Date : 14th Apr, 2026 | Call 1800 452 567 | info@thewall.in
TB Vaccine: যক্ষ্মা প্রতিরোধে কতটা সফল নতুন টিকা? ট্রায়ালের রিপোর্টে আশার আলোর পাশাপাশি উদ্বেগের সুর বিজ্ঞানীদের'বাঙালি ব্রিটিশদের সামনে মাথা নত করেনি, আর এই বহিরাগতরা আমাদের কী করবে?' বিজেপিকে তোপ অভিষেকেরসাইলেন্ট লাং ডিজিজ: কাশি মানেই কি ক্যানসার? দূষণে ফুঁসছে ফুসফুস, কখন দরকার ট্রান্সপ্লান্ট?'ইগো সরিয়ে রাখুন', নিজেদের মধ্যে মতভেদ সরিয়ে এক হয়ে লড়ার নির্দেশ অভিষেকেরভাইরাল ভিডিও হাতিয়ার করে শাহের তোপ! হুমায়ুনকে ‘দিদির এজেন্ট’ বলে কটাক্ষ স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীরগরমে মেজাজ হারালেন কর্মীরা! চুঁচুড়ায় নিজের দলের লোকেদেরই বিক্ষোভের মুখে দেবাংশুবার্নল-বোরোলিন বিতর্ক, ‘লুম্পেনদের’ হুঁশিয়ারি দিয়ে বিপাকে ডিইও, কমিশনকে কড়া চিঠি ডেরেক ও’ব্রায়েনেরভাঁড়ে মা ভবানী! ঘটা করে বৈঠক ডেকে সেরেনা হোটেলের বিলই মেটাতে পারল না 'শান্তি দূত' পাকিস্তানসরকারি গাড়ির চালককে ছুটি দিয়ে রাইটার্স থেকে হাঁটা দিলেন মন্ত্রীছত্তীসগড়ে পাওয়ার প্ল্যান্টে ভয়ঙ্কর বিস্ফোরণ! মৃত অন্তত ৯, ধ্বংসস্তূপের নীচে অনেকের আটকে পড়ার আশঙ্কা

‘ঈশ্বরকে ধন্যবাদ, আমায় ৯০ মাইলের বাউন্সার খেলতে হয়নি!’ বীরগাথার আড়ালের গল্প শোনালেন ওকস

মাঠে নামার সময় দর্শকদের অভিবাদন যেমন তাঁকে ছুঁয়ে গিয়েছে, তেমনই ভারতের কয়েকজন ক্রিকেটারের সম্মানে আপ্লুত ওকস। যদিও তিনি এই নিয়ে খুব একটা বাহবা পেতে নারাজ।

‘ঈশ্বরকে ধন্যবাদ, আমায় ৯০ মাইলের বাউন্সার খেলতে হয়নি!’ বীরগাথার আড়ালের গল্প শোনালেন ওকস

ক্রিস ওকস

রূপক মিশ্র

শেষ আপডেট: 7 August 2025 10:44

দ্য ওয়াল ব্যুরো: ম্যাঞ্চেস্টারে বীরত্বের নজির দেখিয়েছিলেন ঋষভ পন্থ (Rishabh Pant)। পায়ের পাতার হাড় সরে গিয়েছে, চিকিৎসকরা অপারেশনের পরামর্শ দিচ্ছেন, বিশ্রাম অবশ্যই জরুরি—এই অবস্থায় দলের কথা ভেবে সবাইকে হতচকিত করে খোঁড়াতে খোঁড়াতে প্রথম ইনিংসে ব্যাট হাতে নামতে দেখা যায় ভারতের উইকেটকিপারকে।

ক্রিস ওকস (Chris Woaks) যেন তাকেও ছাপিয়ে গিয়েছেন। সিরিজ হাতের মুঠোয় করতে হলে ওভালে (Oval Test) ড্র করতেই হত। এদিকে দলের ন’উইকেট পড়ে গিয়েছে। তিনি মাঠে না নামতে ভারত টেস্ট জিতে যাবে, সেই সঙ্গে সিরিজও অমীমাংসিতভাবে শেষ হবে!

এটা হতে দিতে চাননি ক্রিস ওকস। ইংরেজ বোলার প্রথম ইনিংসে বাউন্ডারির ধারে ফিল্ডিংয়ের সময় মাটিতে পড়ে চোট পান। আঘাত এতটাই গুরুতর ছিল যে, কাঁধের হাড় পর্যন্ত সরে যায়। যন্ত্রণায় কাতরাতে থাকেন। জলদি মাঠের বাইরে নিয়ে যাওয়া হয়। তারপর বল করেননি, প্রথম ইনিংসে ব্যাট হাতেও ময়দানে নামেননি। কিন্তু লড়াইয়ের অন্তিম প্রহরে গুটিয়ে না থেকে লড়াই অসম্ভব জেনেও সাজঘরে ছেড়ে বেরিয়ে পড়েন!

ওকসকে অবশ্য সিরাজ, প্রসিদ্ধদের খেলতে হয়নি। কিন্তু রান নেওয়ার সময় দৌড়েছেন। আর তাতেই ব্যথায় চোখ-মুখ কুঁকড়ে গিয়েছে। টিভির পর্দায় এই দৃশ্য দেখে অনেকেই শিউরে উঠেছেন আর ভেবেছেন যদি পেসারদের মুখে পড়তে হয়, তখন কী করবেন ওকস? যিনি ঠিকভাবে হাঁটতে পর্যন্ত পারছেন না, হাত স্লিংয়ে জড়ানো। সেটাও সোয়েটারের ভেতর রাখা… তিনি একহাতে পারবেন বোলারদের সামনে দাঁড়াতে?

এই আতঙ্ক শুধু দর্শকদের নয়, তাড়া করেছিল ওকসকেও। ওভাল টেস্ট বাঁচাতে পারেননি তিনি। মহম্মদ সিরাজের অনবদ্য পারফরম্যান্সে ম্যাচ জিতে নিয়েছে ভারত। শেষ দিন দরকার ছিল ৪ উইকেট। তার মধ্যে তিনটিই সিরাজের। কিন্তু পরাজয় সত্ত্বেও ওকসের সাহসিকতা দিকে দিকে প্রশংসিত হচ্ছে।

সিরিজের পালা সাঙ্গ হতে এবার সেদিনের অভিজ্ঞতা ও অনুভূতি শেয়ার করেছেন ইংল্যান্ডের পেসার। কাঁধে স্লিং, মুখে যন্ত্রণা আর দৌড়নোর সময় নাকাল হয়ে যাওয়া শরীর—এমন ছবি অনেকদিন মনে রাখবে ক্রিকেট দুনিয়া। এই নিয়েই ‘দ্য গার্ডিয়ান’-কে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে ওকস বলেন, ‘আমি এখনও হতাশ। মন খারাপ। কারণ আমরা একটুর জন্য পারলাম না। তবে সেদিন নামার আগে একবারও ভাবিনি। ৩৫ রান হোক, কিংবা ১০০—ঠিক করেই রেখেছিলাম, দলের জন্য আমায় মাঠে যেতেই হবে!’

মাঠে নামার সময় দর্শকদের অভিবাদন যেমন তাঁকে ছুঁয়ে গিয়েছে, তেমনই ভারতের কয়েকজন ক্রিকেটারের সম্মানে আপ্লুত ওকস। যদিও তিনি এই নিয়ে খুব একটা বাহবা পেতে নারাজ। বলেছেন, ‘অন্য যে কোনও ক্রিকেটার হলে এমনটাই করত। আপনি তো ৯ উইকেটে খেলা ছেড়ে দিতে পারেন না!’

কোনও বল না খেললেও দৌড়নোর সময়ও শরীর যে কী অবস্থা ছিল, সে কাহিনি নিজেই বলেছেন তিনি। ওকসের কথায়, ‘প্রথম রানটাই ছিল সবচেয়ে কষ্টের। শুধু কোডিন খেয়েছিলাম আর তাতেই পুরো শরীর যন্ত্রণায় বিদ্ধ হচ্ছিল। স্বাভাবিকভাবে দৌড়নোর চেষ্টা করতেই কষ্ট বাড়ল। মনে হল আবার বুঝি কাঁধ সরে গেল। তাই থাকতে না পেরে আমি হেলমেট ছুড়ে ফেলি, দাঁতে দাঁত চেপে গ্লাভস খুলি আর কাঁধ ঠিক আছে কি না দেখে নিই!’

সিরাজের ইয়র্কার বা বাউন্সারের মুখে পড়তে না হলেও ওকস কি একেবারেই চাননি একহাতে অন্তত একবার ক্রিজের উল্টোদিকে ব্যাট হাতে দাঁড়াতে? জবাবে তাঁর উত্তর, ‘শেষের অনুভূতিটা ছিল সুখ-দুঃখে মেশানো। মনের একটা দিক বলছিল, খেলাই যাক একটা বল! যদি ডিফেন্স করতে কিংবা দৌড়ে রান নিতে পারি। অথবা কোনওভাবে খোঁচা একটা চার চলে আসে!’

এটা তো ময়দানের যোদ্ধা ওকসের মনে হওয়া! কিন্তু মনের যেখানে ভীরু ওকসের বাস, তিনি বলে ওঠেন, ‘ঈশ্বরকে ধন্যবাদ আমায় একহাতে, আহত অবস্থায় ঘণ্টায় ৯০ মাইল বেগে ছুটে আসা বাউন্সারের মুখে পড়তে হয়নি!’


```