ভারতের হয়ে তিন ফরম্যাটেই সফল। যদিও শেষ ক’মাস ধরে দলে জায়গা করে নিতে হিমশিম খাচ্ছেন। শরীরের সঙ্গে লড়াই, চোটের ধকল, আবার সমাজমাধ্যমে আক্রমণ—সব মিলিয়ে সামির জীবনে উথালপাথালময় অধ্যায় চলছে।

মহম্মদ সামি
শেষ আপডেট: 28 August 2025 10:30
দ্য ওয়াল ব্যুরো: ৪ মার্চ, ২০২৫। চ্যাম্পিয়ন ট্রফির (Champions Trophy) সেমিফাইনাল, দুবাইয়ের ময়দান। মুখোমুখি ভারত-অস্ট্রেলিয়া (India vs Australia)। বাউন্ডারির ধারে দাঁড়িয়ে ফিল্ডিং করছিলেন মহম্মদ সামি (Mohammed Shami)। প্রবল গরম থেকে রেহাই পেতে বারকয়েক এনার্জি ড্রিঙ্ক খান (Energy Drink)। ক্যামেরায় সেই দৃশ্য ধরা পড়ে। আর তারপর সমাজমাধ্যমের একাংশ রে রে করে ওঠে (Mohammed Shami Energy Drink Controversy)। কী করে রমজানের মাসে এভাবে নিয়মভঙ্গ করলেন সামি? রাখলেন না রোজা?—প্রশ্ন তোলেন অল ইন্ডিয়া মুসলিম জামাতের সভাপতি মৌলানা শাহাবুদ্দিন। সুরে সুর মেলান আরও অনেকে।
এই নিয়ে এবার স্পষ্ট করে মুখ খুললেন ভারতীয় পেসার। সামির কথায়, ‘আমরা যখন ৪২-৪৫ ডিগ্রির মধ্যে খেলি, তখন এক অর্থে নিজেদেরই উৎসর্গ করি। দেশসেবার জন্য, যাত্রাপথে থাকলে বা বিশেষ পরিস্থিতিতে রোজা না রাখার অনুমতি কোরানে রয়েছে। সাধারণ মানুষের এগুলো বোঝা উচিত। আমি জানি, অনেকেই আমাদের রোল মডেল মনে করেন। কিন্তু মাথায় রাখা জরুরি, আমরা কার জন্য কী করছি। আমাদের ধর্মে এই ব্যতিক্রম মেনে নেওয়া হয়। পরে তার জন্য ক্ষতিপূরণ দেওয়া যায়। আমি সেটাই করেছি!’
অভিজ্ঞ স্পিডস্টার মহম্মদ সামি ময়দানি পারফরম্যান্সের জন্য যতটা আলোচিত, মাঠের বাইরে সোশ্যাল মিডিয়ায় সমালোচনার শিকার হয়েছেন তার চেয়ে অনেক বেশি। টিম ইন্ডিয়ার হয়ে প্রতিটি ফরম্যাটে সাফল্য এনে দেওয়ার পরও বারবার তাঁকে ব্যক্তিগত জীবন আর সিদ্ধান্তের জন্য কাঠগড়ায় দাঁড়াতে হয়েছে। কীভাবে এই আক্রমণ সামলান? সাম্প্রতিক একটি সাক্ষাৎকারে সে কথাই মেলে ধরেছেন।
সামির সাফ জবাব, এসব নিয়ে আর বিচলিত নন। ট্রোলারদের মন্তব্য পড়েন না। আর সেই কারণেই মানসিকভাবে মুক্ত থাকতে পারেন। বলেছেন, ‘কিছু মানুষ শুধু আলোচনায় আসতে চায়। আমি কোনওদিন সোশ্যাল মিডিয়ার কমেন্ট পড়ি না। আমার টিমই অ্যাকাউন্ট চালায়!’
ভারতের হয়ে তিন ফরম্যাটেই সফল। যদিও শেষ ক’মাস ধরে দলে জায়গা করে নিতে হিমশিম খাচ্ছেন। শরীরের সঙ্গে লড়াই, চোটের ধকল, আবার সমাজমাধ্যমে আক্রমণ—সব মিলিয়ে সামির জীবনে উথালপাথালময় অধ্যায় চলছে। তবু শান্ত গলায়, মাপা জবাবে শামির বার্তা স্পষ্ট—মাঠে দেশের জন্য খেলতে নেমে, বিশ্বাসের সঙ্গে বাস্তবতার সমন্বয় করা প্রয়োজন। তিনি সেইটুকুই পালন করেছেন।