শ্রীলঙ্কা বোর্ডের নির্দেশ স্পষ্ট—সফর চলবে। নিরাপত্তাজনিত যা কিছু সিদ্ধান্ত, সে সব শুধু তারাই নেবে। খেলোয়াড়দের কেউ চাইলে ফিরতে পারেন, তবে তার ফল তাঁদেরই ভোগ করতে হবে।

পাকিস্তান বনাম শ্রীলঙ্কা
শেষ আপডেট: 13 November 2025 10:43
দ্য ওয়াল ব্যুরো: পাকিস্তান সফরে থাকা শ্রীলঙ্কা দলের অন্দরে আতঙ্ক থামছে না। ইসলামাবাদের ভয়াবহ বিস্ফোরণের পর জাতীয় দলের কয়েকজন সদস্য শ্রীলঙ্কা ক্রিকেট (SLC) বোর্ড-কে জানিয়ে দিয়েছেন—তাঁরা আর পাকিস্তানে থাকতে চান না। নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ এমন পর্যায়ে পৌঁছেছে, যে তাঁরা দেশে ফিরতে প্রস্তুত।
কিন্তু এই পরিস্থিতিতে কড়া অবস্থান নিয়েছে শ্রীলঙ্কা বোর্ড। সরাসরি জানিয়ে দিয়েছে—যে কোনও খেলোয়াড় বা সাপোর্ট স্টাফ যদি সফর মাঝপথে ছেড়ে দেন, তাঁদের বিরুদ্ধে পর্যালোচনা চলবে এবং প্রয়োজনে নেওয়া হবে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা। জারি করা বিবৃতি মোতাবেক, ‘আজ সকালে জানানো হয়েছে, যে পাকিস্তানে সফররত দলের কয়েকজন সদস্য নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ জানিয়ে দেশে ফিরে আসতে চাইছেন। বিষয়টি জানার সঙ্গে সঙ্গেই শ্রীলঙ্কা ক্রিকেট বোর্ড খেলোয়াড়দের সঙ্গে কথা বলে জানিয়েছে, পিসিবি ও সংশ্লিষ্ট দফতরগুলির সঙ্গে মিলিতভাবে সব নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার করা হয়েছে।’
বোর্ডের স্পষ্ট অবস্থান, সূচি মেনেই সফর চলবে। কেউ ফেরত এলে তাঁর আচরণ নিয়ে আনুষ্ঠানিক রিভিউ, প্রয়োজনে নেওয়া হবে উপযুক্ত সিদ্ধান্তও।
এদিকে পাকিস্তানের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী ও পিসিবি চেয়ারম্যান মহসিন নকভি মঙ্গলবার শ্রীলঙ্কার হাই কমিশনারের সঙ্গে বৈঠক করে সফররত দলের নিরাপত্তা পরিস্থিতি বিস্তারিত ব্যাখ্যা করেন। জানান, লঙ্কান দলকে প্রেসিডেন্সিয়াল-লেভেলের নিরাপত্তা দেওয়া হয়েছে—এস্কর্ট, স্পেশাল ফোর্স, ক্লিয়ার রুট—সবই প্রস্তুত।
প্রসঙ্গত, যে বিস্ফোরণ এই আতঙ্কের জন্ম দিয়েছে, তা ঘটেছিল মঙ্গলবার দুপুরে ইসলামাবাদ জেলা আদালতের ঠিক বাইরে। পাকিস্তানি সংবাদমাধ্যম জানাচ্ছে, একটি গাড়িতে থাকা শক্তিশালী বিস্ফোরক থেকে অন্তত ১২ জন নিহত ও ২৫ জনেরও বেশি আহত হয়েছেন। বিস্ফোরণ এতটাই তীব্র ছিল, যে ৬ কিলোমিটার দূর থেকেও শব্দ শোনা গিয়েছে।
এই ঘটনার পর অনেকেরই স্মৃতিতে ফিরে এসেছে ২০০৯ সালের লাহোরের ভয়াবহ সন্ত্রাসি হামলা—যেখানে গুরুতর আহত হয়েছিলেন একাধিক শ্রীলঙ্কার খেলোয়াড়। সেই ঘটনার পর প্রায় এক দশক পাকিস্তানে আন্তর্জাতিক ক্রিকেট কার্যত বন্ধ হয়ে যায়। এমন প্রেক্ষাপটে পাকিস্তান সফরে থাকা শ্রীলঙ্কা দলের স্বাভাবিকভাবেই দুশ্চিন্তা বাড়ছে। পুরো স্কোয়াড এখন ইসলামাবাদেই রয়েছে। বৃহস্পতিবার রাওয়ালপিন্ডিতে দ্বিতীয় ওয়ানডে হওয়ার কথা। প্রথম ম্যাচে পাকিস্তান ছয় রানে জিতেছিল—সলমন আঘা (১০৫*) ও হ্যারিস রউফ (৪/৬১) ছিলেন ম্যাচের নায়ক। কিন্তু মাঠের লড়াইয়ের চাইতে বর্তমানে বড় লড়াই নিরাপত্তা ঘিরে।
এই পরিস্থিতিতে শ্রীলঙ্কা বোর্ডের নির্দেশ স্পষ্ট—সফর চলবে। নিরাপত্তাজনিত যা কিছু সিদ্ধান্ত, সে সব শুধু তারাই নেবে। খেলোয়াড়দের কেউ চাইলে ফিরতে পারেন, তবে তার ফল তাঁদেরই ভোগ করতে হবে।