পার্থের বাইশ গজে ছিল বাড়তি গতি আর বাউন্স। যা দুই দলের পেসাররা পুরোপুরি কাজে লাগিয়েছেন। প্রথম দিনের শেষে ম্যাচ দাঁড়িয়ে সমানে–সমানে। দ্বিতীয় দিন কে ছন্দ ধরে রাখবে—সেই দিকেই এখন নজর।

টিম ইংল্যান্ড
শেষ আপডেট: 21 November 2025 16:33
দ্য ওয়াল ব্যুরো: পার্থে অ্যাশেজের প্রথম দিন যা হল, তা বিরল। একদিনে পড়ল ১৯ উইকেট—গত ১০০ বছরে অ্যাশেজের প্রথম দিনে এমন নজির নেই। দুই দলের দাপট মুহূর্তে মুহূর্তে পাল্টাল—অস্ট্রেলিয়ার মিচেল স্টার্ক (Mitchell Starc) নিলেন ৭ উইকেট, ইংল্যান্ডের অধিনায়ক বেন স্টোকস (Ben Stokes) প্রত্যাঘাত ছুড়লেন ৫ উইকেট ছিনিয়ে। আর এতেই ম্যাচ দিনের গোড়ায় বেঁধে দিল রুদ্ধশ্বাস, টানটান লড়াইয়ের সুর।
শুরুটা ছিল ইংল্যান্ডের। স্টোকস টস জিতে ব্যাট করতে চেয়েছিলেন। টার্গেট: দ্রুত ছন্দ গড়ে তোলা। কিন্তু স্টার্ক সেই পরিকল্পনা প্রথম ওভারেই ভেস্তে দেন। ছ’নম্বর বলেই ফিরিয়ে দেন জ্যাক ক্রলিকে (Zak Crawley)। ক্রলির ড্রাইভে ব্যাটের বাইরের ধার ছুঁয়ে বল চলে যায় উসমান খোয়াজার হাতে।
বাজবলের চাল ধরে রেখে চারটি চার মেরে লড়াই জমিয়ে দেন বেন ডাকেট (Ben Duckett)। কিন্তু সেটা বেশিক্ষণ চলতে দেননি স্টার্ক—এলবিডব্লিউ করে ভেঙে দেন জুটি। এর পরেই ময়দানে নামেন জো রুট (Joe Root)। অস্ট্রেলিয়ার মাটিতে রান–খরার পর ফিরতে চেয়েছিলেন বড় ইনিংসে। কিন্তু সাত বলে শেষ—থার্ড স্লিপে ক্যাচ দিয়ে ফেরেন শূন্য রানে।
দলকে টেনে ধরতে চান ওলি পোপ (Ollie Pope) ও হ্যারি ব্রুক (Harry Brook)। দু’জন মিলিয়ে ৬৭ বলে তোলেন ৫৫ রান। কিছুক্ষণের জন্য বাজবল গতি ফিরে পেয়েছিল। কিন্তু ক্যামেরন গ্রিন এসে পোপকে আউট করেন। স্টার্ক ফিরেই বোল্ড করেন স্টোকসকে। মোট ১১৫ রানে পড়ে ইংল্যান্ডের পাঁচ নম্বর উইকেট।
চেষ্টা চালান ব্রুক। সঙ্গতে জেমি স্মিথ (Jamie Smith)। ৩০ বলে ৪৫ রান যোগ হয়। ডগেট (Brendan Doggett) এসে ব্রুককে সাজঘরে পাঠান—এটাই তাঁর প্রথম টেস্ট উইকেট। আরও একবার আঘাত হানেন কার্সকে ফিরিয়ে। শেষে স্টার্ক শেষ ঝটকায় ইংল্যান্ডকে ১৭২–তে গুটিয়ে দেন। তাঁর বোলিং ফিগার ৭/৫৮।
জবাবে অস্ট্রেলিয়ার শুরুও একই রকম খারাপ। স্টোকস স্টার্কের কায়দায় একা হাতে ধস নামান। ২৩ রানে ৫ উইকেট—অসাধারণ স্পেল। দিনের শেষে অস্ট্রেলিয়া ১২৩/৯। পিছিয়ে ৪৯ রানে।
পার্থের বাইশ গজে ছিল বাড়তি গতি আর বাউন্স। যা দুই দলের পেসাররা পুরোপুরি কাজে লাগিয়েছেন। প্রথম দিনের শেষে ম্যাচ দাঁড়িয়ে সমানে–সমানে। দ্বিতীয় দিন কে ছন্দ ধরে রাখবে—সেই দিকেই এখন নজর।