শ্রীলঙ্কা দেখিয়ে দিল, বড় দলকে হারাতে শুধু প্রতিভা নয়, দরকার সঠিক পরিকল্পনা ও বিশ্বাস। দুই প্রাক্তন ভারতীয় কোচের অভিজ্ঞতা, জয়সূর্যের কৌশল আর নিশাঙ্কার ব্যাট—সব মিলিয়ে ঘরের মাঠে অজি-নিধন এক সুসংগঠিত পরিকল্পনার বাস্তবায়ন।

শ্রীধর ও বিক্রম
শেষ আপডেট: 17 February 2026 12:10
দ্য ওয়াল ব্যুরো: অস্ট্রেলিয়াকে হারিয়ে সুপার এইটে উঠল শ্রীলঙ্কা (Sri Lanka)। কিন্তু এই জয়ের নেপথ্যে শুধু পাথুম নিশাঙ্কার (Pathum Nissanka) শতরান বা স্পিনারদের দাপট নয়। সামনে এল আরও গুরুত্বপূর্ণ কারণ। লঙ্কান কোচ সনৎ জয়সূর্য (Sanath Jayasuriya) জানালেন, দলের সাফল্যে কৃতিত্বের দাবিদার দুই প্রাক্তন ভারতীয় কোচ—আর শ্রীধর (R Sridhar) ও বিক্রম রাঠোর (Vikram Rathour)।
‘বিশ্বাস’-ই সবচেয়ে বড় অস্ত্র
ম্যাচের পর জয়সূর্য খোলাখুলি প্রশংসা করেন শ্রীধর ও রাঠোর। প্রথমজন শ্রীলঙ্কা টিমের ফিল্ডিং কোচ, পরের জন ব্যাটিং মেরামতের দায়িত্বে। জয়সূর্যের কথায়, ‘ওরা দু’জনেই দারুণ পেশাদার। অনুশীলনে যা চাই, সেটা ওরা নিখুঁতভাবে করায়। ব্যাটারদের উপর আমরা ভরসা রেখেছি। কখনও কখনও কোচ হিসেবে অস্থিরতা আসে, কিন্তু আত্মবিশ্বাস হারাইনি!’
এই আত্মবিশ্বাসের প্রতিফলন দেখা গেল মাঠে। নিশাঙ্কা শুধু ৫২ বলে ১০০ রানই করেননি, পয়েন্টে দাঁড়িয়ে গ্লেন ম্যাক্সওয়েলের (Glenn Maxwell) সুইচ হিটে দুর্দান্ত ক্যাচও নিয়েছেন। যা অনেকের চোখেই টুর্নামেন্টের সেরা ক্যাচ হতে চলেছে!
স্পিনের ফাঁস, গতি কমানোর ফাঁদ
অস্ট্রেলিয়া (Australia) প্রথম আট ওভারে প্রায় ১০০ রান তুলে ম্যাচের নিয়ন্ত্রণ নিয়ে নেয়। কিন্তু তারপরই বদলে যায় ছবি। জয়সূর্য জানান, ড্রেসিংরুমে স্পষ্ট বার্তা ছিল—গতি কমাও, বলের গতিতে বৈচিত্র্য আনো, পিচের গ্রিপ ব্যবহার করো। মাহেশ থেকশানা (Maheesh Theekshana) সহ বাকি স্পিনাররা সেই পরিকল্পনা নিখুঁতভাবে কাজে লাগান। ডেথ ওভারে অস্ট্রেলিয়ার ইনিংস থামে ১৮১-এ। প্রথম ১৫ ওভারে যেখানে ২০০ ছোঁয়ার ইঙ্গিত ছিল, সেখানে শেষ পাঁচ ওভারে ধস নামিয়ে মোড় ঘুরিয়ে দেয় লঙ্কান বোলিং ইউনিট।
এই পারফরম্যান্স আরও তাৎপর্যপূর্ণ, কারণ দলের দুই প্রধান বোলার—ওয়ানিন্দু হাসারাঙ্গা (Wanindu Hasaranga) ও মাথিশা পাথিরানা (Matheesha Pathirana) চোটের জেরে বাইরে। পাথিরানার হ্যামস্ট্রিং খেলার মাঝপথে সমস্যায় ফেলে দলকে। তবু বোলাররা অজি আগ্রাসনে ঘাবড়ে যাননি।
নিশাঙ্কার শতরান: নিখুঁত পরিকল্পনার ফসল
১৮২ তাড়া করতে নেমে শ্রীলঙ্কা হুরোহুড়ি করেনি। কুশল মেন্ডিসের (Kusal Mendis) সঙ্গে জুটি গড়ে ইনিংস গড়েন নিশাঙ্কা। শট নির্বাচনে ছিল পরিমিতি, গ্যাপ খুঁজে রান নেওয়ার ধৈর্য। যার সুবাদে আট উইকেটের জয় নিশ্চিত করে সুপার এইটে জায়গা পাকা করে লঙ্কানরা।
এই ম্যাচে শ্রীলঙ্কা দেখিয়ে দিল, বড় দলকে হারাতে শুধু প্রতিভা নয়, দরকার সঠিক পরিকল্পনা ও বিশ্বাস। দুই প্রাক্তন ভারতীয় কোচের অভিজ্ঞতা, জয়সূর্যের কৌশল আর নিশাঙ্কার ব্যাট—সব মিলিয়ে ঘরের মাঠে অজি-নিধন এক সুসংগঠিত পরিকল্পনার বাস্তবায়ন। সুপার এইটে উঠে লঙ্কানদের বার্তা পরিষ্কার—শুধুই নক আউট নয়, আসল লক্ষ্য আরও দূরে।