ব্যাটিং ব্যর্থতায় পাকিস্তান হেরে গেল ৮৮ রানে। সেই সঙ্গে পাকিস্তানের বিরুদ্ধে ওডিআই ম্যাচে ১০০ শতাংশ ম্যাচে জয়ের ধারা অব্যাহত রাখল ভারতের মহিলা ব্রিগেড।

টিম ইন্ডিয়া
শেষ আপডেট: 5 October 2025 23:14
দ্য ওয়াল ব্যুরো: ভারত যে রবিবাসরীয় কলম্বোয় পাকিস্তানের বিরুদ্ধে মহিলা ওডিআই বিশ্বকাপের ম্যাচে জিতবে, সেটা সহজেই অনুমেয় ছিল। শুধু দেখার ছিল পড়শি দেশের মেয়েরা কতটা লড়াই দিতে পারে। ছেলেরা তবুও লড়াই করে হেরেছিল। আর মেয়েরা করল অসহায় আত্মসমর্পণ। বিশেষত ব্যাটিং ব্যর্থতায় পাকিস্তান হেরে গেল ৮৮ রানে। সেই সঙ্গে পাকিস্তানের বিরুদ্ধে ওডিআই ম্যাচে ১০০ শতাংশ ম্যাচে জয়ের ধারা অব্যাহত রাখল ভারতের মহিলা ব্রিগেড (India Wins)।
প্রবল বৃষ্টির কারণে শনিবার পণ্ড হয়েছিল শ্রীলঙ্কা-অস্ট্রেলিয়া ম্যাচ। এদিন আবহাওয়ার পূর্বাভাষ অনুযায়ী ছিল বৃষ্টির সম্ভাবনা। তাই মহিলাদের একদিনের বিশ্বকাপে (Women’s ODI World Cup) রবিবারের ভারত-পাকিস্তান (India vs Pakistan) ম্যাচ হবে কি না তাই নিয়ে সন্দেহ দেখা দিয়েছিল। তবে, কলম্বোর আকাশের মেঘ রবিবার সেভাবে দেখা যায়নি। টসে জিতে প্রথমে বল করার সিদ্ধান্ত নেন পাকিস্তানের অধিনায়ক ফাতিমা সানা।
তবে ভারতীয় পুরুষ দলের পথ ধরেই এদিন টসের পর পাক অধিনায়ক ফাতিমার সঙ্গে করমর্দন করলেন না ভারতের ক্যাপ্টেন হরমনপ্রীত কউর। টসের পর হরমনপ্রীত বললেন, “বিশ্বকাপের আগে আমরা অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে ভাল সিরিজ খেলেছি। আমরা ইতিবাচক চিন্তা করছি এবং ভাল করার চেষ্টা করছি।”
সদ্য ঘরের মাঠে অস্ট্রেলিয়ার বিরুদ্ধে ভারতীয় ব্যাটাররা দুরন্ত পারফর্ম করেছিলেন। কিন্তু চলতি বিশ্বকাপের প্রথম দুই ম্যাচে ভাল শুরু করেও ইনিংস দীর্ঘায়িত করতে পারলেন না হরমনপ্রীত, স্মৃতিরা। নিয়মিত ব্যবধানে উইকেট পড়ায় ভারত আটকে গেল ২৪৭ রনে। শেষ বেলায় রিচা ঘোষ দুরন্ত খেলে করলেন ২০ বলে ৩৫ রান।
২৪৮ রানের লক্ষ্যমাত্রা সামনে রেখে ব্যাট করতে নেমে প্রথম থেকেই যেন চাপে পড়ে গিয়েছিল পাকিস্তান। প্রথম চার ওভারে মাত্র ৬ রান, যার মধ্যে অতিরিক্ত ছিল তিন। চতুর্থ ওভারের শেষ বলেই পতন হয় প্রথম উইকেটের। ২ রান করে দীপ্তি শর্মার থ্রোয়ে রান আউট হয়ে ফিরে যান মুনিবা আলি। ২০ রানে দ্বিতীয় উইকেটের পতন হয় পাকিস্তানের। ৬ রান করে ক্রান্তি গৌড়ের বলে তাঁর হাতেই ক্যাচ তুলে দিয়ে ফিরে যান সাদাফ শামাস।
২৬ রানে পড়ল পাকিস্তানের তৃতীয় উইকেট। ক্রান্তির শিকার হয়ে ২ রান করে প্যাভিলিয়নে ফিরলেন আলিয়া রিয়াজ। প্রথম ১৫ ওভারে পাকিস্তানের রান ওঠে ৩ উইকেট হারিয়ে মাত্র ৩০। সিদরা আমিন নাতালিয়া পারভেজকে নিয়ে রুখে দাঁড়ানোর চেষ্টা করেন। নিজের প্রথম স্পেলে ৭ ওভারে ১২ রান দিয়ে দুই উইকেট নিয়েছিলেন ক্রান্তি। দ্বিতীয় স্পেল করতে এসেই ৬৯ রানের জুটি ভেঙে নাতালিয়া পারভেজকে (৪৬ বলে ৩৩ রান) ফেরালেন তিনি। ১০ ওভারে মাত্র ২০ রান দিয়ে ক্রান্তি নিয়েছেন তিনটি উইকেট।
পাকিস্তানের পঞ্চম উইকেটের পতন হল ১০২ রানে। মাত্র ২ রান করে দীপ্তি শর্মার বলে স্মৃতি মান্ধানার হাতে ক্যাচ তুলে ফিরলেন পাকিস্তানের অধিনায়ক ফাতিমা সানা। ৮২ বলে নিজের অর্ধশতক পূর্ণ করলেন সিদরা আমিন। ম্যাচে দুরন্ত খেললেও আমিনের ইনিংস দাম পেল না বাকি ব্যাটারদের ব্যর্থতায়। ১৪৩ রানে ষষ্ঠ উইকেটের পতনের পর পাকিস্তান সপ্তম উইকেট হারায় ১৪৬ রানে। অবশেষে স্নেহ রানার বলে হরমনপ্রীতের হাতে ক্যাচ তুলে ১০৬ বলে ৮১ রান করে প্যাভিলিয়নে ফেরেন আমিন। তাঁর ইনিংসে ছিল ৯টি চার ও একটি ছক্কা।
এরপর আর দীর্ঘায়িত হয়নি পাকিস্তানের ইনিংস। দিয়ানা বেগের রান আউটের পর সাইদা ইকবালকে আউট করে নিজের তৃতীয় উইকেটটি তুলে নিলেন দীপ্তি। ৪৩ ওভারে ১৫৯ রানে থামল পাকিস্তানের ইনিংস।
এদিনও ভারতের পক্ষে শুরুটা ভালই করেছিলেন স্মৃতি মান্ধানা ও প্রতিকা রাওয়াল। কিন্তু দলীয় ৪৮ রানে প্রথম উইকেটের পতন হয় ভারতের। ৩২ বলে ২৩ রান করে পাক অধিনায়ক ফাতিমা সানার বলে আউট হয়ে ফিরে যান স্মৃতি। এরপর হারলিন দেওলকে নিয়ে ভালই এগোচ্ছিলেন প্রতিকা। কিন্তু তিনিও ৩৭ বলে ৩১ রান করে সাদিয়া ইকবালের শিকার হন। ১৮ ওভার শেষে ভারতের রান দাঁড়ায় দুই উইকেট হারিয়ে ৭৭। ভারতের ১০০ রান উঠল ২১.৫ ওভারে।
উইকেটে বেশিক্ষণ থাকতে পারলেন না ভারত অধিনায়ক হরমনপ্রীতও। ৩৪ বলে ১৯ রান করে ডায়না বেগের বলে আউট হন তিনি, দলের রান তখন ১০৬। এই সময় ভারত কিছুটা চাপে পড়ে গেলেও জেমাইমা রড্রিগেজ নেমেই পাল্টা দিতে শুরু করেন। ভারতের ১৫০ রান উঠল ৩২.২ ওভারে। এরপর মাত্র এক রান যোগ হতেই ৪৬ রান করে রামিন শামিমের বলে আউট হয়ে ফিরলেন হারলিন দেওল। তাঁর ৬৫ বলের ইনিংসে ছিল চারটি চার ও একটি ছক্কা। হারলিন ও জেমাইমার জুটিতে উঠল ৪৫ রান।
৩৪তম ওভারের শেষ বলে ৩২ রান করে ফিরলেন জেমাইমা, দলের রান তখন ১৫৯। তাঁকে আউট করলেন নাশারা সান্ধু। তবে এরপর ধীরে-সুস্থে দলের রানকে এগিয়ে নিয়ে যেতে থাকেন দীপ্তি শর্মা ও স্নেহ রানা। ৪৪.১ ওভারে দলের রান ২০০ পার করে দেয় এই জুটি।
২০১ রানে ভারতের ষষ্ঠ উইকেটের পতন হয়। ৩৩ বলে ২০ রান করে পাক অধিনায়ক ফাতিমার দ্বিতীয় শিকারে পরিণত হন স্নেহ রানা। এরপরেই দীপ্তিকে (৩৩ বলে ২৫) আউট করে নিজের দ্বিতীয় উইকেটটি তুলে নেন দিয়ানা বেগ। ২০৩ রানে সপ্তম উইকেট হারায় ভারত। ২২৬ রানে পতন হয় ভারতের অষ্টম উইকেটের। ১ রান করে সাদিয়া ইকবালের শিকার হন শ্রী চারাণি।
শেষ বেলায় ঝড় তুলে ২০ বলে ৩৫ রান করে ভারতকে ভদ্রস্থ স্কোরে পৌঁছে দিলেন রিচা ঘোষ। ভারত ৫০ ওভারে করল ৯ উইকেট হারিয়ে ২৪৭ রান। বাংলার এই উইকেটরক্ষক-ব্যাটার এদিন হাঁকিয়েছেন তিনটি চার ও দুটি ছক্কা।