দু’দিনে টেস্ট শেষ হওয়ায় খেলার ভবিষ্যৎ নিয়ে আলোচনার পাশাপাশি সরাসরি আঘাত পড়ল ক্রিকেট অস্ট্রেলিয়ার হিসেবখাতায়—যার ক্ষত মেরামত খুব সহজে হওয়ার সম্ভাবনা প্রায় নেই বললেই চলে।
.jpeg.webp)
নায়ক ট্র্যাভিস হেড
শেষ আপডেট: 23 November 2025 11:49
দ্য ওয়াল ব্যুরো: পার্থে অ্যাশেজের প্রথম টেস্ট দু’দিনেই শেষ হওয়ায় বিপাকে ক্রিকেট অস্ট্রেলিয়া (Cricket Australia)। নির্ধারিত তৃতীয় ও চতুর্থ দিনের টিকিট বিক্রি থেকে যে আয়ের হিসেব ছিল, তা এক ধাক্কায় উধাও। হিসাবমাফিক ক্ষতি ৩০ লাখ মার্কিন ডলার—ভারতীয় মুদ্রায় যা প্রায় ২৫ কোটি টাকা!
পার্থ টেস্টে রানের ঝড়, দ্রুতলয়ে ব্যাটিং এবং তড়িঘড়ি উইকেট পতন—সব মিলিয়ে দ্বিতীয় দিনের শেষেই লড়াই খতম। ট্র্যাভিস হেডের (Travis Head) সেঞ্চুরি এবং ইংল্যান্ডের আক্রমণাত্মক পরিকল্পনা ম্যাচকে দ্রুত সমাপ্তির পথে এগিয়ে দেয়। যে কারণে অস্ট্রেলিয়ার বোর্ডের আর্থিক উদ্বেগ একধাক্কায় বহু গুণ বেড়েছে।
প্রধান কারণ, রিফান্ড। নিয়ম অনুযায়ী, যাঁরা তৃতীয় বা চতুর্থ দিনের সিঙ্গল–ডে টিকিট কিনেছিলেন, তাঁদের পুরো অর্থ ফেরত দিতে হবে। এই রিফান্ডের টাকা লোকসান বাড়িয়েছে। প্রথম দুই দিনে দর্শকসংখ্যা রেকর্ড—১ লক্ষের গণ্ডি ছাড়ায়। শুক্রবার ৫১ হাজার এবং শনিবার ৪৯ হাজার। গ্রাফ নামলেও টেস্টের নিরিখে সমাগম মন্দ নয়! কিন্তু বাকি দু’দিনের টিকিট বিক্রি থেকে যে সার্বিক আয়ের আশা ছিল, তা আর না মেলায় ক্ষতির মাত্রা চড়েছে।
এই সুর শোনা গেল টেস্টের নায়ক ট্র্যাভিস হেডের কথায়। ম্যাচ শেষে বললেন, ‘দু’দিন দারুণ কেটেছে। তবে যাঁরা কাল আসতে পারতেন, তাঁদের জন্য খারাপ লাগছে। স্টেডিয়াম কালও প্রায় ভর্তি থাকত।’
ক্রিকেট অস্ট্রেলিয়ার সিইও টড গ্রিনবার্গের (Todd Greenberg) মন্তব্য, ‘এর প্রভাব বিভিন্ন দিকে পড়তে চলেছে। সম্প্রচারকারী সংস্থা, টিকিট বিক্রি, পার্টনার, স্পনসর—সব ক্ষেত্রেই বড়সড় অর্থনৈতিক আঘাত।’মোদ্দা দাবি, অ্যাশেজের মতো সিরিজ আগেভাগে শেষ হলে আর্থিক হিসেব এলোমেলো হয়ে যায়। লোকসান এড়ানো যায় না।
সম্প্রতি ক্রিকেট অস্ট্রেলিয়া বার্ষিক সাধারণ সভায় জানিয়েছিল, গত অর্থবর্ষে তাদের লোকসান হয়েছে ১.৩ কোটি অস্ট্রেলিয়ান ডলার—ভারতীয় মুদ্রায় প্রায় ৭২ কোটি টাকা। ক্রিকেট ভিক্টোরিয়ার চেয়ারম্যান রস হেপবার্ন (Ross Hepburn) এহেন লোকসানের তীব্র সমালোচনা করেন। ভারত সফর–সহ ব্যস্ত সিজন থাকা সত্ত্বেও এত বড় ক্ষতি হওয়ায় প্রশ্ন উঠেছিল সংস্থার আর্থিক পরিকল্পনা নিয়ে।
অবশ্য বোর্ড চেয়ারম্যান মাইক বেয়ার্ডের (Mike Baird) সাফ কথা, সাদা বলের ক্রিকেট ও টেস্ট আলাদা অর্থবর্ষে পড়ায় হিসেবটা ‘বিকৃত’ দেখাচ্ছে। বলেন, ‘একই আর্থিক বছরে হলে ফলাফল অন্যরকম হত!’ যদিও মাঠের আর্থিক ক্ষতি চিন্তার। ব্রডকাস্ট রেটিংস ছিল চোখে পড়ার মতো। ফক্সটেল জানিয়েছে, প্রথম দিনের সম্প্রচার তাদের ইতিহাসে সবচেয়ে বেশি দেখা প্রথম টেস্ট–ডে। সেভেন নেটওয়ার্কেও ভিউয়ারশিপ সমান শক্তিশালী।
সব মিলিয়ে, দু’দিনে টেস্ট শেষ হওয়ায় খেলার ভবিষ্যৎ নিয়ে আলোচনার পাশাপাশি সরাসরি আঘাত পড়ল ক্রিকেট অস্ট্রেলিয়ার হিসেবখাতায়—যার ক্ষত মেরামত খুব সহজে হওয়ার সম্ভাবনা প্রায় নেই বললেই চলে।