বিরাট কোহলির (Virat Kohli) পায়ের কাছে হাঁটু গেড়ে প্রণাম করে শ্রদ্ধা জানান তার স্বপ্নের নায়ককে। সেই মুহূর্তে তো ভাইরাল (Viral) যায় এই জনজাতি যুবকের ছবি, কিন্তু তার পর তাঁকে গ্রেফতার করে ঝাড়খণ্ড পুলিশ।

শেষ আপডেট: 2 December 2025 12:14
দ্য ওয়াল ব্যুরো: রাঁচির স্টেডিয়ামে রবিবার ভারত–দক্ষিণ আফ্রিকা (ODI IND vs SA) প্রথম একদিনের আন্তর্জাতিক ম্যাচে এক নজিরবিহীন ঘটনা যায়। বহুস্তরের নিরাপত্তা ভেঙে মাঠে ঢুকে পড়েন পশ্চিমবঙ্গের হুগলির আরামবাগের যুবক সৌভিক মুর্মু (Soubhik Murmu)। বিরাট কোহলির (Virat Kohli) পায়ের কাছে হাঁটু গেড়ে প্রণাম করে শ্রদ্ধা জানান তার স্বপ্নের নায়ককে। সেই মুহূর্তে তো ভাইরাল (Viral) যায় এই জনজাতি যুবকের ছবি, কিন্তু তারপর তাঁকে গ্রেফতার করে ঝাড়খণ্ড পুলিশ।
আরামবাগের প্রত্যন্ত গ্রামের ছেলে সৌভিক
সৌভিক হুগলির কেশবপুরের কবিকঙ্কন মুকুন্দরাম মহাবিদ্যালয়ের প্রথম বর্ষের ছাত্র। বাড়ি আরামবাগের মধ্যপুর গ্রামে। ক্রিকেট, বিশেষ করে বিরাট কোহলির (Virat Kohli) প্রতি তাঁর অন্ধ ভালবাসার কথা গ্রামবাসী থেকে পরিবারের সবাই জানেন। পরিবারের লোকজন জানিয়েছে, অনলাইনে টিকিট না পাওয়ায় সৌভিক একাই রওনা হয়েছিলেন রাঁচির উদ্দেশে। হাওড়া থেকে ট্রেনে রাঁচি পৌঁছোনোর পর কোনওভাবে একটি টিকিট জোগাড় করে স্টেডিয়ামে ঢোকেন তিনি।
গ্যালারি থেকে লাফ, বিজ্ঞাপন বোর্ড টপকে মাঠে দৌড়
ম্যাচ চলাকালীন বিরাটের সেঞ্চুরির পর উত্তেজিত হয়ে ওঠেন সৌভিক। ভিডিও ফুটেজে দেখা গেছে— স্ট্যান্ডের রেলিং টপকে প্রচুর উচ্চতা থেকে লাফিয়ে পড়েন তিনি। বিজ্ঞাপন বোর্ডের পাশ দিয়ে গড়িয়ে উঠে সোজা দৌড়ে চলে যান কোহলির দিকে, পিছন পিছন ছুটে আসেন নিরাপত্তারক্ষীরা। তবে থামানো যায়নি তাঁকে। শেষমেশ কোহলির সামনে গিয়ে হাঁটু গেড়ে পায়ে হাত রাখেন সৌভিক। এরপরই তাঁকে আটক করে পুলিশ।
‘আমার ছেলে কাউকে আঘাত করতে যায়নি’
ঘটনার পর ঝাড়খণ্ড পুলিশের ফোনে গ্রেফতারের খবর শুনে শোক ও দুশ্চিন্তায় ভেঙে পড়েন সৌভিকের বাবা সমর মুর্মু, যিনি পেশায় ভেষজ ওষুধের চিকিৎসক। তিনি বলেন, “পুলিশ বলল, আমার ছেলে নিরাপত্তা ভেঙেছে, তাই অপরাধ হয়েছে। কিন্তু ও বিরাটের বিশাল ভক্ত, কাউকে আঘাত করার কোনও উদ্দেশ্য ছিল না। শুধুই ভালবাসার টানে গেছে।”
মা মঙ্গলি মুর্মু জানান, বিরাটের প্রতি ভক্তির কারণে সৌভিক চুল কাটাও বন্ধ করে দিয়েছিল— “কোহলিকে না দেখা পর্যন্ত চুল কাটবে না” এই ছিল তার মানত। পুলিশের ফোনে সংক্ষিপ্ত কথোপকথনে সৌভিক নিজেই বাবাকে বলেছেন— বিরাট সেঞ্চুরি করার পর আর নিজেকে সামলাতে পারেননি।
ক্রিকেটে পেশাদার হওয়ার স্বপ্ন, কিন্তু সংসারের টানাপড়েন
ছোটবেলা থেকেই স্থানীয় দলে ক্রিকেট খেলত সৌভিক। পেশাদার প্রশিক্ষণ নিতে কলকাতা বা দিল্লির কোনও অ্যাকাডেমিতে ভর্তি হওয়ার ইচ্ছা ছিল। কিন্তু আর্থিক কারণে বাবা তা পারেননি। তবু ভক্তি আর আবেগে সৌভিক থামেনি। গত বছর সৌভিক সাইকেল চালিয়ে চেন্নাই গিয়েছিলেন এমএস ধোনির খেলা দেখতে। সেটাই তাঁর বন্ধুদের কাছে গর্বের ব্যাপার।
সৌভিকের জামিনের জন্য নেমেছে গ্রাম
ঘটনার পরে স্থানীয় বিজেপি বিধায়ক ও আরামবাগ জেলা সভাপতির কাছে ছেলের জামিনের জন্য সাহায্য চান সমর মুর্মু। জেলা সভাপতি বিমল ঘোষ জানিয়েছেন—“ছেলেটা অত্যন্ত এনার্জেটিক এবং বিরাট কোহলির ডাই-হার্ড ফ্যান। আমরা রাঁচির সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের সঙ্গে যোগাযোগ করেছি। যত দ্রুত সম্ভব ওকে জামিন করানোর চেষ্টা চলছে।”
রবিবারের ম্যাচে কোহলির ঝোড়ো ১৩৫ রানের ইনিংসে ভারত ৩৪৯/৮ তোলে এবং ১৭ রানে ম্যাচ জেতে। সেই ইনিংসই সৌভিককে এতটা উদ্দাম করে তুলেছিল বলে তাঁর পরিবার মনে করছে। এখন অপেক্ষা ঘরের ছেলে ঘরে ফেরার।