আঘারা যাই হুঙ্কার দিন না কেন, ইতিহাস বলছে, পাক দলকে এ যাত্রায় খেলতে হবে নিজেদের সেরাটা উজাড় করে। কারণ, ভারত–পাক টি–২০ দ্বৈরথে ১৩ ম্যাচে ১০ বার জিতেছে মেন ইন ব্লু।

ফাইল চিত্র
শেষ আপডেট: 13 September 2025 15:02
দ্য ওয়াল ব্যুরো: কোথায় গেল সেই উন্মাদনা? আগ্রাসন? আবেগের চিরচেনা বিস্ফোরণ? ভারত–পাকিস্তান ম্যাচ মানেই তো টিকিটের হুড়োহুড়ি, কানায় কানায় ভর্তি গ্যালারি। অথচ দুবাই চক্কর মারলে বোঝা দায় আগামিকাল এশিয়া কাপের (Asia Cup 2025) সুপারহিট দ্বৈরথ! মুখোমুখি দুই চিরশত্রু। না আছে ম্যাচ নিয়ে উৎসাহ, না ফলাফল নিয়ে উৎকণ্ঠা। যার ছাপ পড়েছে বিপণন ও বাণিজ্যে। সূত্রের খবর, এবার নাকি যথেষ্ট ঢিমেতালে টিকিট বিক্রি হয়েছে। তাই কাল গ্যালারিতে ফাঁকা চেয়ারও চোখে পড়বে ঢের!
প্রধান কারণ কি টিকিটের আকাশছোঁয়া দাম? বিশেষজ্ঞদের অনুমান, এর জেরেই আমজনতার মাঠে আসার আগ্রহ নেই। ভিআইপি স্যুটে ২.৫ লক্ষ টাকা, রয়্যাল বক্সে ২.৩ লক্ষ, স্কাই বক্সে ১.৬ লক্ষ, প্লাটিনাম সেকশনে ৭৫ হাজার টাকা ধার্য করা হয়েছে! এমনকি সাধারণ আসনের টিকিটও প্রায় ১০ হাজার টাকা (দু’জনের)। স্বাভাবিকভাবে সওয়াল উঠছে—এই বিপুল খরচের জেরেই কি উধাও দর্শক?
উড়িয়ে না দিলেও এ প্রসঙ্গে প্রাক্তন ক্রিকেটার আকাশ চোপড়া (Aakash Chopra) তুললেন আরও এক আশঙ্কার কথা। তিনি বলেছেন, ‘ভারত–ইউএই ম্যাচে প্রায় ফাঁকা স্ট্যান্ডে খেলা হয়েছে। এখন পাকিস্তানের বিরুদ্ধেও টিকিট খুব একটা বিক্রি হয়নি। সাধারণ টিকিট শেষ হলেও দামিগুলো ঝুলে। কেন এমন হচ্ছে? রোহিত শর্মা–বিরাট কোহলির অবসর? চড়া দামের টিকিট? নাকি ভারত–পাক ম্যাচ বয়কটের ডাক? কারণ যাই হোক, আসন খালি থাকাটা চিন্তার!’
তবে দুই শিবিরে, সমাজমাধ্যমে খেলার উত্তেজনায় ঘাটতি নেই। ভারত প্রথম ম্যাচে সংযুক্ত আরিব আমিরশাহি–কে হারিয়েছে ৯ উইকেটে, পাকিস্তান ৯৩ রানে উড়িয়ে দিয়েছে ওমানকে। দু’তরফের শক্তিপরীক্ষার দাপট দেখে ওয়াসিম আক্রম (Wasim Akram) সঙ্গত কারণেই হাড্ডাহাড্ডি লড়াইয়ের অনুমান করেছেন। তাঁর কথায়, ‘ভারত নিঃসন্দেহে শক্তিশালী দল। তবে পাকিস্তান সদ্য ত্রিদেশীয় সিরিজ জিতেছে, তাই লড়াইটা জমবে। যদিও নতুন অধিনায়ক সলমন আঘা (Salman Agha) আর কোচ মাইক হেসনের (Mike Hesson) দলে তাত্ক্ষণিক সাফল্যের আশা করাটা ভুল হবে।’
যদিও কাল নেহাতই একপেশে কায়দায় লড়াই জেতার পর উদ্দীপ্ত মেজাজে ধরা দিলেন অধিনায়ক সলমন আঘা (Salman Ali Agha)। ম্যাচ খতম হতে না হতেই নাম না করে ভারতকে ছুড়লেন কড়া চ্যালেঞ্জ। তাঁর সাফ ঘোষণা, ‘আমরা এখন এমন ছন্দে আছি, তাতে যে কাউকে হারানোর ক্ষমতা রাখি!’
প্রসঙ্গত, গতকাল দুবাইয়ে প্রথম ম্যাচে আগে ব্যাট করে পাকিস্তান তোলে ১৬০/৭। ইনিংসের নায়ক মহম্মদ হারিস (Mohammad Haris)। ৪৩ বলে ৬৬ রান—৭টি চার, ৩টি ছক্কায় সাজানো ইনিংস। পরে পাক বোলাররা দাপট দেখাতেই ৬৭ রানে বান্ডিল ওমান। সহজ জয় ছিনিয়ে নেন মাইক হেসনের (Mike Hesson) ছেলেরা।
ম্যাচের পর মাঠের ঝাঁঝ ঝরে পড়েছে আঘার গলায়। তিনি বলেন, ‘গত দু–তিন মাস ধরে আমরা দারুণ ক্রিকেট খেলছি। সদ্য ত্রিদেশীয় সিরিজ জিতেছি। এখানে শুরুটাও হল দাপুটে। শুধু পরিকল্পনা ঠিকভাবে কাজে লাগাতে পারলেই আমরা যে কাউকে হারাতে সক্ষম!’
আঘারা যাই হুঙ্কার দিন না কেন, ইতিহাস বলছে, পাক দলকে এ যাত্রায় খেলতে হবে নিজেদের সেরাটা উজাড় করে। কারণ, ভারত–পাক টি–২০ দ্বৈরথে ১৩ ম্যাচে ১০ বার জিতেছে মেন ইন ব্লু। টানা পাঁচ আন্তর্জাতিক ম্যাচেও শেষ হাসি হেসেছে টিম ইন্ডিয়াই। কিন্তু তবু আঘার বিশ্বাস অটুট—এই পাকিস্তান নাকি যে কাউকে হারাতে পারে!