শুধু বৈভব নন—টপ অর্ডারের অন্যদেরও দায়িত্ব নিতে হবে। কারণ, ৩১১ রান তাড়া করতে গেলে এক জনের ওপর ভরসা রাখা চলে না।

বৈভব সূর্যবংশী
শেষ আপডেট: 4 February 2026 17:16
দ্য ওয়াল ব্যুরো: অনূর্ধ্ব–১৯ বিশ্বকাপের (U19 World Cup 2026) সেমিফাইনালে ভারতকে কার্যত কঠিন পরীক্ষার সামনে ফেলে দিল আফগানিস্তান। হারারের মাঠে প্রথমে ব্যাট করে ৫০ ওভারে ৪ উইকেটে ৩১০ রান তুলল তারা। ফাইনালে উঠতে ভারতের সামনে লক্ষ্য ৩১১ রান। চাপটা যে বিশাল, তা বলার অপেক্ষা রাখে না। প্রশ্ন একটাই—এই ম্যাচে কি আবার ত্রাতার ভূমিকায় দেখা যাবে বৈভব সূর্যবংশীকে (Vaibhav Suryavanshi)?
জোড়া সেঞ্চুরিতে পাহাড়সম রান
টস জিতে ব্যাট করার সিদ্ধান্ত। তারপর শুরু থেকেই পরিণত ক্রিকেট খেলতে থাকে আফগান টিম। টিম ইন্ডিয়ার বোলারদের কোনও সুযোগই দেয়নি তারা। উজাইরুল্লাহ নিজাই (Uzairullah Niazai) এবং ফয়সাল শিনোজাদা (Faisal Shinozada)—এই দুই ব্যাটার মিলে ম্যাচের রাশ পুরোপুরি নিজেদের হাতে তুলে নেন। শিনোজাদা খেলেন ১১০ রানের দুরন্ত ইনিংস। অন্য প্রান্তে নিজাইর ব্যাট থেকে আসে অপরাজিত ১০১ রান। জোড়া সেঞ্চুরিতে ভর করে আফগানিস্তান অনায়াসে তিনশোর গণ্ডি পার করে। যুব বিশ্বকাপের নকআউট ম্যাচে এমন রান বেশ বিরল।
ভারতীয় বোলিংয়ে আংশিক সাফল্য
আজ টিম ইন্ডিয়ার হয়ে কিছুটা লড়াই দেখান কণিষ্ক চৌহান (Kanishk Chouhan) এবং দীপেশ দেবেন্দ্রন (Deepesh Devendran)। দু’জনেই দু’টি করে উইকেট নেন। তবে মাঝের ওভারগুলোয় চাপ তৈরি করতে না পারায় রানের তোড় আটকানো যায়নি। শেষের দিকে আফগান ব্যাটাররা ম্যাচের গতির পুরোপুরি নিয়ন্ত্রণ তুলে নেয়!
পরিসংখ্যান বলছে, কাজটা সহজ নয়
অনূর্ধ্ব–১৯ বিশ্বকাপের নকআউট পর্বে ৩০০-এর বেশি রান তাড়া করে জেতার নজির খুব বেশি নেই। ইতিহাস বলছে—
২০১৬ কোয়ার্টার ফাইনালে নামিবিয়ার বিরুদ্ধে ভারতের ৩৪৯/৬।
২০০৪ সালে অস্ট্রেলিয়া করেছিল ৩৪০/৫।
আর এদিন আফগানিস্তানের ৩১০/৪ ঢুকে গেল সেই তালিকায়।
অর্থাৎ, লক্ষ্য যত বড়ই হোক, অসম্ভব নয়—কিন্তু নিখুঁত ব্যাটিং চাই।
সব নজর বৈভবের দিকে
এই পরিস্থিতিতে ভারতের ভরসা বৈভব সূর্যবংশী (Vaibhav Suryavanshi)। টুর্নামেন্টে একাধিকবার কঠিন মুহূর্তে দলকে টেনেছেন তিনি। বড় লক্ষ্য তাড়া করার সময় তাঁর আগ্রাসী ব্যাটিংই টিমের সবচেয়ে বড় অস্ত্র। তবে শুধু বৈভব নন—টপ অর্ডারের অন্যদেরও দায়িত্ব নিতে হবে। কারণ, ৩১১ রান তাড়া করতে গেলে এক জনের ওপর ভরসা রাখা চলে না।