মাত্র ১১ দিনের ক্রিকেটে অ্যাশেজ হাতছাড়া হওয়ার পর ইংল্যান্ডের সামনে হয়তো সবচেয়ে কঠিন লড়াইটা মাঠে নয়—নিজেদের দর্শনের বিরুদ্ধে।

দ্য অ্যাশেজ
শেষ আপডেট: 21 December 2025 10:39
দ্য ওয়াল ব্যুরো: অ্যাডিলেডে আরও একবার ভেঙে পড়ল ইংল্যান্ড (England)। চতুর্থ দিনের শেষে যেখানে একটু হলেও আশা ছিল, পঞ্চম দিনের সকালে সবটা মিলিয়ে গেল মুহূর্তের মধ্যে। ফল—মাত্র ১১ দিনের ক্রিকেটেই ২০২৫–২৬ অ্যাশেজ (Ashes 2025–26) নিজেদের করে নিল অস্ট্রেলিয়া। ৩–০ ব্যবধানে এগিয়ে থেকে সিরিজ জিতল প্যাট কামিন্সের (Pat Cummins) দল। আর ইংল্যান্ড (Bazball)? আরও এক ব্যর্থতার সাক্ষী রইল বেন স্টোকসদের (Ben Stokes) প্রজন্ম।
শেষ দিনের ধস
চার উইকেট হাতে নিয়ে ম্যাচ বাঁচানোর লড়াইয়ে নেমেছিল ইংল্যান্ড। উইকেট ব্যাটিংয়ের পক্ষে। নাথান লায়ন (Nathan Lyon) চোটের কারণে বাইরে। ম্যাচ বাঁচানোর এর চেয়ে ভালো সুযোগ আর কী হতে পারে? কিন্তু হাতে পাওয়া চোদ্দো আনা নিজেরাই নষ্ট করল স্টোকস বাহিনী। জেমি স্মিথ (Jamie Smith) ও উইল জ্যাকস (Will Jacks) প্রায় ৫০ ওভার ধরে অস্ট্রেলিয়াকে আটকে রেখেছিলেন। বল পুরনো হচ্ছিল। পেসারদের দাপট কমছিল। ঠিক তখনই এল সেই মুহূর্ত—যা ঘুরিয়ে দিল গোটা ম্যাচের মোড়।
আত্মঘাতী বাজবল?
গতকাল মিচেল স্টার্কের (Mitchell Starc) নতুন বলে টানা দু’টি বাউন্ডারি মারার পর, কোনও কারণ ছাড়াই তৃতীয়টি মারতে গিয়ে আকাশে তুলে দিলেন জেমি স্মিথ। মিড উইকেটে সহজ ক্যাচ। তার আগে পর্যন্ত স্কোরবোর্ডে ইংল্যান্ডের স্বপ্ন বেঁচেছিল। কিন্তু এই একটি শটেই সব শেষ। সাত উইকেট পড়ে যাওয়ার পর ইংল্যান্ডের ইনিংস মুড়িয়ে গেল নিমেষে। সোশ্যাল মিডিয়ায় ক্ষোভ উগরে দিল সমর্থকেরা। ধারাভাষ্যে বসে রিকি পন্টিং (Ricky Ponting) সরাসরি বললেন—‘একেবারেই দরকার ছিল না।’আর এই একটিমাত্র আউট আবার প্রশ্ন তুলল সেই পুরনো দর্শন বাজবল (Bazball) নিয়ে। পরিস্থিতি বোঝার বদলে আগ্রাসনের নেশা কি ইংল্যান্ডকে বারবার ডুবিয়ে দিচ্ছে?
স্টোকস যুগে উদ্বেগের পরিসংখ্যান
এই হারের জেরে অ্যাশেজে ইংল্যান্ডের হতাশাজনক ধারা আরও দীর্ঘ হল। টানা পাঁচটি সিরিজে অস্ট্রেলিয়াকে হারাতে ব্যর্থ তারা। স্টোকসের নেতৃত্বে বড় ম্যাচে চাপ সামলানোর ঘাটতি ফের সামনে। চলতি সিরিজে ইংল্যান্ড পুরোটা খারাপ খেলেনি। ব্যাটাররা সময় সময় সেট হয়েছেন। কিন্তু সমস্যা একটাই—ব্যাটিং গভীরতা আর ধৈর্যের অভাব। ২৮৬ ও ৩৫২—দুই ইনিংসেই রান এসেছে, কিন্তু ম্যাচ বাঁচানোর মতো মানসিকতা কই? বোলাররা লড়াই চালিয়ে গেছেন। কিন্তু টানা ওভার, দীর্ঘ সিরিজ—শেষের দিকে ক্লান্তি স্পষ্ট।
অস্ট্রেলিয়ার নিয়ন্ত্রিত দাপট
অন্যদিকে অস্ট্রেলিয়া ঠান্ডা মাথার, হিসেবি টিম। অ্যালেক্স ক্যারি (Alex Carey) দুই ইনিংসেই ম্যাচ ঘুরিয়ে দিয়েছেন—প্রথম ইনিংসে ১০৬, দ্বিতীয় ইনিংসে ৭২। উসমান খোয়াজার (Usman Khawaja) ব্যাটেও এল সময়মতো রান। প্যাট কামিন্স নেতৃত্বে যেমন, বোলিংয়েও তেমনই ছাপ রাখলেন। লায়ন চোটে ছিটকে গেলেও কাজ সারলেন স্টার্ক আর বোল্যান্ড (Scott Boland)। সব মিলিয়ে অ্যাডিলেড টেস্টে ৮২ রানে জয় শুধু একটা ম্যাচ নয়—ইংল্যান্ডের মানসিক দুর্বলতার নগ্ন প্রদর্শন।
এবার কি সত্যিই বদলাবে বাজবল?
বক্সিং ডে টেস্ট (Boxing Day Test) এখনও বাকি। বিশ্ব টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপের (World Test Championship) পয়েন্টও নজরে। কিন্তু বড় প্রশ্ন একটাই—এই অ্যাডিলেড কি বাজবলের মোহভঙ্গের মুহূর্ত? যখন ধৈর্য দরকার, তখন ঝুঁকি। যখন ম্যাচ বাঁচানো জরুরি, তখন শটের বাহাদুরি। মাত্র ১১ দিনের ক্রিকেটে অ্যাশেজ হাতছাড়া হওয়ার পর ইংল্যান্ডের সামনে হয়তো সবচেয়ে কঠিন লড়াইটা মাঠে নয়—নিজেদের দর্শনের বিরুদ্ধে।