আবেগপ্রবণ হয়ে কোনও সিদ্ধান্ত নিও না। এক বা দু’টি সিরিজের জন্য নিজেকে সময় দাও এবং তারপর সিদ্ধান্ত নাও।

সেওয়াগ, ধোনি ও শচিন
শেষ আপডেট: 15 August 2025 13:25
দ্য ওয়াল ব্যুরো: এক অজানা তথ্য প্রকাশ করেছেন ভারতের প্রাক্তন বিস্ফোরক ওপেনার বীরেন্দ্র সেওয়াগ (Virender Sehwag)। নজফগড়ের নবাব বলেছেন, ২০০৭-২০০৮ সালেই নাকি তিনি ওডিআই ক্রিকেট থেকে অবসরের সিদ্ধান্ত (Retirement) নিয়ে নিয়েছিলেন। কিন্তু ক্রিকেটের ঈশ্বর শচিন তেন্ডুলকরের (Sachin Tendulkar) পরামর্শে তিনি সেই সিদ্ধান্ত থেকে বিরত থাকেন।
২০০৭-২০০৮-এ ত্রিদেশীয় সিরিজ খেলতে মহেন্দ্র সিং ধোনির (MS Dhoni) নেতৃত্বে অস্ট্রেলিয়া গিয়েছিল ভারত। অস্ট্রেলিয়া ও ভারত ছাড়াও সেই সিরিজে ছিল শ্রীলঙ্কা। সেবার একদমই ফর্মে ছিলেন না বীরু। পাঁচ ম্যাচে ১৬.২০ গড়ে করেছিলেন মাত্র ৮১ রান। এরপর অধিনায়ক ধোনি তাঁকে প্রথম একাদশ থেকে বাদ দেন।
পদ্মজিৎ শেহরাওয়াতের পডকাস্টে সেওয়াগ বলেছেন, “২০০৭-২০০৮ সিরিজে প্রথম তিন ম্যাচ খেলার পর ধোনি আমাকে বসিয়ে দেয়। এরপর আমাকে কিছু সময় খেলানো হয়নি। তখন আমার মনে হয়েছিল, আমি প্রথম একাদশের অংশ নই। তাহলে আমার আর ওয়ানডে ক্রিকেট খেলার কোনও প্রয়োজন নেই।”
এরপর সেওয়াগ হতাশ হয়ে একদিনের আন্তর্জাতিক ক্রিকেট থেকে অবসর নেওয়ার সিদ্ধান্ত নেওয়ার বিষয়ে তেন্ডুলকরের কাছ থেকে পরামর্শ চেয়েছিলেন। তিনি শচিনকে নিজের মনের কথা জানান। কিন্তু শচিনের পরামর্শ বীরুর জীবন বদলে দেয়।
ভারতের এই প্রাক্তন ওপেনার বলেছেন, সেসময় তিনি তেন্ডুলকরের কাছে গিয়ে বলেন, ওয়ানডে থেকে অবসর নেওয়ার কথা ভাবছেন। সঙ্গে সঙ্গে শচিন বলে ওঠেন, “না, আমি ১৯৯৯-২০০০ সালে একই রকম সময় পার করেছি, তখন আমার মনে হয়েছিল আমার ক্রিকেট ছেড়ে দেওয়া উচিত। কিন্তু সেই সময় পার হয়ে যায়। খারাপ সময় দীর্ঘস্থায়ী হয় না। আবেগপ্রবণ হয়ে কোনও সিদ্ধান্ত নিও না। এক বা দু’টি সিরিজের জন্য নিজেকে সময় দাও এবং তারপর সিদ্ধান্ত নাও।”
শচিনের পরামর্শ মেনে বীরু দলে দুর্দান্তভাবে ফিরে আসেন। তিনি প্রচুর রান করেন এবং ২০১১ সালের বিশ্বকাপে ভারতকে চ্যাম্পিয়ন করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেন। বীরেন্দ্র সেওয়াগ ২৫১টি ওয়ানডে ম্যাচে ভারতের প্রতিনিধিত্ব করে ৩৫.০৫ গড়ে ১০৪.৩৩ স্ট্রাইক রেট-সহ ৮২৭৩ রান করেন, যার মধ্যে ১৫টি সেঞ্চুরি এবং ৩৮টি হাফ-সেঞ্চুরি রয়েছে। ২০১৫ সালে বীরু সব ধরনের ক্রিকেট থেকে অবসর নেন।
পডকাস্টে প্রাক্তন এই ভারতীয় ওপেনার তাঁর পুত্র আর্যবীর সম্পর্কেও কথা বলেছেন। বীরু বলেছেন, “আর্যবীরের সঙ্গে আমার তুলনা হবেই। কিন্তু চাপ নিলে চলবে না। ওই চাপ সবসময় থাকবে। কিন্তু তোমার চাপ নেওয়া উচিত নয়। চাপ এমন একটা জিনিস যা তোমাকে দিতে হবে, নিলে চলবে না। আমি আশা করি সে ভারতের হয়ে খেলবে। অন্তত রঞ্জি ট্রফিতে আমি ওকে দেখছি।”