বুলাওয়েওতে চলেছে টানটান স্নায়ুযুদ্ধ। টপ অর্ডারের ধাক্কার পর ভারত যেভাবে ঘুরে দাঁড়িয়েছে, সেটাই হয়তো এই ম্যাচের সবচেয়ে বড় বার্তা।

বেদান্ত ত্রিবেদী
শেষ আপডেট: 1 February 2026 16:34
দ্য ওয়াল ব্যুরো: অনূর্ধ্ব–১৯ বিশ্বকাপের (U19 World Cup 2026) সুপার সিক্সে ভারত বনাম পাকিস্তান ম্যাচে জোর উত্তাপ। লড়াই শুরুর আগে হাত মেলালেন না দু’দলের অধিনায়ক। তারপর মাঠের যুদ্ধে ফ্রন্টফুটে পাকিস্তান। বুলাওয়েওর কুইন্স স্পোর্টস ক্লাবে (Queens Sports Club, Bulawayo) উত্তেজনার ঘাটতি ছিল না। টস জিতে পাকিস্তান অধিনায়ক ফারহান ইউসুফ (Farhan Yousaf) বোলিংয়ের সিদ্ধান্ত নেন। লক্ষ্য ছিল স্পষ্ট—ভারতের টপ অর্ডার ভেঙে চাপ তৈরি করা।
ভারতের হয়ে ওপেনে নামেন বৈভব সূর্যবংশী (Vaibhav Suryavanshi) ও অ্যারন জর্জ (Aaron George)। শুরু থেকেই আগ্রাসী মেজাজে ছিলেন বৈভব। আলি রাজা (Ali Raza) ও মহম্মদ সাইয়ামের (Mohammad Sayyam) বিরুদ্ধে একের পর এক বাউন্ডারি, এমনকি ছক্কাও হাঁকান। সাত ওভারের মধ্যেই দলের স্কোর পৌঁছে যায় ৪৬/০-তে। কিন্তু সেখানেই ঘুরে যায় ইনিংসের মোড়।
টপ অর্ডার ধাক্কা, পাকিস্তানের কামব্যাক
পাক বাহিনীকে প্রথম ব্রেক এনে দেন মহম্মদ সাইয়াম। বৈভব সূর্যবংশী ৩০ রানে আউট হন, পরের বলেই শূন্য রানে ফেরেন অধিনায়ক আয়ুষ মাত্রে (Ayush Mhatre)। এক ওভারে ভারতের ইনিংস হঠাৎ থমকে যায়। কিছুক্ষণ পর অ্যারন জর্জও (১৬) আউট হলে স্কোরবোর্ডে চাপ বাড়ে।
ভারত ৩ উইকেট ৪৭ রানে হারানোর পর ম্যাচে উত্তাপ দ্বিগুণ হয়। মাঠে কথা-কাটাকাটি, বোলারদের উচ্ছ্বাস—সব মিলিয়ে চ্যালেঞ্জ ক্রমশ চড়তে থাকে। পাকিস্তানের হয়ে আলি হাসান বালুচ (Ali Hassan Baloch) ও আবদুল সুবহান (Abdul Subhan) টাইট লাইন-লেংথে পরীক্ষা নেওয়া শুরু করেন।
বেদান্ত-বিহানের জুটি, ধৈর্যের লড়াই
চাপের মুখে দাঁড়িয়ে ইনিংস সামলানোর দায়িত্ব নেন বেদান্ত ত্রিবেদী (Vedant Trivedi) ও বিহান মালহোত্রা (Vihaan Malhotra)। শুরুতে সাবধানী ব্যাটিং, এক-দুই নিয়ে খেলা—ধীরে ধীরে ম্যাচের রাশ ফেরানোর কাজ শুরু। ২০ ওভারের মাথায় ৫০ রানের জুটি। বেদান্ত এক প্রান্ত আগলে রেখে রানের চাকা এগিয়ে নিয়ে যান। বিহান ২১ রানে আউট হলেও তিনি থামেননি। ক্রিজে নেমে পরিণতি দেখান উইকেটকিপার অভিজ্ঞান কুণ্ডুও (Abhigyan Kundu)। তিনি ১৬ রানে আউট হলেও ততক্ষণে বেদান্ত নিজের অর্ধশতরান পূর্ণ করে ফেলেছেন—৭৪ বলে। পাকিস্তানের বড় ভুলও দেখা দেয় এই সময়। মহম্মদ সাইয়ামের নো-বলে বেঁচে যান অভিজ্ঞান, যদিও পরের দিকে সেই সুযোগ পুরো কাজে লাগানো যায়নি।
শেষ পর্বে ভারতের লক্ষ্য
৩৮ ওভার শেষে স্কোর ১৭২/৫। বেদান্ত ত্রিবেদী শতরানের দিকে এগচ্ছেন, সঙ্গে আর এস অম্বরীশ (RS Ambrish) সঙ্গত দিচ্ছেন। সামনে টার্গেট একটাই—২০০ পেরোনো, যাতে পাকিস্তানের সামনে কঠিন সমীকরণ দাঁড় করানো যায়। এই ম্যাচ শুধু সুপার সিক্সের ফল নয়, মানসিক লড়াইও। এশিয়া কাপ ফাইনালে (U19 Asia Cup Final) হারের স্মৃতি এখনও তাজা। ভারত জিতলে সেমিফাইনাল নিশ্চিত। আর পাকিস্তানের সামনে অঙ্ক কঠিন—জিতলেও বড় ব্যবধানে জিততে হবে!
সব মিলিয়ে বুলাওয়েওতে চলেছে টানটান স্নায়ুযুদ্ধ। টপ অর্ডারের ধাক্কার পর ভারত যেভাবে ঘুরে দাঁড়িয়েছে, সেটাই হয়তো এই ম্যাচের সবচেয়ে বড় বার্তা।