আইসিসি অবশ্য এত বিতর্কে আমল দিতে নারাজ। সংস্থার তরফে জানানো হয়েছে, ভারত ও শ্রীলঙ্কায় যৌথ আয়োজনের কারণে আগাম ভেন্যু ও সূচি পরিকল্পনা জরুরি ছিল। সেই কারণেই প্রি-সিডিং ব্যবস্থা।

ছবি: গুগল
শেষ আপডেট: 20 February 2026 12:44
দ্য ওয়াল ব্যুরো: টি-২০ বিশ্বকাপ (T20 World Cup 2026) মাঠে গড়াতেই নতুন বিতর্ক। সুপার এইট পর্বের ফরম্যাট নিয়ে সমালোচনার মুখে আন্তর্জাতিক ক্রিকেট কাউন্সিল (ICC)। অভিযোগ—‘প্রি-সিডিং’ পদ্ধতির জেরে প্রতিযোগিতায় স্পষ্ট অসাম্য তৈরি হয়েছে।
এবারের টুর্নামেন্টে গ্রুপ পর্ব শেষ হতেই অদ্ভুত সমীকরণ। চারটি গ্রুপের চার শীর্ষ দল একসঙ্গে একটি গ্রুপে। আর চার রানার্স-আপ অন্য গ্রুপে। সোশ্যাল মিডিয়ায় প্রশ্ন উঠছে—গ্রুপ চ্যাম্পিয়নদের জন্য এ কেমন পুরস্কার?
‘প্রি-সিডিং’ নিয়ে বিতর্কের শুরু
টুর্নামেন্ট শুরুর আগেই নির্দিষ্ট স্লট ঠিক করে দেয় আইসিসি। কোন গ্রুপের চ্যাম্পিয়ন বা রানার্স-আপ সুপার এইটে কোথায় যাবে, তা আগে থেকেই স্থির। ফলে ফলাফল যাই হোক, কাঠামো বদলানোর সুযোগ ছিল না।
এর ফল? সুপার এইটের গ্রুপ ১-এ জায়গা পেয়েছে ভারত (India), জিম্বাবোয়ে (Zimbabwe), ওয়েস্ট ইন্ডিজ (West Indies) ও দক্ষিণ আফ্রিকা (South Africa)—চারটি গ্রুপের চার শীর্ষ দল! অন্যদিকে গ্রুপ ২-এ পাকিস্তান (Pakistan), শ্রীলঙ্কা (Sri Lanka), ইংল্যান্ড (England) ও নিউজিল্যান্ড (New Zealand)—সবাই রানার্স-আপ।
সমালোচকদের বক্তব্য, এতে প্রতিযোগিতার ভারসাম্য নষ্ট হয়েছে। প্রথম রাউন্ডে শীর্ষে শেষ করেও কোনও বিশেষ সুবিধা মিলছে না। বরং। শক্তিশালী দলগুলোকেই পরস্পরের বিরুদ্ধে লড়তে হচ্ছে। যার অর্থ, সেমিফাইনালের আগেই বিদায় নেবে অন্তত দুই সেরা পারফর্মার টিম।
গ্রুপ জেতার ‘পুরস্কার’ কোথায়?
খেলাধুলার স্বাভাবিক নিয়ম—গ্রুপ জিতলে তুলনায় সহজ পথ বেয়ে এগনোর সুযোগ মেলে। কিন্তু এই কাঠামোয় সেই অ্যাডভান্টেজ নেই। দক্ষিণ আফ্রিকার কথাই ধরা যাক। গ্রুপ চ্যাম্পিয়ন হয়েও প্রোটয়ারা সুপার এইটে তুলনামূলক কঠিন গ্রুপে পড়েছে। অন্যদিকে, দ্বিতীয় গ্রুপে থাকা রানার্স-আপ দলগুলোর জার্নি অপেক্ষাকৃত মসৃণ। অন্তত এমনটাই মনে করছেন অনেকে।
আরও একটি প্রশ্ন শেষ গ্রুপ ম্যাচগুলোর গুরুত্ব নিয়ে। সুপার এইটে স্লট আগেই স্থির। ফলে শেষ মুহূর্তের নাটকীয়তা আর রুদ্ধশ্বাস লড়াইয়ের আকর্ষণ কমেছে বলে মত বিশেষজ্ঞদের।
আয়োজক শ্রীলঙ্কার অসুবিধা?
নিশানায় রয়েছে সহ-আয়োজক শ্রীলঙ্কাও (Sri Lanka)। তারা যদি সেমিফাইনালে ওঠে, পূর্বনির্ধারিত সূচি অনুযায়ী ভারতেই খেলতে হবে। অর্থাৎ, ঘরের মাঠে খেলার সম্ভাবনা থাকছে না। এটাও ‘প্রি-সিডিং’ সিদ্ধান্তের ‘পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া’। দাবি সমালোচকদের।
আইসিসির ব্যাখ্যা
আইসিসি অবশ্য এত বিতর্কে আমল দিতে নারাজ। সংস্থার তরফে জানানো হয়েছে, ভারত ও শ্রীলঙ্কায় যৌথ আয়োজনের কারণে আগাম ভেন্যু ও সূচি পরিকল্পনা জরুরি ছিল। সেই কারণেই প্রি-সিডিং ব্যবস্থা। লজিস্টিক চ্যালেঞ্জ সামলাতেই এই কাঠামো বেছে নেওয়া হয়েছে। তবু প্রশ্ন থাকছেই—ফরম্যাট কি প্রতিযোগিতার মূল চেতনাকে আঘাত করেছে? নাকি এটাই একমাত্র ও প্রয়োজনীয় সিদ্ধান্ত?