ডিসেম্বরের ২৪ তারিখ থেকে শুরু টুর্নামেন্টে দিল্লির হয়ে খেলবেন কোহলি। ২০১০ সালের পর প্রথমবার বিজয় হাজারেতে নামা—এটাই বুঝিয়ে দিচ্ছে, বোর্ডের চাপ কতটা কার্যকর হয়েছে।
.jpeg.webp)
বিরাট ও আগরকর
শেষ আপডেট: 3 December 2025 10:49
দ্য ওয়াল ব্যুরো: কাল সকাল পর্যন্ত খবর ছিল—বিরাট কোহলি (Virat Kohli) বিজয় হাজারে ট্রফি (Vijay Hazare Trophy) খেলবেন না। বিসিসিআই-এর (BCCI) নির্দেশ সত্ত্বেও তিনি নাকি দেশীয় একদিনের টুর্নামেন্টে নামতে রাজি নন। এমন অবস্থায় চাপে পড়ে নির্বাচন কমিটি ও টিম ম্যানেজমেন্ট। বিশেষ করে যখন রোহিত শর্মা (Rohit Sharma) আগেই মুম্বইয়ের হয়ে খেলার সম্মতি দিয়েছেন।
যদিও দিন গড়াতেই পাল্টে গেল সব। মঙ্গলবার রাতে এনডিটিভি সূত্র জানায়—নির্বাচনকারীরা কোহলিকে রাজি করিয়েছেন। তিনি এবার খেলবেন বিজয় হাজারের কয়েকটি ম্যাচ। বিসিসিআইয়ের এক কর্তা বলেন, ‘রোহিত খেলছে। তাই একজনকে আলাদা ছাড় দেওয়া যায় না। বাকিদের কী বলব?’ বোর্ড চাইছিল স্পষ্ট নীতি—যদি জাতীয় দলে জায়গা পাকা রাখতে হয়, তাহলে সিনিয়র বা জুনিয়র, সবাইকেই ঘরোয়া ক্রিকেট খেলতে হবে। কোহলির প্রাথমিক অবস্থান সেই নীতিকেই প্রশ্নের মুখে ফেলেছিল!
তাহলে শেষ পর্যন্ত কেন ইউ-টার্ন? সূত্র বলছে, বোর্ডের সঙ্গে দীর্ঘ আলোচনার পর কোহলি নিজের অবস্থান বদলেছেন। তাঁকে বোঝানো হয়েছে, নির্বাচনের প্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতা রাখতে হলে সিনিয়র ক্রিকেটারদেরও নিয়ম মানা জরুরি। তা ছাড়া লন্ডন-ভিত্তিক ব্যক্তিগত সময়সূচি মেনে তাঁকে কয়েকটি ম্যাচ খেলতে দেওয়া হবে। তাতে কেউ বাধা দেবে না। মূলত এই আশ্বাসেই ডাল গলেছে। তিনি ঘরোয়া ময়দানে নামতে রাজি হয়েছেন।
প্রসঙ্গত, এবার প্রেক্ষাপটও গুরুত্বপূর্ণ। কোহলি এখন এক-ফর্ম্যাট ক্রিকেটার—শুধু ওয়ানডেতে খেলেন। টেস্ট থেকে অবসর নিয়েছেন, টি-২০ থেকেও সরে দাঁড়িয়েছেন। তাই বোর্ড চাইছে তিনি ঘরোয়া টুর্নামেন্টে নেমে ম্যাচ-ফিট থাকুন। রাঁচিতে তাঁর ১৩৫ রানের ইনিংস দেখিয়ে দিয়েছে—দিব্যি ফর্মে আছেন। খেলা শেষে ‘ম্যাচ প্রিপারেশন’নিয়েই প্রশ্ন ওঠায় স্পষ্টত আপত্তির কথা জানিয়েও দেন বিরাট। তাঁর কথায়—‘আমার ক্রিকেট মানসিক প্রস্তুতির উপর নির্ভর করে!’ অতিরিক্ত প্র্যাকটিস বা ঘরোয়া ম্যাচে নামা যে জরুরি নয়, রাখঢাক না করে জানিয়ে দেন সেটা। কিন্তু বোর্ড ও গম্ভীরের (Gautam Gambhir) দাবি: জাতীয় দলের দরজা খোলা রাখতে হলে ঘরোয়া ক্রিকেট বাধ্যতামূলক করা হোক।
এই পরিস্থিতিতে ডিসেম্বরের ২৪ তারিখ থেকে শুরু টুর্নামেন্টে দিল্লির হয়ে খেলবেন কোহলি। ২০১০ সালের পর প্রথমবার বিজয় হাজারেতে নামা—এটাই বুঝিয়ে দিচ্ছে, বোর্ডের চাপ কতটা কার্যকর হয়েছে। এখন দেখার, তিনি শেষমেশ কটা ম্যাচ খেলেন এবং এই সিদ্ধান্ত তাঁর আন্তর্জাতিক রোডম্যাপে কত বড় প্রভাব ফেলে।