মাঠের তর্কাতর্কি, ঝামেলা-অশান্তির ঘটনা যে দুই শিবিরের কেউ মনে রাখতে চান না, বুঝিয়ে দিয়েছেন ওকস। ‘দ্য গার্ডিয়ান’কে দেওয়া সাক্ষাৎকারে জানিয়েছেন ঋষভ পন্থের পাঠানো ভয়েস নোটের কথা।

গ্রাফিক্স: দিব্যেন্দু দাস
শেষ আপডেট: 7 August 2025 16:33
দ্য ওয়াল ব্যুরো: তাঁরা দুজনেই দল-অন্ত-প্রাণ। কিন্তু আদ্যন্ত পেশাদার। জানেন, বোঝেন মাঠের লড়াই মাঠেই খতম। যতই স্লেজিং চলুক, কথার পিঠে কথা বাড়ুক, সবই ক্ষণস্থায়ী। কখনও একদিন, বড়জোড় কয়েক দিনের মামলা। এর বাইরে বিরাট, ব্যাপক জীবন পড়ে, যেখানে বৈরিতা নয় ফুটে ওঠে বন্ধুত্ব, সংঘাত নয় দেখা দেয় মৈত্রী!
ঋষভ পন্থ, ক্রিস ওকস—সদ্যসমাপ্ত আন্ডারসন-তেন্ডুলকর সিরিজের দুই শিবিরের দুই যোদ্ধা এই সহজ সত্যিটা জানেন। তাই সিরিজের পালা সাঙ্গ হতেই একে অন্যের দিকে বাড়িয়ে দিয়েছেন বন্ধুত্বের হাত। শেয়ার করেছেন ব্যক্তিগত কথোপকথন।
মাঠের তর্কাতর্কি, ঝামেলা-অশান্তির ঘটনা যে দুই শিবিরের কেউ মনে রাখতে চান না, বুঝিয়ে দিয়েছেন ওকস। ‘দ্য গার্ডিয়ান’কে দেওয়া সাক্ষাৎকারে জানিয়েছেন ঋষভ পন্থের পাঠানো ভয়েস নোটের কথা। বলেছেন, ‘দেখলাম পন্থ তাঁর ইনস্টাগ্রাম স্টোরিতে আমার ছবি ও তার তলায় স্যালুটের ইমোজি দিয়েছে। তাই দেখে আমি রিপ্লাই দিই, ‘ভালবাসার জন্য ধন্যবাদ। আশা করি, পা ঠিক আছে।’’ এরপর ঋষভ কী করেন? ওকসের কথায়, ‘ও জবাবে আমায় একটি ভয়েস নোট পাঠায়। যেখানে ও বলেছে, ‘আশা করি, সব ঠিক আছে। জলদি সুস্থ হয়ে ওঠো। নিশ্চয় কোনও না কোনও দিন আমাদের ফের দেখা হবে!’
ম্যাঞ্চেস্টার টেস্টে পায়ে মারাত্মক চোট পান ঋষভ। বল করছিলেন ওকস। তাঁর একটি ইয়র্কার রিভার্স সুইপ করতে গিয়ে ব্যাট ফসকে পায়ের পাতায় লাগে। যন্ত্রণায় ছটফট করতে থাকেন পন্থ। মারাত্মক গাড়ি দুর্ঘটনার দুঃস্বপ্ন পেরিয়ে আবার মাঠে ফিরে এসেছেন। তাঁকে মাটিতে শুয়ে কাতরাতে দেখে ছুটে আসেন ফিজিওরা। স্ক্যান করার পর জানা যায়, পায়ের মেটাটারসাল হারে চিড় ধরেছে, অপারেশন করতে হতে পারে!
যদিও সবার সংশয়, পরামর্শ উপেক্ষা করে পরদিন উইকেট পড়তেই মাঠে নামেন ঋষভ। খাতায় ১৭ রান যোগ করে আউট হলেও তারই মধ্যে সেরে ফেলেন হাফসেঞ্চুরি। দ্বিতীয় ইনিংসে রবীন্দ্র জাদেজা-ওয়াশিংটন সুন্দরের জুটি ড্র নিশ্চিত করায় ঋষভকে আর খেলতে হয়নি।
ম্যাঞ্চেস্টার টেস্ট উত্তেজনার আবহে অমীমাংসিতভাবে শেষ হলেও পন্থের যুদ্ধ, তাঁর অদম্য মানসিক শক্তি নিয়ে এখনও চর্চা চলছে।
তাৎপর্যপূর্ণভাবে, যে বোলারের ডেলিভারিতে তিনি চোট পান, সেই ক্রিস ওকসও পরের টেস্টে আহত হন। ফিল্ডিং করতে গিয়ে পা পিছলে পড়ে যান, কাঁধের হাড় যায় সরে। প্রথম ইনিংসে বল করেননি, ব্যাটও না। দ্বিতীয় ইনিংসে বোলিং না করলেও ইংল্যান্ড যখন পরাজয়ের কিনারে দাঁড়িয়ে, তখন ভাঙা হাতে স্লিং জড়িয়ে তা সোয়েটারের মধ্যে পুরে ওকসকে মাঠে নামতে দেখা যায়। উইকেটের উল্টোপ্রান্তে দাঁড়ানো গাস অ্যাটকিনসন তাঁকে আগলে স্ট্রাইক নিজের দখলে রাখলেও শেষমেশ কাজের কাজ হয়নি। সাত রানে ওভাল টেস্ট জিতেছে ভারত, সিরিজ শেষ হয়েছে সমতায়।