Date : 14th Apr, 2026 | Call 1800 452 567 | info@thewall.in
লক্ষ্য ২০২৯ লোকসভা ভোট, তড়িঘড়ি মহিলা সংরক্ষণ কার্যকরে মরিয়া মোদী! বাধা হয়ে দাঁড়াবে কি কংগ্রেস?Gold investment: যুদ্ধের বাজারে সোনার দাম কমছে! এটাই কি বিনিয়োগের সেরা সময়? কী বলছেন বিশেষজ্ঞরারহস্য আর মনের অন্ধকারে ঢুকে পড়ল ‘ফুল পিসি ও এডওয়ার্ড’! টিজারে চমকজিৎ-প্রযোজক দ্বন্দ্বে আটকে মুক্তি! ‘কেউ বলে বিপ্লবী, কেউ বলে ডাকাত’-এর মুক্তি বিশ বাঁও জলে?কিউআর কোড ছড়িয়ে হোয়াটসঅ্যাপ গ্রুপ! কীভাবে রাতারাতি নয়ডার বিক্ষোভের প্ল্যানিং হল, কারা দিল উস্কানি?নয়ডা বিক্ষোভ সামাল দিতে 'মাস্টারস্ট্রোক' যোগী সরকারের! শ্রমিকদের বেতন বাড়ল ৩ হাজার টাকা পর্যন্ত Jeet: ভুয়ো প্রচার! ভোট আবহে গায়ে রাজনীতির রঙ লাগতেই সরব জিৎ৪ হাজার থেকে নিমেষে ১ লক্ষ ৮৫ হাজার ফলোয়ার! এক স্পেলেই সোশ্যাল মিডিয়ার নতুন তারকা প্রফুল্লসামনে কাজল শেখ, মমতা কথা শুরু করতেই হাত নেড়ে বিরক্তি প্রকাশ অনুব্রতর! সিউড়িতে কী ঘটলEPL: নায়ক ওকাফর! ওল্ড ট্র্যাফোর্ডে ৪৫ বছরের অভিশাপ মুছল লিডস, রক্ষণের ভুলে ডুবল ম্যান ইউ

'আইসিসি টুর্নামেন্টে ভারত-পাক ম্যাচ বন্ধ করা উচিত', কেন এই দাবি প্রাক্তন ইংলিশ অধিনায়কের?

ভারত ও পাকিস্তানের মধ্যে ক্রিকেট সম্পূর্ণরূপে নিষিদ্ধ করার সময় এসেছে, কারণ খেলাটি উত্তেজনা এবং প্রচারের বাহন হয়ে উঠেছে।

'আইসিসি টুর্নামেন্টে ভারত-পাক ম্যাচ বন্ধ করা উচিত', কেন এই দাবি প্রাক্তন ইংলিশ অধিনায়কের?

মাইকেল আথারটন

সৌম্য বাগচী

শেষ আপডেট: 8 October 2025 20:22

দ্য ওয়াল ব্যুরো: এতদিন যা আড়ালে-আবডালে আলোচনা হতো, এবার তা সরাসরি বলে ফেললেন মাইকেল আথারটন। ইংল্যান্ডের এই প্রাক্তন অধিনায়ক আইসিসির বিরুদ্ধে গুরুতর অভিযোগ করে বলেছেন, আইসিসি আর্থিক লাভের জন্য ভারত ও পাকিস্তানের মধ্যে ম্যাচগুলি নিশ্চিত করার জন্য তাদের টুর্নামেন্টগুলিতে পদ্ধতিগতভাবে ড্রয়ের ব্যবস্থা করে।

দ্য টাইমসের একটি কলামে আথারটন যুক্তি দিয়ে বলেছেন, ভারত-পাকিস্তান ম্যাচ অর্থনৈতিক প্রয়োজন এবং বাণিজ্যিক স্বার্থ দ্বারা চালিত হয়েছে। তিনি এমনকি পরামর্শ দিয়েছেন, ভারত ও পাকিস্তানের মধ্যে ক্রিকেট সম্পূর্ণরূপে নিষিদ্ধ করার সময় এসেছে, কারণ খেলাটি উত্তেজনা এবং প্রচারের বাহন হয়ে উঠেছে।

আথারটন তারঁ প্রবন্ধে সাম্প্রতিক এশিয়া কাপ বিতর্কের কথাও উল্লেখ করেছেন। তিনি লিখেছেন, টুর্নামেন্ট চলাকালীন ভারতীয় খেলোয়াড়রা পাকিস্তানি খেলোয়াড়দের সঙ্গে করমর্দন করতে অস্বীকৃতি জানিয়েছিলেন। সেই সঙ্গে তিনি উল্লেখ করেছেন, ভারত চ্যাম্পিয়ন হওয়ার পর এসিসি প্রধান এবং পাকিস্তানের মন্ত্রী মহসিন নকভি ট্রফিটি নিয়ে চলে গিয়েছিলেন, কারণ ভারতীয় দল তাঁর কাছ থেকে ট্রফিটি গ্রহণ করতে অস্বীকার করেছিল। তিনি এই ঘটনাটিকে উদাহরণ হিসেবে উল্লেখ করে বোঝাতে চেয়েছেন যে, ক্রিকেট কীভাবে কূটনীতি নয়, বরং দ্বন্দ্ব এবং বিভাজনের বাহন হয়ে উঠেছে।

আথারটন প্রকাশ করেছেন, ২০১৩ সাল থেকে প্রতিটি আইসিসি টুর্নামেন্টের গ্রুপ পর্বে ভারত ও পাকিস্তান একে অপরের মুখোমুখি হয়েছে। তিনি বলেন, "রাউন্ড-রবিন ফরম্যাট হোক বা গ্রুপ পর্ব, তাতে কিছু যায় আসে না, প্রতিবারই ড্র এমনভাবে করা হয় যাতে ভারত-পাকিস্তান ম্যাচ অনিবার্য হয়।" তিনি আরও যোগ করেছেন, দুটি দল তিনটি ৫০ ওভারের বিশ্বকাপ, পাঁচটি টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ এবং তিনটি চ্যাম্পিয়ন্স ট্রফিতে একে অপরের মুখোমুখি হয়েছে, যা দেখায় যে, এটি কেবল কাকতালীয় ঘটনা নয়, বরং একটি সুপরিকল্পিত ব্যবস্থা।

আথারটন তাঁর প্রবন্ধে আরও বলেছেন, ভারত-পাকিস্তান ম্যাচগুলি আইসিসি টুর্নামেন্টের সম্প্রচার স্বত্ত্বের দাম আকাশছোঁয়া করে দিচ্ছে। তিনি লিখেছেন, "কম দ্বিপাক্ষিক ম্যাচের সঙ্গে সঙ্গে এই ম্যাচগুলি আর্থিকভাবে গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে। এই কারণেই ২০২৩-২৭ চক্রের সম্প্রচার স্বত্ত্ব প্রায় ৩ বিলিয়ন ডলারে বিক্রি হয়েছে।" তিনি আরও বলেন, দ্বিপাক্ষিক সিরিজের আকর্ষণ হ্রাস পাওয়ার সঙ্গে সঙ্গে আইসিসি টুর্নামেন্টের গুরুত্ব বৃদ্ধি পায়, ভারত-পাকিস্তান ম্যাচগুলি বিজ্ঞাপনদাতা এবং দর্শকদের জন্য সবচেয়ে বড় আকর্ষণ হয়ে ওঠে।

এখানেই থামেননি ইংল্যান্ডের প্রাক্তন অধিনায়ক। তিনি বলেন, আইসিসি টুর্নামেন্টে ভারত ও পাকিস্তানের মধ্যে কমপক্ষে একটি ম্যাচের সময়সূচী নির্ধারণের কৌশলটি শেষ করার সময় এসেছে। তিনি এশিয়া কাপের উদাহরণ তুলে ধরেন, যেখানে ড্র এবং সময়সূচী এমনভাবে তৈরি করা হয়েছিল যাতে প্রতি রবিবার দুটি দল মুখোমুখি হয়, দর্শক সংখ্যা এবং বিজ্ঞাপনের আয় সর্বাধিক হয়।

তিনি বলেন, "একটি গুরুতর খেলার জন্য এটি লজ্জাজনক যে, টুর্নামেন্ট কাঠামো অর্থনৈতিক চাহিদার উপর নির্ভরশীল। ক্রিকেট যদি একসময় কূটনীতির হাতিয়ার ছিল, তবে এখন এটি উত্তেজনা এবং প্রচারের হাতিয়ার হয়ে উঠেছে।"

পাহেলগামে সাম্প্রতিক সন্ত্রাসী হামলার পর দুই দেশের মধ্যে উত্তেজনা আবারও চরমে পৌঁছেছে। পাকিস্তান-সমর্থিত সন্ত্রাসীরা ২৬ জন ভারতীয়কে হত্যা করার পর ভারত সামরিক পদক্ষেপ নেয়। আথারটন বলেন, এই ধরনের পরিবেশে, ক্রিকেট ম্যাচগুলি কেবল সেই উত্তেজনার বাণিজ্যিক শোষণে পরিণত হয়েছে। তিনি লিখেছেন, "আইসিসি ইচ্ছাকৃতভাবে উত্তেজনা, দর্শক সংখ্যা এবং রাজস্ব বৃদ্ধির জন্য দুটি দেশকে একত্রিত করে।"

২০০৮ সালের মুম্বাই সন্ত্রাসী হামলার পর থেকে ভারত ও পাকিস্তানের মধ্যে কোনও দ্বিপাক্ষিক ক্রিকেট সিরিজ হয়নি। ভারত সরকার সম্প্রতি একটি নীতি চালু করেছে, যেখানে বলা হয়েছে, দুই দেশের মধ্যে সিরিজ খেলা হবে না, এমনকি নিরপেক্ষ ভেন্যুতেও নয়, যদিও অলিম্পিক্স বা বহুদলীয় টুর্নামেন্টে এই নিষেধাজ্ঞা বলবৎ থাকবে না। আথারটন বলেন, ক্রিকেট এখন রাজনীতি এবং ব্যবসার হাতিয়ারে পরিণত হয়েছে। তিনি লিখেছেন, "একটা সময় ছিল যখন ক্রিকেট দুই দেশের মধ্যে যোগাযোগের মাধ্যম ছিল, কিন্তু এখন এটি নীরবতায় পরিণত হয়েছে।"

আথারটন দাবি করেছেন, আইসিসি যেন পরবর্তী সম্প্রচার অধিকার চক্রের জন্য সম্পূর্ণ স্বচ্ছভাবে ড্র পরিচালনা করে। তিনি বলেন, "যদি ভারত ও পাকিস্তান প্রতিটি টুর্নামেন্টে একে অপরের মুখোমুখি না হয়, তাহলে ঠিক আছে। ক্রিকেটকে একটি খেলা হিসাবেই রাখা হোক, ব্যবসা নয়।" 


```