একটি সামারসল্টেই প্রত্যাবর্তনের শিঙা ফুঁকেছেন ঋষভ পন্থ। সুনীল গাভাসকারের মতো কট্টর সমালোচকও ‘সুপার্ব! সুপার্ব! সুপার্ব!’ বলতে বাধ্য হয়েছেন!

ঋষভ পন্থ
শেষ আপডেট: 23 June 2025 18:47
দ্য ওয়াল ব্যুরো: আস্তিনে ছিল তিনটে অপশন। সেঞ্চুরি হাঁকিয়ে কীভাবে নিজের উচ্ছ্বাস জাহির করবেন, তার একাধিক কৌশল ছকে রেখেছিলেন ঋষভ পন্থ। একটির নাম ‘আমার ব্যাটই কথা বলে’।
যদিও ৯৯ রানের মাথায় শোয়েব বশিরকে ছক্কা মেরে শতরান সম্পূর্ণ করার পর ভল্ট মারেন ঋষভ পন্থ। হেডিংলের বাইশ গজে দুরন্ত সেঞ্চুরির তুবড়ি তোলে সামারসল্ট!
কেরিয়ারঘাতী দুর্ঘটনার দুঃস্বপ্ন পিছনে ফেলে, আইপিএল-হতাশাকে দূরে সরিয়ে, জাতীয় দলের সহ-অধিনায়কের দায়িত্ব হাতে পেয়ে ঋষভের যেন জন্মান্তর ঘটেছে। প্রথম ইনিংসে শতরানের পর দ্বিতীয় ইনিংসে শেষ পাওয়া খবরে ৩১ রানে অপরাজিত। ভারত প্রথম টেস্ট জিতে ফিরবে কি না, তা অনেকটাই নির্ভর করছে তাঁর টিকে থাকা-না থাকার উপর। দেখে বোঝার উপায় আছে—এই ব্যাটসম্যানই কিছুদিন আগে আইপিএল ধারাবাহিকভাবে ব্যর্থ হয়েছেন? রান পাননি? নিজেকে গুটিয়ে… প্রায় লুকিয়ে নিয়েছিলেন?
একটি সামারসল্টেই প্রত্যাবর্তনের শিঙা ফুঁকেছেন ঋষভ পন্থ। সুনীল গাভাসকারের মতো কট্টর সমালোচকও ‘সুপার্ব! সুপার্ব! সুপার্ব!’ বলতে বাধ্য হয়েছেন! পাশাপাশি যারা টেস্ট থেকে শুধু খেলার রস নয়, কিঞ্চিৎ বিনোদনও খোঁজেন, সেই সমস্ত ক্রিকেটপ্রেমীকেও উচ্ছ্বাসের নয়া প্রকরণ, সফল ডিগবাজি নিয়ে উৎসাহী করে তুলেছেন ঋষভ।
চতুর্দিকে এখন একটাই গুঞ্জন: সামারসল্ট! সামারসল্ট! কিন্তু কী এই সামারসল্ট?
যারা একটু শারীরিক কসরত নিয়ে ওয়াকিবহাল, তাঁদের কাছে সামারসল্ট আসলে একজন মানুষের হাওয়ায় লাফিয়ে নিজের শরীর ঘুরিয়ে নিখুঁতভাবে মাটিতে এসে দাঁড়ানোর কৌশল। এটা শুধু একটা শরীরচর্চা নয়, বরং আত্মবিশ্বাস, ভারসাম্য আর মনঃসংযোগের প্রকাশও বটে। খেলাধুলো, ব্যায়াম, সার্কাস, নাচ বা মার্শাল আর্ট—সবেতেই এর ব্যাপক ব্যবহার, অগুনতি প্রকাশ।
সামারসল্ট আসলে কী?
সামারসল্ট এমন কসরত, যেখানে শরীরকে মাটির উপর দিয়ে বা হাওয়ায় সামনে, পেছনে বা পাশের দিকে পুরোপুরি ঘোরাতে হয়। কেউ যখন সামনে লাফিয়ে মাথা নিচে দিয়ে শরীর ঘোরান, তখন ফরোয়ার্ড সামারসল্ট। আবার পেছনে গেলে সেটা ব্যাকওয়ার্ড সামারসল্ট।
সামারসল্টের ধরণ:
১. ফরোয়ার্ড সামারসল্ট (Forward):
শরীরকে সামনের দিকে গোল করে ঘোরানো। সাধারণত শিশু-কিশোর ও শিক্ষানবিশরা এতে হাত পাকায়।
২. ব্যাকওয়ার্ড সামারসল্ট (Backward):
পেছন দিকে ঘুরে দাঁড়ানোর কসরত। তুলনায় বেশি কৌশল প্রয়োজন।
৩. এরিয়াল সামারসল্ট (Aerial):
এতে পুরো শরীর হাওয়ায় উঠে ফের ঘুরে গিয়ে মাটিতে পড়ে। এর জন্য সর্বোচ্চ দক্ষতা জরুরি। জিমন্যাস্ট এবং মার্শাল আর্টিস্টরা এরিয়াল সামারসল্টে পারদর্শী।
৪. ডাইভিং সামারসল্ট:
সুইমিং পুলে ঝাঁপ দেওয়ার সময় হাওয়ায় এক বা একাধিকবার শরীর ঘুরিয়ে জলে পড়ার চালু রীতি।
৫. টাম্বলিং:
একটার পর একটা দ্রুত ঘূর্ণন। অনেক সময় কিছুটা দৌড়ে গিয়ে একাধিক ভল্ট মেরে টাম্বলিং সামারসল্ট প্রদর্শিত হয়।
কোথা থেকে এল এই কৌশল?
সামারসল্টের ব্যবহার বেশ প্রাচীন। গ্রিক ও চিনা সার্কাসে এ ধরনের কসরতের চর্চা হত। মধ্যযুগে ইউরোপে এর নাম ছিল ‘সামারসেট’। যার আভিধানিক অর্থ: শরীরকে একপাক ঘোরানো। সময়ের সঙ্গে সঙ্গে নাম বদলায়, ছড়িয়ে যায় কৌশলের রীতিও। এখন আর কেউ একপাকে কেউ তুষ্ট নয়। ঋষভও নন। বারতিনেক ডিগবাজি মেরেছেন। সব মিলিয়ে সামারসল্ট আধুনিক ব্যায়াম ও খেলাধুলার অঙ্গ হয়ে উঠেছে।
কারা ব্যবহার করে?
জিমন্যাস্ট: প্রতিযোগিতায় পারফরম্যান্সের অংশ হিসেবে।
ট্রিকিং আর্টিস্ট: তাঁরা মার্শাল আর্টের সঙ্গে অ্যাক্রোবেটিক কৌশল মেশান।
সার্কাস পারফর্মার: দর্শকদের মনোরঞ্জনের জন্য নানারকম সামারসল্ট দেখান।
ডাইভার: সুইমিং পুলে হাওয়ায় ঘুরে জলে পড়ার আগে ডিগবাজি মারেন।
শিখতে গেলে যা যা দরকার:
১. শরীরের নমনীয়তা
২. শক্তিশালী পেশি (পেট, পিঠ, কোমর)
৩. ভারসাম্য রক্ষা করার অভ্যাস
৪. ভয় কাটিয়ে উঠার সাহস
৫. প্রশিক্ষকের তত্ত্বাবধানে ধাপে ধাপে অনুশীলন
৬. নরম ম্যাট, স্পঞ্জ পিট বা ট্র্যাম্পোলিন
কীভাবে শুরু করবেন?
১. একেবারে শুরুতে সামনে গড়িয়ে বা রোলিংয়ে ভর দিয়ে প্র্যাকটিস করুন।
২. হাত কিছুটা পাকলে ম্যাটে নামুন। গোড়ায় স্রেফ ফরোয়ার্ড সামারসল্ট দিন—হাত দিয়ে মাথা বাঁচিয়ে মাটি ছুঁয়ে শরীর ঘোরান।
৩. যথেষ্ট অনুশীলনের পর ধীরে ধীরে ভারসাম্য ঠিক রেখে ব্যাকওয়ার্ড সামারসল্টে যান।
৪. যথেষ্ট অভিজ্ঞতা হলে এরিয়াল অনুশীলন চলতে পারে।
সাবধানতা:
১. মাথা ও ঘাড় বাঁচিয়ে চলা জরুরি
২. মাটি যেন নরম হয়, নইলে চোট লাগতে পারে
৩. একা না করে প্রশিক্ষকের তত্ত্বাবধানে করুন
৪. শরীর গরম না করে (ওয়ার্ম আপ না করে) ভুলেও সামারসল্ট করবেন না