আসলে গত কয়েক মাস ধরেই নির্বাচকমণ্ডলীতে এই অঘোষিত চাপান-উতর চলছে। একপক্ষের মতে, রোহিত-বিরাটকে অন্তত আরও একবছর রেখে ধীরে ধীরে পরিবর্তন আনা উচিত।

বিরাট, রোহিত ও অজিত আগরকর
শেষ আপডেট: 5 October 2025 12:34
দ্য ওয়াল ব্যুরো: শনিবার সন্ধ্যায় বিসিসিআইয়ের (BCCI) অন্দরে যে সভা বসেছিল, তা নিছক দলঘোষণা নয়—ছিল ভবিষ্যতের নীলনকশা তৈরির বৈঠক। অস্ট্রেলিয়া সফরের (Australia Tour) জন্য ওয়ানডে ও টি-২০ দল ঘোষণা হলেও, আসল আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে দু’জন—রোহিত শর্মা (Rohit Sharma) ও বিরাট কোহলি (Virat Kohli)।
একসময় ভারতীয় ক্রিকেটের দুই স্তম্ভ, আজ তাঁদের ভবিষ্যৎ নিয়েই মতভেদের তুঙ্গে নির্বাচকরা। সূত্র বলছে, রোহিতকে নেতৃত্ব থেকে সরানো নিয়ে অন্দরমহলে নির্বাচক অজিত আগরকর (Ajit Agarkar), একাধিক বোর্ড কর্তা এবং টিম ম্যানেজমেন্টের মধ্যে নাকি জোর টানাপড়েন! প্রথমে সবাই একমত ছিলেন না। কারণটা স্বাভাবিক—রোহিত গত আট মাস আগেই ভারতকে এনে দিয়েছেন চ্যাম্পিয়ন্স ট্রফি (Champions Trophy 2025), ফর্মে আছেন, ফিটনেস পরীক্ষাতেও উত্তীর্ণ। তবু কেন রদবদল? বোর্ডের কেউ কেউ প্রশ্ন তোলেন, এখনই নেতৃত্ব বদলালে কি প্রয়োজনের আগে ‘পরিবর্তনের গিয়ারে’ টান দেওয়া হচ্ছে না?
পাল্টা যুক্তি মেলে ধরে আগরকর-গম্ভীর শিবির। তাদের বক্তব্য, ২০২৭ সালের ওয়ানডে বিশ্বকাপের (ODI World Cup 2027) প্রস্তুতি এখন থেকেই শুরু করা জরুরি। আর এই পরিকল্পনায় ‘৩৮ বছরের রোহিত’ ও ‘৩৬ বছরের বিরাট’-কে নিয়ে বাজি ধরা নিরাপদ নয়। বোর্ডের এক শীর্ষ কর্তার ভাষায় (‘টাইমস অব ইন্ডিয়া’র রিপোর্ট অনুযায়ী), ‘এভাবে সময় টেনে নিয়ে গেলে ব্যাপারটা আরও জটিল হয়ে উঠবে। তরুণদের হাতেই দায়িত্ব দিতে হবে, যদিও অভিজ্ঞরা এখনও খারাপ খেলছেন না।’
আসলে গত কয়েক মাস ধরেই নির্বাচকমণ্ডলীতে এই অঘোষিত চাপান-উতর চলছে। একপক্ষের মতে, রোহিত-বিরাটকে অন্তত আরও একবছর রেখে ধীরে ধীরে পরিবর্তন আনা উচিত। অন্যপক্ষের দাবি, যত তাড়াতাড়ি দায়িত্ব বদলানো যাবে, গিলের (Shubman Gill) মতো তরুণ নেতা পরিকল্পনা সাজানোর তত বেশি সময় পাবেন! টানাটানির যুদ্ধে শেষ পর্যন্ত সংখ্যাগরিষ্ঠের সিদ্ধান্তই বহাল থাকে। রোহিতের অধিনায়কত্ব যায় শুভমানের হাতে, সহ-অধিনায়ক নির্বাচিত হন শ্রেয়স আইয়ার (Shreyas Iyer)।
বোর্ডের অভ্যন্তরীণ সূত্রে জানা যাচ্ছে, রোহিতের ‘সীমিত ম্যাচ টাইম’নিয়েও নাকি উদ্বেগ ছিল। চ্যাম্পিয়ন্স ট্রফির পর আর কোনও আন্তর্জাতিক ম্যাচ খেলেননি। শেষ প্রতিযোগিতামূলক ম্যাচ ছিল মুম্বই ইন্ডিয়ান্সের (Mumbai Indians) হয়ে আইপিএলে (IPL)। আগরকর সেই বিষয়টিই ইঙ্গিত করেছিলেন সাংবাদিক বৈঠকে: ‘নিয়মিত ম্যাচ না খেললে প্রস্তুতির ধার নষ্ট হয়!’
বিরাটের ক্ষেত্রেও ছবিটা প্রায় একই। বয়সে দু’বছর ছোট হলেও, তিনিও আপাতত কেবল একটি ফরম্যাটেই (ওয়ানডে) সক্রিয়। বোর্ডের উচ্চপর্যায়েই নাকি আলোচনা হয়েছে—‘দু’জনকেই একই স্কেলে বিচার করতে হবে। ভবিষ্যতের অঙ্কে বয়স, ফিটনেস আর ম্যাচ-রিদম—তিনটেই বড় বিষয়!’ আপাতত ‘রো-কো’ জুটিকে রাখা হয়েছে অস্ট্রেলিয়া সফরের তিন ম্যাচের ওয়ানডে দলে। কিন্তু ভবিষ্যৎ আর নিশ্চিত নয়। কারণ, বোর্ডের নজর পুরোপুরি গিলের নেতৃত্বে, নতুন অধ্যায়ের দিকে।