রিপোর্টে থর্পের যত্নে বেশ কিছু ব্যর্থতার ইঙ্গিত মিলেছে। কয়েকটি কাউন্সিলিং অ্যাপয়েন্টমেন্ট তিনি মিস করেন। গত বছর মার্চের পর থেকে আর কোনও ক্লিনিশিয়ান দেখাননি।

গ্রাফিক্স: দিব্যেন্দু দাস
শেষ আপডেট: 1 August 2025 16:52
দ্য ওয়াল ব্যুরো: আজ ওভাল টেস্টের (Oval Test) দ্বিতীয় দিন। আর পঞ্চম টেস্টের গুরুত্বপূর্ণ সেশনে মাঠে নামা ইংরেজ ক্রিকেটারদের মাথায় দেখা গেল সাদা হেয়ারব্যান্ড (White Hairband)। যার আড়ালে রয়েছে ইংল্যান্ডের প্রাক্তন ক্রিকেটার গ্রাহাম থর্পের (Graham Thorpe) অকালমৃত্যু।
অবসাদের শিকার হয়ে তিনি গত বছর ৪ অগস্ট, আত্মহত্যা করেন। যখনই মাঠে নেমেছেন, মাথায় শোভা পেয়েছে সাদা হেয়ারব্যান্ড। আজ তাঁর জন্মদিন। তাই মানসিক স্বাস্থ্য নিয়ে সচেতনতা (Mental Awareness) ছড়িয়ে দিতে প্রাক্তন ক্রিকেটারকে স্মরণে রেখে ইংল্যান্ডের ক্রিকেটাররা আইকনিক হেয়ারব্যান্ড মাথায় বেঁধে মাঠে নামেন। আজ দিনের শুরুতে মাঠে আসা দর্শকরাও খেলোয়াড়দের সঙ্গে যোগ দেন। অনেকের মাথায় শোভা পাচ্ছিল থর্পের স্টাইল স্টেটমেন্ট হয়ে ওঠা হেয়ারব্যান্ড।
বস্তুত, মৃত্যুর অনেক আগে থেকেই থর্পের মানসিক অস্থিরতার শুরু। ২০১৮ সালে প্রথমবার উদ্বেগ আর বিষণ্নতার ইঙ্গিত দেন। কোভিড-পরবর্তী সময়ে তা আরও বেড়ে যায়। স্ত্রীকে একসময় বলেছিলেন, ‘আমি আর বাঁচতে চাই না। তুমি কি আমায় এই জীবন থেকে মুক্তি দিতে পারো?’ এমনকি সুইজারল্যান্ডে ‘অ্যাসিস্টেড ডেথে’র কথাও ভাবছিলেন তিনি।
২০২২ সালে ইংল্যান্ডের ব্যাটিং কোচের দায়িত্ব হারানোর পর থর্পের অবস্থা আরও খারাপ হতে থাকে। ওই বছরই আত্মহত্যার চেষ্টা করেন। তিন সপ্তাহ অচেতন অবস্থায় হাসপাতালে ছিলেন। পরে বাড়িতে পর্যবেক্ষণে রাখা হয়।
যদিও রিপোর্টে থর্পের যত্নে বেশ কিছু ব্যর্থতার ইঙ্গিত মিলেছে। কয়েকটি কাউন্সিলিং অ্যাপয়েন্টমেন্ট তিনি মিস করেন। গত বছর মার্চের পর থেকে আর কোনও ক্লিনিশিয়ান দেখাননি। জুন মাসে একটি জরুরি সেশন এড়িয়ে যান। যদিও চিকিৎসা ব্যর্থতার জন্যই তিনি আত্মহত্যা করেছেন—এমন উল্লেখ রিপোর্টে নেই।
গ্রাহাম থর্প জন্মেছিলেন ১৯৬৯ সালের ১ আগস্ট। বাঁ-হাতি ব্যাটসম্যান। ১৯৯৩ সালে অ্যাসেজ সিরিজে অভিষেকেই শতরান। পরবর্তী এক দশক ইংল্যান্ড ব্যাটিংয়ের ভরসা। ১০০ টেস্টে ৬৭৪৪ রান, গড় ৪৪.৬৬। ১৬টি সেঞ্চুরি। ওয়ান-ডে-তে ৮২ ম্যাচ, ২৩৯৪ রান।
অবসরের পরও ক্রিকেট ছাড়েননি। ইংল্যান্ডের ব্যাটিং কোচ হিসেবে কাজ করেছেন। ২০১৯ বিশ্বকাপজয়ী ইংল্যান্ড দলের ব্যাকরুম স্টাফ টিমে জায়গা পান। কোচিংয়ে তাঁর অবদান নীরব হলেও গুরুত্বপূর্ণ।
থর্পের মৃত্যুর পর ক্রিকেটজগত শোকাহত। চলতি ইংল্যান্ড-ভারত সিরিজে তাঁর স্মরণে পালিত হয় ‘ডে ফর থর্পি’। তাঁর নামে চালু হয় মানসিক স্বাস্থ্য সচেতনতা প্রকল্প: ‘থর্পিস ব্যাট অ্যান্ড চ্যাট’ (‘Thorpey’s Bat and Chat’)।
মাঠে যিনি স্থিতধী, রক্ষণে দৃঢ়, তিনিই সবার আড়ালে ভেঙে পড়েন। থর্পের অকালমৃত্যু আবারও বুঝিয়ে দেয়—মানসিক স্বাস্থ্য এড়িয়ে যাওয়া ঠিক কতটা বিপজ্জবক। আর এই সচেতনতারই নজির ফুটে উঠল আজ, ওভালের ময়দানে।