সেই সময় অধিনায়ক পদে ছিলেন রোহিত শর্মা। তিনি মুখে কিছু না বললেও, ফরমান যে মনঃপূত হয়নি, সেটা সাংবাদিক সম্মেলনে একাধিক অভিব্যক্তি ও ইঙ্গিতে বুঝিয়ে দেন।

গৌতম গম্ভীর
শেষ আপডেট: 11 July 2025 11:44
দ্য ওয়াল ব্যুরো: ক্রিকেটাররা বিদেশ সফরে যান খেলতে, ছুটি কাটাতে নয়। দেশের প্রতিনিধিত্ব করা সকলের দায়িত্ব এবং বেশ বড় দায়িত্ব। সেটা মনে রাখা উচিত।
এই ভাষাতেই বিসিসিআইয়ের লাগু করা পরিবার-নীতির পাশে দাঁড়ালেন টিম ইন্ডিয়ার হেড কোচ গৌতম গম্ভীর। অস্ট্রেলিয়ায় বর্ডার-গাভাসকার ট্রফিতে ধরাশায়ী হওয়ার পর ভারতীয় বোর্ড দশ দফা ফরমান জারি করে। যেখানে বলা হয়, টিম যদি ৪৫ দিন বা তার বেশি সময়ের ট্যুরে যায়, তখন পরিবার-পরিজন সর্বাধিক ১৪ দিন কোনও খেলোয়াড়ের সঙ্গে থাকতে পারবে। সফর কম সময়ের হলে থাকার মেয়াদ কেটেছেঁটে দাঁড়াবে সাত দিন।
এই আদেশনামা নিয়ে পক্ষে-বিপক্ষে বিতর্কের ঢেউ ওঠে। সেই সময় অধিনায়ক পদে ছিলেন রোহিত শর্মা। তিনি মুখে কিছু না বললেও, ফরমান যে মনঃপূত হয়নি, সেটা সাংবাদিক সম্মেলনে একাধিক অভিব্যক্তি ও ইঙ্গিতে বুঝিয়ে দেন। মুখ খোলেন বিরাট কোহলি। পরিবার-নীতিকে একহাত নিয়ে জানান, তিনি অফ ফর্ম চলাকালীন ড্রেসিং রুমে বসে একা একা অবসাদে ভুগতে রাজি নন। তার চেয়ে পরিবারের পাশে থাকা শ্রেয় বলেই মনে করেন।
এই ইস্যু এতদিন ধামাচাপা থাকলেও গতকাল চেতেশ্বর পূজারাকে দেওয়া একটি সাক্ষাৎকারে কোচ গম্ভীর তা ফের সামনে এনেছেন। বিরাটের উলটোপথে হেঁটে নীতিকে সমর্থনের ঢঙে তিনি বলেন, ‘পরিবার অবশ্যই গুরুত্বপূর্ণ। কিন্তু এর পাশপাশি আরও একটা বিষয় মাথায় রাখা জরুরি। খেলোয়াড়রা এখানে একটা উদ্দেশ্য নিয়ে এসেছে, ছুটি কাটাতে নয়। একটা মস্ত বড় দায়িত্ব রয়েছে। ড্রেসিং রুমে হাতেগোনা ক্রিকেটারের মধ্যে তুমি একজন, যে কিনা দেশকে গর্বিত করার সুযোগ পেয়েছ! ফলে, আমি অবশ্যই পরিবারকে সঙ্গে না আনার বিরোধী নই।’
যদিও স্ত্রী-সন্তান, আত্মীয়-পরিজনের ভূমিকা যে তিনি অস্বীকার করছেন না, তা সাফ করে দিয়েছেন গম্ভীর। তাঁর কথায়, ‘পরিবার গুরুত্বপূর্ণ হলেও ফোকাস সবসময় দেশকে গর্বিত করার দিকে থাকা উচিত। এই লক্ষ্যেই সবাই প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। বাকি সবকিছু ঠিক আছে। কিন্তু আমার কাছে ওই লক্ষ্যটাই আসল, গুরুত্বপূর্ণ!’
প্রসঙ্গত, অস্ট্রেলিয়ায় বিপর্যয়ের পর বিসিসিআই জানায়, এবার থেকে বিদেশে ট্যুর থাকলে খেলোয়াড়দের পরিবার সবচেয়ে বেশি দু’সপ্তাহ তাঁদের সঙ্গে থাকতে পারবেন। ৪৫ দিনের সফরের ক্ষেত্রে এই দিনক্ষণ বেঁধে দেওয়া হয়। শুধু তাই নয়। এর আগে বিরাট কোহলি, রোহিত শর্মারা সাধারণত হোটেল থেকে স্টেডিয়াম পর্যন্ত টিম বাসে যেতেন না। আলাদা গাড়িতে সস্ত্রীক যাওয়াই পছন্দ করতেন। সেই অভ্যাসও বদলে ফেলতে পদক্ষেপ নেয় বিসিসিআই। বোর্ডের তরফে সাফ জানানো হয়, তারকা খেলোয়াড়দেরও দলের বাকিদের সঙ্গে স্টেডিয়াম বা ট্রেনিংয়ে আসতে হবে।
শুধু খেলোয়াড়েরাই নন। কোচ গৌতম গম্ভীরের কাজকর্মেও রাশ টানা হয়। এখন থেকে গম্ভীরের ম্যানেজার গৌরব অরোরা না স্টেডিয়ামের ভিআইপি বক্স না টিম হোটেল—কোথাও ছায়া মারাতে পারবেন না। তাঁকে আলাদা আস্তানা খুঁজে নিতে হবে।
পাশাপাশি বিমানযাত্রার ক্ষেত্রে মাল পরিবহনের ইস্যুতেও নজর পেতেছেন নির্বাচকেরা। এতদিন খেলোয়াড়েরা নিজেদের ইচ্ছেমাফিক জিনিসপত্র নিয়ে বিদেশ সফরে যেতেন। এবার সেখানেও কাটছাঁটের নির্দেশ এসেছে ওপরমহল থেকে। নির্বাচকেরা সাফ বলেছেন, ১৫০ কেজি পর্যন্ত ঠিক আছে। কিন্তু তার বেশি ওজনের মাল বাবদ খরচের পুরোটা খেলোয়াড়দের গাঁটের কড়ি পুড়িয়ে জোগাড় করতে হবে।
নিয়মের লিস্টে রয়েছে সহকারী কর্মীদের পরিবর্তিত চুক্তির সময়সীমাও। আগে তাঁদের দলে থাকার নির্দিষ্ট কোনও সময় ছিল না। এবার থেকে সর্বোচ্চ তিন বছরের জন্য তাঁর চুক্তিবদ্ধ হবেন। বিসিসিআই মনে করছে, অধিনায়কের সাপোর্টিং স্টাফ লাগামহীনভাবে কাজ করার স্বাধীনতা পেয়ে এসেছে। যা টিমের পারফরম্যান্স তলানিতে নিয়ে যাওয়ার অন্যতম কারণও বটে। টিমের অন্দরে ও বাইরে নয়া নীতি কার্যকর করে অন্ধকার থেকে আলোয় ফিরতে মরিয়া ভারতীয় ক্রিকেট বোর্ড। ইংল্যান্ডে তার ছাপ কতটা পড়ে, এখন সেটাই দেখার।