আরও বড় মঞ্চে নিজের রেকর্ড নিজেই ভাঙার স্বপ্ন দেখছেন তিনি। যে কারণে আজ বৈভব সূর্যবংশীর পাশে দাঁড়িয়ে অভিজ্ঞান কুণ্ডু-র নাম।

অভিজ্ঞান কুণ্ডু
শেষ আপডেট: 16 December 2025 15:26
দ্য ওয়াল ব্যুরো: দুবাইয়ের সেভেনস স্টেডিয়ামে মঙ্গলবার সন্ধেটা ইতিহাসের পাতায় ঢুকে গেল। অনূর্ধ্ব-১৯ এশিয়া কাপে (ACC U19 Asia Cup) মালয়েশিয়ার বিরুদ্ধে ব্যাট হাতে যা করে দেখালেন সোদপুরের অভিজ্ঞান কুণ্ডু (Abhigyan Kundu), তা আগে কখনও কোনও ভারতীয় কিশোর পারেননি। ১২৫ বলে ২০৯। ১৭টি চার, ৯টি ছয়। ইয়ুথ ওয়ানডে ক্রিকেটে (Youth ODI) ডবল সেঞ্চুরি করা দ্বিতীয় ব্যাটার—প্রথম ভারতীয় (Abhigyan Kundu Double Century)!
এই ইনিংসের সুবাদে ভেঙে গেল ২৩ বছরের পুরনো এক ভারতীয় রেকর্ডও। ২০০২ সালে ইংল্যান্ডের বিরুদ্ধে আম্বাতি রায়ডুর অপরাজিত ১৭৭ এতদিন ছিল ভারতের সর্বোচ্চ ব্যক্তিগত স্কোর। মালয়েশিয়ার বিরুদ্ধে সেই মাইলফলক অনেক পেছনে ফেলে দিলেন অভিজ্ঞান। তাঁর দাপটে ভারত তুলল ৫০ ওভারে ৭ উইকেটে ৪০৮ রান—টুর্নামেন্টের অন্যতম বড় স্কোর (Abhigyan Kundu Double Century)।
বস্তুত, ক্রিকেটের ময়দানে অভিজ্ঞানের (Abhigyan Kundu Double Century) নামটা নতুন নয়। কিন্তু এই ডবল সেঞ্চুরি তাঁকে এক লাফে আলাদা স্তরে তুলে দিল। চলতি এশিয়া কাপে তিন ম্যাচে ২৬৩ রান। গড় ২৬৩। স্ট্রাইক রেট ১৫১-এর ওপর। সংখ্যাগুলোই বলছে, ব্যাট হাতে আপাতত টুর্নামেন্টের চালকের আসনে তিনি-ই।
খবরের শিরোনামে আসা কিশোর আসলে কে? পুরো নাম অভিজ্ঞান কুণ্ডু (Abhigyan Kundu)। আদি বাড়ি উত্তর ২৪ পরগনার সোদপুরে। তবে বহুদিন ধরেই সপরিবারে থাকেন মুম্বইয়ে। বাবা-মা দু’জনেই টিসিএস-এর কর্মী। বাংলা তেমন সাবলীল নয়, কিন্তু পরিচয়ের শিকড় ভুলে যাননি কখনও। প্রিয় ক্রিকেটার সৌরভ গঙ্গোপাধ্যায় (Sourav Ganguly)। আর এমএস ধোনি (MS Dhoni)। দু’জনের সঙ্গেই একদিন দেখা করার স্বপ্ন দেখেন এই ১৭ বছরের কিশোর।
মুম্বই ক্রিকেট বললেই শিবাজি পার্কের নাম আসে। কিন্তু অভিজ্ঞানের গড়েপিটে ওঠা অন্যত্র। তাঁর পাঠশালা ডিওয়াই পাটিল ক্রিকেট অ্যাকাডেমি (DY Patil Cricket Academy)। সেখানকার গুরুকুলেই ধাপে ধাপে নিজেকে তৈরি করেছেন। উইকেটকিপার-ব্যাটার হিসেবে শুরু। ছোট বয়স থেকেই বলের গতি, বাউন্স, লাইন-লেন্থ পড়ার দক্ষতায় নজর কেড়েছেন কোচেদের।
এই টুর্নামেন্টে তিনি শুধু সংগ্রাহক নন। পাশাপাশি দায়িত্বও সামলাচ্ছেন। ভারত অনূর্ধ্ব-১৯ দলের সহ-অধিনায়ক। মাঠে শান্ত মেজাজ, পরিস্থিতি বোঝার ক্ষমতা আলাদা করে চোখে পড়ে। দিলীপ বেঙ্গসরকর, যিনি মুম্বইয়ের তরুণ ক্রিকেটারদের খুব কাছ থেকে দেখেন, প্রকাশ্যেই জানিয়েছেন—এই বাঙালি কিশোরের মধ্যে ভবিষ্যতের অধিনায়ক হয়ে ওঠার সমস্ত রসদ আছে।
ডবল সেঞ্চুরির পর অভিজ্ঞানের কথাতেই ধরা পড়েছে মানসিকতা। বলেছেন, ‘উইকেট ভালো ছিল। ভাবনা একটাই—দীর্ঘক্ষণ ক্রিজে থাকলে রান আসবেই।’ আরও বড় মঞ্চে নিজের রেকর্ড নিজেই ভাঙার স্বপ্ন দেখছেন তিনি। যে কারণে আজ বৈভব সূর্যবংশীর পাশে দাঁড়িয়ে অভিজ্ঞান কুণ্ডু-র নাম। আজকের ইনিংস বুঝিয়ে দিল—তিনি শুধু হঠাৎ চমক নন। ভারতীয় ক্রিকেটের ভবিষ্যৎ তালিকায় নামটা এবার স্থায়ী মার্কার দিয়ে লিখে রাখাই যায়।