আমূল কিছু না বদলালে বাজবলের টোটকা যে মোটেও সুবিধে করতে পারবে না—এটা স্পষ্ট করে দিল মিচেল স্টার্কের আগুনে স্পেল।
.jpeg.webp)
মিচেল স্টার্ক
শেষ আপডেট: 21 November 2025 12:33
দ্য ওয়াল ব্যুরো: বাজবল নিয়ে রব উঠেছিল অনেক। পার্থে অ্যাশেজের প্রথম টেস্টের পয়লা দিনেই তা পালটাল ‘গেল গেল রবে’!
ইংল্যান্ডের ট্রেডমার্ক আক্রমণাত্মক রণকৌশলের থোঁতা মুখ ভোঁতা করলেন মিচেল স্টার্ক। ইনিংসের শুরু থেকে শেষ পর্যন্ত অস্ট্রেলিয়ার আক্রমণের মূল স্তম্ভ। প্রথম দিনে একাই নিলেন ৭ উইকেট, আর ইংল্যান্ড গুটিয়ে গেল মাত্র ১৭২ রানে—মাত্র ৩২.৫ ওভারে!
টস জিতে ইংরেজ বাহিনী ব্যাটিং নিতে চেয়েছিল শুরুতেই, ব্যাট হাতে আধিপত্য দেখাতে। এমনিতেই বাজবলের দর্শন মেনে ইংল্যান্ড চায় চতুর্থ ইনিংসে ব্যাট করতে। কিন্তু বল বাইশ গজে বাউন্স খেতে দ্রুতই বোঝা গেল স্টার্কের (Mitchell Starc) সামনে কোনও পরিকল্পনাই কাজে লাগছে না। প্রথম ওভারে জাক ক্রলি (Zak Crawley) শূন্য রানে ফিরে গেলে ইংল্যান্ডের পতন শুরু। লেন্থ বল বাইরে বেরোচ্ছিল—ক্রলির ব্যাটের কানায় লেগে বল চলে যায় উসমান খোয়াজার হাতে।
এরপর ২১ রানে বেন ডাকেট (Ben Duckett) এলবিডব্লিউ, ৩৩ রানের জুটি ভাঙার সঙ্গে সঙ্গে ইংল্যান্ডের টপ অর্ডারের ভিত নড়ে যায়। স্টার্কের বল নতুন অবস্থায় যত দেরি সুইং করছিল, ইংল্যান্ড ব্যাটাররা তত বেশি করে অস্বস্তিতে পড়ছিলেন।
জো রুটকে (Joe Root) শূন্য রানে ফেরানোর সুবাদে আসে সবচেয়ে বড় আঘাত। ‘অ্যাভারেজ জো’—অস্ট্রেলিয়ার এক ট্যাবলয়েডের কটাক্ষের পর সেই তকমা ঝেড়ে ফেলতে পারেননি রুট। ইন-সুইং-এ পুরোপুরি পরাস্ত হন। অ্যাশেজে অস্ট্রেলিয়ার মাটিতে ব্যর্থতার পরিসংখ্যান আরও বাড়ল—এ দেশে ইংরেজ ব্যাটারের গড় মাত্র ৩৪.৩০।
মিডল অর্ডারে নেমে হ্যারি ব্রুক (Harry Brook) অর্ধশতরান হাঁকিয়ে পরিস্থিতি সামলানোর চেষ্টা করেছিলেন, সঙ্গে ওলি পোপ (Ollie Pope) ও জেমি স্মিথও (Jamie Smith) তিরিশের ঘরে পৌঁছেছিলেন। কিন্তু ঠিক তখনই ব্যাটিং লাইন আপ হুড়মুড়িয়ে ভেঙে পড়লল, সবচেয়ে বাজে কায়দায়! শেষ পাঁচ উইকেট পড়ল মাত্র ১২ রানে—পুরো ব্যাটিং লাইন-আপ বিধ্বস্ত, চরম ব্যর্থ।
প্যাট কামিন্স ও জশ হেজেলউড না থাকায় স্টার্কের দায়িত্ব ছিল অনেক বেশি। সেই চাপ তিনি সামলালেন অভিজ্ঞতার জোরে। শুধু প্রথম সেশনে ১২ ওভার বল করে নিলেন ৫ উইকেট। পরে সেই সংখ্যা দাঁড়ায় ৭–এ (৭/৫৮)।
অপ্টাস স্টেডিয়ামের পিচে গতি ও বাউন্স ছিল যথেষ্ট। স্টার্ক সেই সব সুবিধা কাজে লাগিয়ে ইংল্যান্ড ব্যাটারদের ক্রমাগত চাপে রেখেছিলেন। বলের লাইন–লেংথ এতটাই ধারাবাহিক ছিল, যে কোনও পর্যায়েই ইংল্যান্ড আক্রমণাত্মক হওয়ার পথ খুঁজে পায়নি।
প্রথম দিন শেষে অ্যাশেজের প্রথম টেস্টে অ্যাডভান্টেজ অস্ট্রেলিয়া। আমূল কিছু না বদলালে বাজবলের টোটকা যে মোটেও সুবিধে করতে পারবে না—এটা স্পষ্ট করে দিল মিচেল স্টার্কের আগুনে স্পেল।