কোনও ‘কাছাকাছি’ লড়াইয়েরও গল্প নেই। এই সিরিজে অস্ট্রেলিয়া টেক্কা দিয়েছে। স্কোরলাইন সেটাই নিশ্চিত করেছে কেবল।

ছবি: গুগল
শেষ আপডেট: 8 January 2026 11:02
দ্য ওয়াল ব্যুরো: অস্ট্রেলিয়া বনাম ইংল্যান্ড পঞ্চম টেস্টের শেষ দিনে কোনও নাটক, কোনও আবেগ ধরা পড়ল। মাঠে ফুটে উঠল স্রেফ হিসেবি ক্রিকেট, ধারাবাহিক নিয়ন্ত্রণ আর একপেশে, অনিবার্য ফলাফল। সিডনিতে ৫ উইকেটে জিতে অস্ট্রেলিয়া ২০২৫–২৬ অ্যাশেজ সিরিজ শেষ করল ৪–১ ব্যবধানে। স্কোরলাইনই বলে দিচ্ছে, পুরো সিরিজে কোন দল এগিয়ে!
শেষ দিনের হিসেব: টার্গেট ছোট, কাজ নিখুঁত
১৬০ রানের লক্ষ্য তাড়া করতে নেমে অস্ট্রেলিয়া প্রথমে কিছুটা চাপে পড়েছিল। ওপেনার ট্র্যাভিস হেড (Travis Head) ২৯ এবং জেক ওয়েদারাল্ড (Jake Weatherald) ৩৪ করে সাজঘরে ফিরলেন। অধিনায়ক স্টিভ স্মিথ (Steve Smith) থামলেন ১২ রানে। শেষ টেস্টে অবসর নেওয়া উসমান খোয়াজা (Usman Khawaja) করলেন মাত্র ৬।
কিন্তু এরপর আর কাঁটা ঘুরল না। ক্যামেরন গ্রিন (Cameron Green) ২২* এবং অ্যালেক্স কেয়ারি (Alex Carey) ১৬* করে ম্যাচ শেষ করলেন। পঞ্চম দিনের দুপুরের পরেই কাজ সারা। অস্ট্রেলিয়া জিতল ৫ উইকেটে। ইংল্যান্ড চেষ্টা করেছিল। জশ টং (Josh Tongue) ফের একবার ধারাবাহিক চাপ তৈরি করেন। কিন্তু অন্য প্রান্তে সহায়তা মেলেনি। লক্ষ্যটাই ছিল খুব ছোট।
সিরিজের রূপরেখা: পার্থক্য ধারাবাহিকতায়
এবারের অ্যাশেজে অস্ট্রেলিয়া এক-দুটি ম্যাচে নয়, তারা ভাল খেলেছে পাঁচটি টেস্ট জুড়ে। ব্যাটিংয়ে বড় জুটি, বোলিংয়ে ধৈর্য আর গুরুত্বপূর্ণ মুহূর্তে ভুল না করা—এই তিনটি জায়গাতেই ইংল্যান্ড পিছিয়ে। অজিদের হয়ে হেড (Travis Head) সিরিজে করলেন ৬২৯ রান। পার্থ টেস্টে কার্যত একাহাতেই ম্যাচ বের করে নেন। তাও দু’দিনের মধ্যে। শেষ টেস্টে তাঁর সেঞ্চুরি ইংল্যান্ডের শেষ আশা নিভিয়ে দেয়। সিরিজ সেরা হলেন মিচেল স্টার্ক (Mitchell Starc)। পাঁচ টেস্টে ৩১ উইকেট। কম্পটন-মিলার মেডালও তাঁর কপালে ঝুলল। স্টিভ স্মিথ (Steve Smith) অ্যাশেজে ১৩ তম শতরান হাঁকালেন। তালিকায় আপাতত দু’নম্বরে, ডন ব্র্যাডম্যানের ঠিক পরেই। সংখ্যাটা নিছক পরিসংখ্যান নয়—এই সিরিজে তাঁর নিয়ন্ত্রণ ছিল দেখার মতো!
ইংল্যান্ডের ছবিটা একেবারে আলাদা। জো রুট (Joe Root) সিরিজে ৪০০ রান করলেও দুটি ইনিংস ছাড়া তেমন প্রভাব ফেলতে ব্যর্থ। টপ অর্ডার বারবার ভেঙেছে। বেন ডাকেট (Ben Duckett), জ্যাক ক্রলি (Zak Crawley)—সংখ্যাই বলে দেয় সমস্যা আসলে কোথায়!
বাজবল বনাম বাস্তবতা: ফলাফলে কোনও বিতর্ক নেই
এই সিরিজ শুধু অস্ট্রেলিয়া বনাম ইংল্যান্ডে আটকে ছিল না। হয়ে উঠেছিল বাজবল বনাম বাস্তবতার লড়াইও। স্টোকসরা আক্রমণাত্মক ক্রিকেট খেলেছেন। কিন্তু জরুরি মুহূর্তে দায়িত্বশীল পারফরম্যান্সে অসফল। সিডনি টেস্টেই তা স্পষ্ট। প্রথম ইনিংসে জো রুটের (Joe Root) ১৬০, হ্যারি ব্রুকের (Harry Brook) ৮৪… সব ছিল। কিন্তু জবাবে মাঠে নেমে অস্ট্রেলিয়ার বড় লিড। দ্বিতীয় ইনিংসে জ্যাকব বেথেল (Jacob Bethell) ১৫৪ করে ম্যাচ টানেন। ইংল্যান্ড লিড পায় ১৫৯ রানের। কিন্তু দিনের শেষে সেটাও যথেষ্ট নয়। আসলে অজিরা জানত, কোথায় ধৈর্য ধরতে হবে। কোথায় আঘাত হানতে হবে। ইংল্যান্ড জানত, কী করতে চায়। কিন্তু জানত না, কখন থামাটা দরকারি!
শেষ পর্যন্ত অ্যাশেজের পালা চুকল ৪–১-এ। কোনও বিতর্ক নেই। কোনও ‘কাছাকাছি’ লড়াইয়েরও গল্প নেই। এই সিরিজে অস্ট্রেলিয়া টেক্কা দিয়েছে। স্কোরলাইন সেটাই নিশ্চিত করেছে কেবল।