এমনিতে মুম্বই ক্রিকেটের আদি পাঠাশালা শিবাজি পার্ক হলেও সেখানে হাত পাকাননি অভিজ্ঞান। ক্লাস ইলেভেনের এই ছাত্রকে গড়েপিটে তৈরি করেছে মুম্বইয়ের ডিওয়াই পাটিল ক্রিকেট অ্যাকাডেমির গুরুকুল।

অভিজ্ঞান কুণ্ডু
শেষ আপডেট: 21 September 2025 18:49
দ্য ওয়াল ব্যুরো: একেবারে ঝড়ো শুরুয়াত। আর সে ঝড় ডেকে আনলেন এক বাঙালি কিশোর। নাম অভিজ্ঞান কুণ্ডু (Abhigyan Kundu)। আদি বাড়ি সোদপুর। থাকেন মুম্বইয়ে। তাঁর ৭৪ বলে অপরাজিত ৮৭ রানের সুবাদে অনূর্ধ্ব-১৯ একদিনের সিরিজের (India U19 vs Australia U19) প্রথম ম্যাচে দাপট দেখাল টিম ইন্ডিয়া। ব্রিসবেনে কুপোকাত অস্ট্রেলিয়া। ভারত জিতল সাত উইকেটে।
প্রথমে ব্যাট করতে নেমে অজিরা নির্ধারিত ৫০ ওভারে ২২৫ রান তোলে। সেই স্কোর একেবারেই যথেষ্ট ছিল না। বলার মতো রান জন জেমসের (৭৭)। বাকি ব্যাটাররা দাঁড়াতে ব্যর্থ। ভারতের বোলারদের মধ্যে হেনিল প্যাটেল ৩/৩৮, কানিষ্ক চৌহান ২/৩৯, কিশান কুমার ২/৫৯—সবাই পরিচিত ছন্দে।
টার্গেট তাড়া করতে নেমে টিম ইন্ডিয়ার ওপেনার বৈভব সুর্যবংশী ২২ বলে ৩৮ করেন। তারপর আচমকা তিন উইকেট পড়ে যাওয়ায় কিছুটা দিশেহারা দেখায় টিম ইন্ডিয়াকে। যখন মনে হচ্ছে ম্যাচে কামব্যাক করতে পারে ক্যাঙারু ব্রিগেড, ঠিক তখনই রঙ্গমঞ্চে অভিজ্ঞান। সঙ্গী বেদান্ত ত্রিবেদী (Vedant Trivedi)। দু’জন মিলে গড়ে তোলেন ১৫২ রানের পার্টনারশিপ। যাতে দাঁত ফোটানো অজি বোলারদের সাধ্যে কুলোয়নি। বেদান্ত ৬৯ বলে অপরাজিত ৬১। আর অভিজ্ঞান ৭৪ বলে ৮৭, আটটা চার আর পাঁচটা ছয় সমেত। তাঁদের ব্যাটে ভর দিয়ে ৩০.৩ ওভারেই ভারত ২২৭ রান তুলে ছিনিয়ে নেয় সহজ জয়!
দুরন্ত ইনিংসের স্বীকৃতি হিসেবে ‘প্লেয়ার অফ দ্য ম্যাচে’র স্বীকৃতি পেয়েছেন অভিজ্ঞান। সোদপুরে আদি বসত। বাবা-মা দুজনেই টিসিএসে কর্মরত। সপরিবারে দীর্ঘদিন মুম্বইয়ে থাকেন। বাংলা তেমন বলতে না পারলেও অভিজ্ঞানের প্রিয় ক্রিকেটার সৌরভ গঙ্গোপাধ্যায়। আরেক জন এমএস ধোনি। দুজনের সঙ্গে দেখা করাটা বছর সতেরোর কিশোরের অধরা স্বপ্ন।
এমনিতে মুম্বই ক্রিকেটের আদি পাঠাশালা শিবাজি পার্ক হলেও সেখানে হাত পাকাননি অভিজ্ঞান। ক্লাস ইলেভেনের এই ছাত্রকে গড়েপিটে তৈরি করেছে মুম্বইয়ের ডিওয়াই পাটিল ক্রিকেট অ্যাকাডেমির গুরুকুল। কোচও খ্যাতনামা কেউ নন। ছোট থেকেই বলের গতি আর মাপজোক চিনতে শিখে উইকেটকিপার-ব্যাটার হিসেবেই দলে জায়গা পাকা করেছেন। ছিনিয়ে নিয়েছেন সহ-অধিনায়কের দায়িত্বও। দিলীপ বেঙ্গসরকর, মুম্বইয়ের তরুণ ক্রিকেটারদের সঙ্গে যাঁর নিবিড় যোগাযোগ, তিনি অভিজ্ঞানের উজ্জ্বল ভবিষ্যৎ নিয়ে আশাবাদী। বাঙালি কিশোরের মধ্যে আগামী দিনে অধিনায়ক হয়ে ওঠার ভরপুর সম্ভাবনাও লক্ষ্য করেছেন। অস্ট্রেলিয়া সিরিজের প্রথম ম্যাচেই সেই প্রতিভার ঝলক মিলল।