আজ এত বছর পর সেই একই মানুষকে নতুন চেহারায় দেখে নস্টালজিয়া বুঁদ ক্রিকেট অনুরাগীরা। এক সময়ের ভারী গড়নের অধিনায়ক আজ একদম আলাদা মানুষ। রসিকতা, বিস্ময় আর কিঞ্চিৎ উদ্বেগ ছাপিয়ে স্পটলাইটে নিখাদ নম্বইয়ের নস্টালজিয়া!

অর্জুন রণতুঙ্গা
শেষ আপডেট: 7 November 2025 15:26
দ্য ওয়াল ব্যুরো: কেউ লিখেছেন, ‘দেখে মনে হচ্ছে ২০ বছর বয়স কমেছে!’ কারও চোখে ‘ওঁর কি কিছু হয়েছে?’ ইতিবাচক, নেতিবাচক সমস্ত ধরনের প্রতিক্রিয়া। আর দুইয়ে মিলে অপার বিস্ময়: ‘অর্জুনকে তো চেনাই যাচ্ছে না!’
শ্রীলঙ্কার (Sri Lanka) বিশ্বকাপজয়ী অধিনায়ক রণতুঙ্গা (Arjuna Ranatunga) হঠাৎ এমনভাবে সামনে আসবেন, তা কেউ ভাবেননি। তামিল ইউনিয়নের (Tamil Union) ১২৫ বছর পূর্তি অনুষ্ঠানে হাজির হয়েছিলেন তিনি। পাশে তিন সতীর্থ—সনৎ জয়সূর্য (Sanath Jayasuriya), অরবিন্দ ডি সিলভা (Aravinda de Silva) এবং মুথাইয়া মুরলীধরন (Muttiah Muralitharan)। কিন্তু যা নজর কাড়ল, তা ক্রিকেটারদের আলাপচারিতা নয়—রণতুঙ্গার চেহারার বদল। একদা স্থূলকায় ক্রিকেটার এখন ওজন কমিয়ে প্রায় নির্মেদ। অনেকে চিন্তা জানিয়েছেন, রণতুঙ্গার রোগ করেনি তো? কেউ কেউ জানতে চেয়েছেন ভোলবদলের টোটকা।
একটি ছবিতে দেখা যায়, লাল কুর্তা পরে দাঁড়িয়ে প্রাক্তন অধিনায়ক। মুখে হাসি, দৃশ্যত অনেকটা ওজন কমেছে। সেই ছবিই ভাইরাল সোশ্যাল মিডিয়ায়। বহু পুরনো সমর্থকই প্রথমে তাঁকে চিনতে পারেননি। কেউ লিখেছেন, ‘অসাধারণ লাগছে, দারুণ পরিবর্তন!’ কেউ প্রশ্ন তুলেছেন, ‘ওঁর স্বাস্থ্য ঠিক আছে তো?’
ছবিটি সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করেন স্বয়ং সনৎ জয়সূর্য। ক্যাপশনও ছিল ছিমছাম, নির্বিষ—‘১২৫ বছর পূর্তি উদ্যাপনে পুরনো দিনের বন্ধুরা একসঙ্গে!’ এরপরই সমাজমাধ্যমে ঝড় ওঠে। হাজার হাজার প্রতিক্রিয়া, অনুমান, আবেগ।
৬১ বছর বয়সি রণতুঙ্গা খেলোয়াড়ি জীবন শেষ করেছেন ২০০০ সালে। শেষ ম্যাচ ছিল দক্ষিণ আফ্রিকার (South Africa) বিরুদ্ধে। টেস্ট। এরপরই রাজনীতিতে যোগ দেন তিনি। শ্রীলঙ্কার সংসদ সদস্য হন, পরে মন্ত্রীও। ১৯৯৬ সালে (World Cup 1996) অধিনায়ক হিসেবে তিনি শ্রীলঙ্কাকে এনে দেন প্রথম বিশ্বকাপ। ফাইনালে অস্ট্রেলিয়ার (Australia) বিরুদ্ধে ২৪২ রানের টার্গেট তাড়া করে ২২ বল বাকি থাকতেই সাত উইকেটে জিতে নেয় লঙ্কানরা। সেদিন ৩৭ বলে ৪৭ রানের ঝড়ো ইনিংস খেলেছিলেন অধিনায়ক রণতুঙ্গা।
আজ এত বছর পর সেই একই মানুষকে নতুন চেহারায় দেখে নস্টালজিয়া বুঁদ ক্রিকেট অনুরাগীরা। এক সময়ের ভারী গড়নের অধিনায়ক আজ একদম আলাদা মানুষ। রসিকতা, বিস্ময় আর কিঞ্চিৎ উদ্বেগ ছাপিয়ে স্পটলাইটে নিখাদ নম্বইয়ের নস্টালজিয়া!