিরাট কোহলি
শেষ আপডেট: 12 January 2026 11:12
দ্য ওয়াল ব্যুরো: ট্রফি জেতা তাঁর কাছে নতুন নয়। কেরিয়ারের শেষ পর্যায়ে পৌঁছে আর কোনও বাড়তি মাইলস্টোনও নয়। তবু সেরার স্বীকৃতি উজ্জীবিত রাখে। শ্লাঘনীয় সম্মান আরও কিছু ভাল করার, ভাল খেলার উচ্চাশা জোগায় নিশ্চিত!
বিরাট কোহলি কি এই তত্ত্বে বিশ্বাসী? হয়তো নয়! তা না হলে কেন নিজের অর্জিত ছোট-মেজ-বড় সমস্ত ট্রফি, স্মারক ঘরে সাজিয়ে রাখার বদলে গুরুগ্রামে, মায়ের কাছে পাঠিয়ে দেন তিনি? কেন এমন করেন ভারতের তারকা ব্যাটার? রবিবার নিউজিল্যান্ডের বিরুদ্ধে প্রথম ওয়ানডের পর নিজের যুক্তি একেবারে সোজাসাপটা ভাষায় তুলে ধরলেন কোহলি।
স্বপ্নের অভিযাত্রা
৩৭ বছর বয়সে আরও এক ইতিহাস। গতকাল কিউয়িদের বিরুদ্ধে আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে দ্রুততম ২৮ হাজার রান পূর্ণ করেন কোহলি। খেলেন ৬২৪তম ইনিংস। চার মেরে মাইলস্টোনে পৌঁছনোর মুহূর্তে পিছনে ফেললেন কুমার সাঙ্গাকারাকে (Kumar Sangakkara)। জোটে ম্যাচসেরার তকমা, কেরিয়ারের ৪৫তম বার।
কিন্তু এই সব সংখ্যার চেয়েও গুরুত্বপূর্ণ তাঁর বক্তব্য। কোহলি স্পষ্ট সুরে জানান, গোটা যাত্রাটাই ‘স্বপ্নের মতো’। কোনও নাটকীয়তা নেই। আবেগের বাড়াবাড়ি নেই। শুধু কৃতজ্ঞতা। তাঁর কথায়, নিজের ক্ষমতা বিষয়ে তিনি সবসময়ই ওয়াকিবহাল। কিন্তু আজ যেখানে পৌঁছেছেন, সেখানে পৌঁছতে পরিশ্রম করতে হয়েছে অনেক বেশি। ঈশ্বর তাঁকে অনেক কিছু দিয়েছেন। তাই অভিযোগ করার জায়গা নেই। কাছে সবচেয়ে বড় প্রাপ্তি—খেলার মাধ্যমে মানুষকে খুশি করতে পারা। হাসি ফোটাতে পারা।
মাইলস্টোন নয়, পরিস্থিতিই আসল
এই ইনিংসে ৯৩ রান। ৯১ বল। সেঞ্চুরি আসেনি। যদিও তাতে কোনও আক্ষেপ নেই। কোহলি পরিষ্কার করে দিলেন, এখন আর মাইলস্টোন মাথায় ঘোরে না। জানালেন, প্রথমে ব্যাট করলে হয়তো আরও আক্রমণাত্মক হতেন। কিন্তু রান তাড়া করতে গিয়ে পরিস্থিতি বুঝে খেলতে হয়েছে। উইকেট পড়ে গেলে দায়িত্ব নিতে হয়। তখন ‘বাকল ডাউন’করাটাই কাজ।
তিন নম্বরে ব্যাট করা মানে ঝুঁকি নেওয়া। কোহলির ভাষায়, ‘অনেক সময় বলের ‘নাম লেখা’থাকে। তাই শুধু অপেক্ষা করে লাভ নেই। নিজের শক্তিতে ভরসা করে শুরুতেই চাপ তৈরি করতে হয়। এই ম্যাচে সেটাই করে গিয়েছি!’
রোহিত শর্মার (Rohit Sharma) উইকেট পড়ার পর নামা। দ্রুত রান তুললেন। প্রতিপক্ষকে ব্যাকফুটে ঠেলে দিলেন। কোহলির মতে, সেটাই ম্যাচের টার্নিং পয়েন্ট।
ট্রফি কেন যায় মায়ের কাছে?
সহজ প্রশ্নের সবচেয়ে সরল উত্তর দিলেন কোহলি। ট্রফিগুলো কেন নিজের কাছে রাখেন না? হেসে বললেন, ‘মা ট্রফি রাখতে ভালোবাসে।’ তাই সব ট্রফি পাঠিয়ে দেন গুরুগ্রামে। কোনও বড় দর্শন নেই। কোনও ইমেজ-বিল্ডিং নেই। নিছক পারিবারিক পছন্দ। গ্যালারিতে নিজের নামে চিৎকার নিয়ে অবশ্য প্রচ্ছন্ন অস্বস্তিও স্বীকার করলেন। কেউ আউট হলে তাঁর নাম ধরে উল্লাস—এই দৃশ্য ভালো লাগে না। এমএস ধোনির (MS Dhoni) ক্ষেত্রেও এমন হয়েছে। কোহলি জানান, আউট হওয়া ব্যাটারের জন্য এটা সুখকর নয়। কিন্তু দর্শকদের আবেগ তিনি বোঝেন। তাই নিজের কাজে মন দেন। ম্যাচ শেষে ভারত অধিনায়ক শুভমান গিলের (Shubman Gill) মন্তব্যও তাৎপর্যপূর্ণ। তাঁর কথায়, এই মুহূর্তে কোহলি ব্যাটিং বিষয়টাকেই খুব সহজ করে তুলেছেন। এমন ফর্মে থাকলে দলের লাভ।
ট্রফি গুরুগ্রামে থাকুক। রেকর্ড থাকুক স্কোরবোর্ডে। কোহলির ফোকাস আপাতত একটাই—বিশ্বকাপ! সেই মঞ্চে খেলতে নামার লক্ষ্যেই ছুটে চলা। সাম্প্রতিক ফর্ম তুঙ্গে। রান করছেন হাসতে হাসতে, আসছে সেঞ্চুরি, বড় ইনিংস। এভাবে ধারাবাহিকতা দেখানোই তাঁর সবচেয়ে বড় শক্তি।