টিম ইন্ডিয়া হয়তো আজ থেকেই এক নতুন পর্বে পা রাখল। রোহিতের পর শুভমানের যুগ শুরু। আর বোর্ডের অঙ্ক স্পষ্ট: এবার থেকে নয়া জমানার তারুণ্যই ভবিষ্যতের ভরসা।

অজিত আগরকর ও রোহিত শর্মা
শেষ আপডেট: 4 October 2025 15:47
দ্য ওয়াল ব্যুরো: চ্যাম্পিয়ন্স ট্রফি (Champions Trophy 2025) জয়ের আট মাস পরই বদলে গেল নেতৃত্ব। ওয়ানডে দলের অধিনায়কত্ব হারালেন রোহিত শর্মা (Rohit Sharma)। তা ন্যস্ত হল শুভমান গিলের (Shubman Gill) হাতে। সিদ্ধান্তটা হঠাৎ কিংবা আকস্মিক মনে হলেও, আদতে তা অনিবার্য ছিল। ভারতীয় ক্রিকেটের অন্দরমহলে দীর্ঘদিন ধরে আঁচও করা যাচ্ছিল। অজিত আগরকর (Ajit Agarkar) নেতৃত্বাধীন নির্বাচক কমিটি অবশেষে সেই ‘কঠিন সিদ্ধান্ত’নিল—বয়স, ফরম্যাট আর ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা—সব মিলিয়েই ভারতীয় ক্রিকেট এক নতুন অধ্যায়ের সূচনার সাক্ষী থাকল।
শনিবার আমদাবাদে সাংবাদিক বৈঠকে নির্বাচক প্রধান আগরকর যদিও বললেন, ‘রোহিতকে এই সিদ্ধান্তের কথা আগেই জানানো হয়েছিল!’ কিন্তু আসল প্রশ্নের নিরসন এই এক লাইনের জবাবে নেই। কী এমন কারণ, যে জয়ের ধারাবাহিকতা সত্ত্বেও অধিনায়কত্ব হারাতে হল রোহিতকে? আগরকরের কথায়, ‘এই সিদ্ধান্ত নেওয়া সহজ ছিল না। এমন একজন খেলোয়াড়কে সরানো, যিনি এতদিন ধরে ভারতকে সাফল্য এনে দিয়েছেন, মোটেও সরল নয়। কিন্তু কখনও কখনও ভবিষ্যতের কথা ভেবে কঠিন সিদ্ধান্ত নিতেই হয়।’
আসলে বোর্ডের (BCCI) পরিকল্পনা এখন স্পষ্ট—তিন ফরম্যাটে তিন অধিনায়ক নয়, বরং এক নেতা, এক দিশা। টেস্টে (Test) রোহিত অবসর নেওয়ার পর নেতৃত্ব যায় গিলের হাতে। এবার ওয়ানডেতেও তিনিই দলের হাল ধরবেন। আগরকরের যুক্তি, ‘প্রায়োগিক দিক থেকে তিন ফরম্যাটে তিন অধিনায়ক রাখা অবাস্তব। পরিকল্পনা, দল সাজানো, কোচের সঙ্গে সমন্বয়—সবেতেই সমস্যা হয়। তাই আমাদের লক্ষ্য ছিল, যিনি টেস্টে নেতৃত্ব দিচ্ছেন, তাঁকেই ওয়ানডেতেও দায়িত্ব দেওয়া। এতে ধারাবাহিকতা থাকবে!’
গিলের নেতৃত্বে পাখির চোখ এখন ২০২৭ সালের ওয়ানডে বিশ্বকাপে (ODI World Cup 2027), যা অনুষ্ঠিত হবে দক্ষিণ আফ্রিকা, নামিবিয়া ও জিম্বাবোয়েতে। আগরকরের কথায়, ‘বিশ্বকাপের জন্য প্রস্তুতি এখন থেকেই শুরু করা দরকার। ওয়ানডে ম্যাচের সংখ্যা অনেক কম। ফলে নতুন অধিনায়ককে পরিকল্পনা গড়ে তুলতে ও আত্মবিশ্বাস পেতে যথেষ্ট সময় দিতে হবে।’
যদিও এতকিছুর মধ্যে রোহিতের ভবিষ্যৎ নিয়ে সরাসরি কিছু বলেননি আগরকর। সাংবাদিকদের প্রশ্নে তাঁর সাবধানি উত্তর, ‘ওরা (রোহিত ও বিরাট কোহলি) এই মুহূর্তে যে ফরম্যাটে খেলছে, সেটাই আমাদের বিবেচনায়। বিশ্বকাপ নিয়ে এখনই কিছু বলা ঠিক হবে না!’
তবে একটা কথা খুব সাফ সাফ মেনে নিলেন নির্বাচক প্রধান: নেতৃত্ব পরিবর্তন করা মানেই কঠিন সিদ্ধান্তের ঝুঁকি নেওয়া। তাঁর বক্তব্য: ‘রোহিত না জিতলেও এই সিদ্ধান্ত কঠিনই হত! কিন্তু সময়মতো পদক্ষেপ নেওয়াই বুদ্ধিমানের কাজ। যত দেরি হবে, নতুন অধিনায়কের প্রস্তুতির সময় তত কমে যাবে!’ অর্থাৎ, মোদ্দা বিষয়: সবটাই ভবিষ্যতের বিনিয়োগ। রোহিতকে সরানো যেমন কোনও ব্যর্থতার স্বীকৃতি নয়, তেমনই তরুণ নেতৃত্বকে সু্যোগ বুঝে এগিয়ে আনাও পরিকল্পিত পদক্ষেপ। আগরকরের কথায়, ‘একজন সফল অধিনায়ককে সরানো সহজ নয়। কিন্তু দলের দীর্ঘমেয়াদি স্বার্থটাই আমাদের কাছে বড়।’
সব মিলিয়ে, টিম ইন্ডিয়া হয়তো আজ থেকেই এক নতুন পর্বে পা রাখল। রোহিতের পর শুভমানের যুগ শুরু। আর বোর্ডের অঙ্ক স্পষ্ট: এবার থেকে নয়া জমানার তারুণ্যই ভবিষ্যতের ভরসা।