পরিসংখ্যান বলছে, আমদাবাদের পিচ সাধারণত ব্যাটারদের সাহায্য করে। ২০১২ সাল থেকে এই মাঠে হওয়া টি–২০ আন্তর্জাতিক ম্যাচে প্রথম ইনিংসের গড় স্কোর মেরেকেটে ১৮৩।
.jpeg.webp)
সূর্যকুমার যাদব
শেষ আপডেট: 8 March 2026 15:02
দ্য ওয়াল ব্যুরো: টি–২০ বিশ্বকাপ ফাইনাল। মঞ্চ আমদাবাদের নরেন্দ্র মোদী স্টেডিয়াম (Narendra Modi Stadium)। মুখোমুখি ভারত (India cricket team)-নিউজিল্যান্ড (New Zealand cricket team)। চূড়ান্ত দ্বৈরথের আবহে প্রশ্ন একটাই—মাঠের লড়াই জিততে হলে কত রান যথেষ্ট?
অধিনায়ক সূর্যকুমার যাদবের (Suryakumar Yadav) দল ফাইনালে নামছে একবুক আত্মবিশ্বাস নিয়ে। গত বছর আইসিসি চ্যাম্পিয়ন্স ট্রফির ফাইনালে নিউজিল্যান্ডকে হারিয়েছিল ভারত। সেই স্মৃতি এবারও দলের মনোবল বাড়াচ্ছে। তবে টি–২০ বিশ্বকাপের ইতিহাসে এখনও পর্যন্ত নিউজিল্যান্ডকে হারাতে পারেনি ভারত। তাই স্কোরবোর্ডে কত রান নিরাপদ, সেটাই সবচেয়ে বড় প্রশ্ন।
আমদাবাদের পিচ রিপোর্ট
পরিসংখ্যান বলছে, আমদাবাদের পিচ সাধারণত ব্যাটারদের সাহায্য করে। ২০১২ সাল থেকে এই মাঠে হওয়া টি–২০ আন্তর্জাতিক ম্যাচে প্রথম ইনিংসের গড় স্কোর মেরেকেটে ১৮৩। প্রথমে ব্যাট করা দলগুলোর গড় স্কোর প্রায় ১৮৯। যা রান তাড়া করার সময় কমে দাঁড়িয়েছে ১৭৬-তে। ফলে বোঝাই যাচ্ছে, এই ময়দানে আগে ব্যাট করলে কিছুটা সুবিধা পাওয়া যায়।
এখনও পর্যন্ত ১৪টি টি–২০ আন্তর্জাতিক ম্যাচের মধ্যে ৯টিতেই জিতেছে প্রথমে ব্যাট করা দল। অর্থাৎ, স্কোরবোর্ডে বড় রান তুলতে পারলে চাপ বাড়ে প্রতিপক্ষের উপর। চলতি টুর্নামেন্টেও ১৮০ রানকে মোটামুটি ‘পার স্কোর’ ধরা হয়েছে। তবে যেহেতু বড় ম্যাচ, তাই আজ সেই স্কেল আরও কিছুটা বাড়তে পারে।
১৯০–২০০ কি নিরাপদ স্কোর?
আমদাবাদের ইতিহাস দেখলে বোঝা যায়, ১৮০-র বেশি রান খুব অস্বাভাবিক নয়। মোট ২৮টি টি–২০ ইনিংসের মধ্যে ১৩ বার দলগুলো এর বেশি রান তুলেছে। ভারতীয় শিবির জানে, এখানে রান তাড়া করা কঠিন হতে পারে। চলতি বিশ্বকাপেই সুপার এইট পর্বে দক্ষিণ আফ্রিকার (South Africa cricket team) বিরুদ্ধে ১৮৮ রান তাড়া করতে গিয়ে মাত্র ১১১ রানে গুটিয়ে গিয়েছিল টিম ইন্ডিয়া।
পরিসংখ্যান সাক্ষী, যদি কোনও দল ১৯০ বা তার বেশি রান তোলে, তাহলে লড়াইয়ে তাদের নিয়ন্ত্রণ আরও মজবুত হয়। আর স্কোর যদি ২০০ ছুঁয়ে যায়, তাহলে চাপ আরও বাড়ে প্রতিপক্ষের উপর।
পেস নাকি স্পিন—কার প্রভাব বেশি
এই মাঠে বোলিংয়ের হিসেবও পরিষ্কার। পেসাররা এখানে স্পিনারদের তুলনায় বেশি সফল। এখনও পর্যন্ত টি–২০ আন্তর্জাতিক ম্যাচে পেসাররা নিয়েছেন ১১৭টি উইকেট। স্পিনারদের ঝুলিতে মাত্র ৪৩। চলতি বিশ্বকাপেও একই প্রবণতা। মোট উইকেটের সিংহভাগ জোরে বোলারদের পকেটে।
টিম ইন্ডিয়ার জসপ্রীত বুমরাহ (Jasprit Bumrah) এই মাঠে বেশ সফল। তাঁর ইকোনমি রেট খুবই কম। অর্শদীপ সিং-ও (Arshdeep Singh) যথেষ্ট নিয়ন্ত্রণ দেখিয়েছেন। অন্যদিকে নিউজিল্যান্ডের পেস আক্রমণে রয়েছে লকি ফার্গুসন (Lockie Ferguson), ম্যাট হেনরি (Matt Henry) এবং জেকব ডাফির (Jacob Duffy) মতো বোলার।
সব মিলিয়ে ফাইনালের হিসেব পরিষ্কার। স্কোরবোর্ডে বড় রান তুলতে পারলে অ্যাডভান্টেজ যথেষ্ট। আজ সেই লক্ষ্যেই ব্যাট হাতে মাঠে নামবে ভারত ও নিউজিল্যান্ড দুই শিবির।