অ্যাশেজের আগে পন্টিংয়ের মন্তব্য শুধু বিশ্লেষণ নয়—মাইন্ড গেমও বটে। এবার দেখার, ইংল্যান্ড মাঠে কীভাবে জবাব দেয়।

ছবি: গুগল
শেষ আপডেট: 19 November 2025 12:28
দ্য ওয়াল ব্যুরো: ইংল্যান্ডের বাজবল (Bazball) নিয়ে তীব্র কটাক্ষ ছুড়লেন রিকি পন্টিং (Ricky Ponting)। তাঁর দাবি, ব্রেন্ডন ম্যাককালাম ও বেন স্টোকসের আক্রমণাত্মক ক্রিকেটের মূল লক্ষ্য মাত্র একটিই—অস্ট্রেলিয়ার মাটিতে অ্যাশেজ (Ashes) জেতা। দুই বছর ধরে ইংল্যান্ড যাকে টেস্ট ক্রিকেটের ‘বিপ্লব’ বলে তুলে ধরছে, পন্টিংয়ের মতে, তা মূলত অস্ট্রেলিয়ার কন্ডিশন লক্ষ্য করেই তৈরি পরিকল্পনা।
অতিসম্প্রতি একটি সাক্ষাৎকারে অস্ট্রেলিয়ার প্রাক্তন অধিনায়ক বলেন, ‘ওরা দুই বছর ধরে একই দল গড়ে তুলছে। বাজবল, আমার নজরে, শুধুই এই এক সিরিজের জন্য বানানো। আগের দু’বছরের কথাবার্তা ভুলে যান। সবটাই ছিল আসলে অস্ট্রেলিয়ায় ম্যাচ জেতার মতো দল ও স্টাইল তৈরি করার লক্ষ্য!’
তিনি আরও জানান, গত ২৫ বছরে ইংল্যান্ড মাত্র চারবার অস্ট্রেলিয়ায় অ্যাশেজ টেস্ট জিতেছে। ফলে ইংরেজ বাহিনী মাঠের লড়াই শুরুর আগে ‘ঐতিহাসিক’ভাবেই ব্যাকফুটে!
পন্টিংয়ের মতে, ২০২২ সালে ম্যাককালাম দায়িত্ব নেওয়ার পর ইংল্যান্ড আরও বেশি বেপরোয়া ক্রিকেট খেলত। অদ্ভুত শট, অস্বাভাবিক আক্রমণ—সবকিছুই ছিল ‘চরম আক্রমণাত্মক’। কিন্তু ২০২৩ অ্যাশেজে জিততে না পারার জেরে সেই পন্থায় বদল এসেছে। বলেন, ‘শুরুতে বাজবল অনেক বেশি অনিয়ন্ত্রিত ছিল। এখন পরিস্থিতি চিনে খেলছে। জো রুট আগের মতো ঝুঁকি নিচ্ছে না, স্টোকসও একটু থিতু হয়েছে। তবে ওপেনাররা আজও বাজবলের মূল চরিত্র।’
অস্ট্রেলিয়ার বিরুদ্ধে স্বভাবসিদ্ধ তীব্রতা বজায় রাখবে ইংল্যান্ড। এমনটাই মত পন্টিংয়ের। ২০২৩ অ্যাশেজের প্রথম বলে জ্যাক ক্রলি কভার দিয়ে চার মেরেছিলেন। প্রাক্তন অজি ক্রিকেটার মনে করেন, এ বারও ঠিক একইভাবে আক্রমণ শানাবে ইংল্যান্ড। তাঁর কথায়, ‘ডাকেট–ক্রলি নিজেদের মতোই খেলবে। টস জিতলে ইংল্যান্ড আগে বোলিং নেবে, পরে চতুর্থ ইনিংসে বেশি রান করে ম্যাচ জেতার প্ল্যান করবে। এতদিন যেভাবে খেলেছে, তা থেকে সরে আসার সুযোগও নেই!’
পন্টিংয়ের মতে, এই ‘অতিমাত্রায় পূর্বানুমেয়’ স্টাইলই অস্ট্রেলিয়ার জন্য বড় সুযোগ—ফিল্ডে নানা কৌশল সাজিয়ে ইংল্যান্ডের ব্যাটারদের সেই আক্রমণাত্মক মনোভাবকেই ফাঁদে পরিণত করা যেতে পারে। পাশাপাশি তিনি অভিযোগ করেন, ইংল্যান্ডের ক্রিকেটাররা মিডিয়ার সামনে বাজবলের ব্যর্থতা ঢাকতেই আলগা কথাবার্তা বলে চলেন। পন্টিংয়ের মন্তব্য, ‘ওরা বলে হেরে গেলে কিছু আসে-যায় না। সম্পূর্ণ বাজে কথা। কেউই এমন মানসিকতা নিয়ে খেলে না!’ তাঁর চোখে, অস্ট্রেলিয়ার চ্যাম্পিয়ন দল যেমন নিজেদের ভুল নিয়ে সৎ ছিল, ইংল্যান্ডের পাবলিক মেসেজিং-এ সেই সততা নেই। বলেছেন, ‘ওরা একদিন ১০০-তে অল আউট হবে, পরের দিন বলবে আরও আক্রমণ হানাবে। ঠিক আছে, দেখা যাক!’
সব মিলিয়ে, অ্যাশেজের আগে পন্টিংয়ের মন্তব্য শুধু বিশ্লেষণ নয়—মাইন্ড গেমও বটে। এবার দেখার, ইংল্যান্ড মাঠে কীভাবে জবাব দেয়।