এমন বিরল সাফল্য নিয়ে রশিদের মন্তব্য যদিও যথেষ্ট তাৎপর্যপূর্ণ—‘৭০০ উইকেট নিয়ে কোনও নির্দিষ্ট লক্ষ্য ছিল না। দেশের হয়ে শতভাগ দিই, দল চাইলে উইকেট আসে।’

রশিদ খান
শেষ আপডেট: 16 February 2026 15:46
দ্য ওয়াল ব্যুরো: ২৭ বছর বয়সেই টি-২০ ক্রিকেটের ইতিহাসে নতুন অধ্যায় লিখে ফেললেন রশিদ খান (Rashid Khan)। টি-২০ বিশ্বকাপে (T20 World Cup 2026) সংযুক্ত আরব আমিরশাহির বিরুদ্ধে মাঠে নেমে ৭০০তম উইকেট তুলে বিশ্বের প্রথম বোলার হিসেবে বিরল নজির ছুঁলেন আফগান লেগস্পিনার। যদিও আসল নায়ক আজমতউল্লাহ ওমরজাই (Azmatullah Omarzai)। তাঁর অলরাউন্ড নৈপুণ্যে পাঁচ উইকেটে জয় ছিনিয়ে সুপার এইটের দৌড়ে টিকে রইল আফগানিস্তান (Afghanistan)।
‘সাতশো’র চূড়ায় রশিদ
আজ দিল্লির অরুণ জেটলি স্টেডিয়ামে (Arun Jaitley Stadium) মহম্মদ আরফানকে আউট করে ৭০০তম শিকার রশিদের। এর আগে আমদাবাদে দক্ষিণ আফ্রিকার বিরুদ্ধে ৬৯৮ ও ৬৯৯ নম্বর উইকেট পেয়েছিলেন তিনি। আন্তর্জাতিক, ফ্র্যাঞ্চাইজি ও ঘরোয়া—সব মিলিয়ে টি-২০ ক্রিকেটে রশিদের এই কীর্তি আক্ষরিক অর্থে ‘অ-ভূতপূর্ব’। তালিকায় দ্বিতীয় স্থানে ডোয়েন ব্রাভো (Dwayne Bravo) (৬৩১ উইকেট), তিন নম্বরে সুনীল নারিন (Sunil Narine) (৬১৩)। সব মিলিয়ে টি-২০ আন্তর্জাতিকেও সর্বোচ্চ উইকেটশিকারি রশিদ—১৯১।
এমন বিরল সাফল্য নিয়ে রশিদের মন্তব্য যদিও যথেষ্ট তাৎপর্যপূর্ণ—‘৭০০ উইকেট নিয়ে কোনও নির্দিষ্ট লক্ষ্য ছিল না। দেশের হয়ে শতভাগ দিই, দল চাইলে উইকেট আসে।’
আজমতের ঝলক, লড়াইয়ে আফগানিস্তান
আমিরশাহি প্রথমে ব্যাট করে তোলে ১৬০/৯। সোহাইব খান (Sohaib Khan) উজ্জ্বল ৬৮ রানে। যদিও উল্টোদিকে বল হাতে আজমতউল্লাহ ওমরজাই (Azmatullah Omarzai) একই রকম বিধ্বংসী—৪ উইকেট ছিনিয়ে নেন মাত্র ১৫ রানে। পাশাপাশি রশিদ ও মুজিব উর রহমান (Mujeeb Ur Rahman) চেপে ধরেন মিডল ওভারে।
১৬১ রানের লক্ষ্য তাড়া করতে নেমে আফগান শিবির শুরুতে ধাক্কা খেলেও ইব্রাহিম জাদরানের (Ibrahim Zadran) অর্ধশতরান ও আজমতের ২১ বলে ৪০ রানের ইনিংস ম্যাচ ঘুরিয়ে দেয়। জয় নিশ্চিত হয় ১৯.২ ওভারে।
দক্ষিণ আফ্রিকার বিরুদ্ধে ডাবল সুপার ওভারের নাটকীয় হারের যন্ত্রণা ভুলে এই দাপুটে পারফরম্যান্স আফগানদের চলতি টুর্নামেন্টে প্রথম পয়েন্ট এনে দিল। তবে সুপার এইটে ওঠার রাস্তা এখনও কাঁটায় বিছানো। গ্রুপ ‘ডি’-তে তৃতীয় স্থানে রশিদরা। নেট রান রেট নেতিবাচক। এখন তাদের তাকিয়ে থাকতে হবে কানাডা (Canada) বনাম নিউজিল্যান্ড (New Zealand) ম্যাচের দিকে। কানাডা জিতলে সুযোগ থাকবে, না হলে বিদায় নিশ্চিত।