এত কিছুর পরও নাজমুল ইসলাম নিজের বক্তব্যে অনড়। তাঁর দাবি, ‘দেশের স্বার্থের প্রশ্নে আমি চুপ থাকতে পারিনি।’ ফলে বিতর্ক আপাতত থামার কোনও লক্ষণ নেই।

তামিম ও নাজমুল
শেষ আপডেট: 13 January 2026 17:10
দ্য ওয়াল ব্যুরো: বাংলাদেশের ক্রিকেটে তীব্র বিতর্ক। প্রাক্তন অধিনায়ক তামিম ইকবালকে (Tamim Iqbal) ‘পরীক্ষিত ভারতীয় দালাল’ বলে কটাক্ষ করে আগুনে ঘি ঢেলেছিলেন বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ডের (Bangladesh Cricket Board) অন্যতম কর্তা এম. নাজমুল ইসলাম (M. Najmul Islam)। সেই মন্তব্য ঘিরে দেশজুড়ে সমালোচনার ঝড় উঠলেও নিজের অবস্থান থেকে একচুল সরলেন না নাজমুল। বরং স্পষ্ট ভাষায় জানালেন—তিনি যা বলেছেন, তা ব্যক্তিগত বিশ্বাস থেকে। কোনও নড়চড় হবে না।
'টাকা আগে, দেশ পরে’—নাজমুলের ব্যাখ্যা
স্পোর্টস২৪-কে দেওয়া সাক্ষাৎকারে নাজমুল ইসলাম বলেন, ‘ওটা ছিল আমার ব্যক্তিগত পোস্ট। আমি ভাবিনি তা ভাইরাল হবে। কে স্ক্রিনশট ছড়িয়ে দিল, জানি না। কিন্তু আমি যেটা লিখেছি, সেটা আমার নিজের মতামত।’
তাঁর বক্তব্যের কেন্দ্রে রয়েছে একটি অভিযোগ—জাতীয় স্বার্থের বদলে আর্থিক দিককে প্রাধান্য দেওয়া। নাজমুলের কথায়, ‘এই পরিস্থিতিতে আমরা দেশের কথা না ভেবে টাকার কথা ভাবছি। এটা আমার ভালো লাগেনি।’ পাশাপাশি জানান, তামিম ইকবালের মন্তব্য তাঁর কাছে ভারতের অবস্থানের সঙ্গে সাযুজ্যপূর্ণ মনে হয়েছে। ‘আমি তামিমের বিরোধিতা করছি না ব্যক্তিগত কারণে। ওর জায়গায় অন্য কেউ থাকলেও আমি একই কথা বলতাম।’যোগ করেন নাজমুল।
আইসিসি, বিশ্বকাপ ও বিতর্কের সূত্রপাত
এই বিতর্কের সূত্রপাত রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে। সাম্প্রতিক সময়ে ভারত ও বাংলাদেশের মধ্যে রাজনৈতিক টানাপড়েনের আবহে বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ড (Bangladesh Cricket Board) আইসিসি-র (International Cricket Council) কাছে অনুরোধ জানায়, টি-২০ বিশ্বকাপ ২০২৬-এর (T20 World Cup 2026) ম্যাচগুলো ভারত থেকে সরিয়ে শ্রীলঙ্কায় আয়োজন করা হোক।
সিদ্ধান্তের আর্থিক ও দীর্ঘমেয়াদি প্রভাব নিয়ে প্রশ্ন তোলেন তামিম ইকবাল। তাঁর মতে, এমন সিদ্ধান্ত ভবিষ্যতে বাংলাদেশের ক্রিকেটের জন্য ক্ষতিকর। কিন্তু সেই মন্তব্যকেই ‘ভারতের প্রোপাগান্ডা’বলে ব্যাখ্যা করেন নাজমুল ইসলাম। যা প্রতফলিত হয় সোশ্যাল মিডিয়ায়। লেখেন সেই বিতর্কিত পোস্ট—যেখানে তামিমকে ‘ভারতের পরীক্ষিত দালাল’ বলে উল্লেখ করা হয়। মুহূর্তের মধ্যে তা ভাইরাল হয়ে যায়।
ক্রিকেট মহলের ক্ষোভ ও নাজমুলের অনড় অবস্থান
নাজমুলের মন্তব্যে ক্ষুব্ধ হন বাংলাদেশের বর্তমান ও প্রাক্তন ক্রিকেটারদের বড় অংশ। তাসকিন আহমেদ (Taskin Ahmed), মমিনুল হক (Mominul Haque), তাইজুল ইসলাম (Taijul Islam)-সহ একাধিক ক্রিকেটার প্রকাশ্যে অসন্তোষ জানান। কড়া বিবৃতি দেয় ক্রিকেটার্স ওয়েলফেয়ার অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশ (Cricketers’ Welfare Association of Bangladesh)। বলা হয়, ‘১৬ বছর ধরে দেশের হয়ে খেলা বাংলাদেশের সর্বকালের অন্যতম সফল ওপেনার সম্পর্কে এমন মন্তব্য শুধু নিন্দনীয় নয়, গোটা ক্রিকেট সমাজের জন্য অপমানজনক।’
তবে এত কিছুর পরও নাজমুল ইসলাম নিজের বক্তব্যে অনড়। তাঁর দাবি, ‘দেশের স্বার্থের প্রশ্নে আমি চুপ থাকতে পারিনি।’ ফলে বিতর্ক আপাতত থামার কোনও লক্ষণ নেই। বাংলাদেশের ক্রিকেটে এই সংঘাত শুধু একজন প্রাক্তন অধিনায়কের সম্মান নয়, বোর্ডের ভেতরের মতাদর্শিক বিভাজনও স্পষ্ট করে দিল।