স্পিন বিভাগে শেষ মুহূর্তে চমক এলেও আসতে পারে। আর এই সিদ্ধান্তই হয়তো ম্যাচের রণকৌশল ঠিক করে দেবে।

কুলদীপ ও বরুণ
শেষ আপডেট: 8 March 2026 13:06
দ্য ওয়াল ব্যুরো: ফাইনালের আগে ভারতীয় শিবিরে বদলের প্রস্তুতি? আমদাবাদের নেট সেশন ঘিরে সেই প্রশ্নই ঘনিয়ে উঠছে। টি–২০ বিশ্বকাপ ফাইনালের (ICC T20 World Cup 2026) আগের অনুশীলনে নজর কাড়ল একটি দৃশ্য—সাধারণত সবার আগে নেটে নামেন বরুণ চক্রবর্তী (Varun Chakravarthy)। সেই তিনিই এদিন পাশে দাঁড়িয়ে। আর তাঁর জায়গায় শুরুতেই বল হাতে ঘাম ঝরালেন কুলদীপ যাদব (Kuldeep Yadav)।
রবিবার আমদাবাদের নরেন্দ্র মোদী স্টেডিয়ামে (Narendra Modi Stadium) মুখোমুখি ভারত (India cricket team)-নিউজিল্যান্ড (New Zealand cricket team)। সেই ম্যাচের আগে সর্বশেষ অনুশীলনে স্পিন বিভাগে বদলের ইঙ্গিত যথেষ্ট জোরালো বলে মনে করছেন অনেকেই।
বরুণের ফর্ম নিয়ে প্রশ্ন
এবারের টুর্নামেন্টে বরুণ চক্রবর্তীর পারফরম্যান্স খুব একটা আশাব্যঞ্জক নয়। বিশেষ করে সুপার এইট পর্ব থেকে বোলিংয়ে ধার কমেছে। দক্ষিণ আফ্রিকা (South Africa cricket team) ম্যাচের পর থেকে প্রায় প্রতিটি খেলাতেই ওভারপিছু নয় রান বা তার বেশি খরচ করেছেন তিনি। সেমিফাইনালে ইংল্যান্ডের (England cricket team) বিরুদ্ধে পরিসংখ্যান আরও খারাপ, অকহতব্য! চার ওভারে ৬৪ রান দিয়ে মাত্র একটি উইকেট। টি–২০ আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে এটিই তাঁর সবচেয়ে খরুচে স্পেল।
বিশেষজ্ঞদের মতে, ব্যাটাররা বরুণের ছোট লেংথ বলের সুযোগ নিচ্ছেন। ক্রিজের গভীরে দাঁড়িয়ে বড় শট খেলছেন। সেই চাপ জোরালো ছাপ ফেলেছে সার্বিকভাবে দলের বোলিং ইউনিটে। সেমিফাইনালে শেষ দিকে জসপ্রীত বুমরাহর (Jasprit Bumrah) দুর্দান্ত ডেথ বোলিং না থাকলে ম্যাচ হাতছাড়া হওয়া প্রায় নিশ্চিত-ই ছিল!
কুলদীপকে নিয়ে আলোচনা
প্রাক্তন ভারতীয় ক্রিকেটার সুনীল গাভাসকর (Sunil Gavaskar) পরিবর্তনের পক্ষে। সাফ সাফ জানিয়ে দেন, ফাইনালে কুলদীপ যাদবকে খেলানো যেতে পারে। তাঁর মতে, বরুণের আত্মবিশ্বাস এখন নড়বড়ে। তা ছাড়া আমদাবাদের মাঠ বড়। সেখানে কুলদীপ অনেক বেশি কার্যকর হতে পারেন। উপরন্তু সমতল পিচেও তিনি বল ঘোরাতে সিদ্ধহস্ত।
চলতি বিশ্বকাপে এখনও পর্যন্ত মাত্র একটি ম্যাচ খেলেছেন কুলদীপ। পাকিস্তানের (Pakistan cricket team) বিরুদ্ধে সেই ম্যাচে তিন ওভারে ১৪ রান দিয়ে একটি উইকেট নিয়েছিলেন।
ওপেনিং নিয়েও জল্পনা
দলে আর কোনও বদল হবে কি না, তা নিয়েও জমেছে আলোচনা। ওপেনার অভিষেক শর্মার (Abhishek Sharma) ফর্ম নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। টুর্নামেন্টে এখনও পর্যন্ত তাঁর একটি মাত্র হাফ-সেঞ্চুরি। বাকি সমস্ত লড়াইয়ে ব্যর্থ! অনেকে মনে করছেন, ওপেনিংয়ে সঞ্জু স্যামসনের (Sanju Samson) সঙ্গে ঈশান কিষাণকে (Ishan Kishan) নামানো যেতে পারে। সেক্ষেত্রে দলে জায়গা পেতে পারেন রিঙ্কু সিং (Rinku Singh)। তবে কালের সর্বশেষে ট্রেনিং সেশনে অভিষেককে স্পিনের বিরুদ্ধে দীর্ঘ সময় ব্যাট করতে দেখা গেছে। ধীরগতির বলের বিরুদ্ধে সমস্যাই এখন তাঁর সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ।
সব মিলিয়ে যা বোঝা যাচ্ছে, প্রচ্ছন্ন সংকেত থাকলেও ফাইনালের আগে ভারতীয় দলে বড়সড় রদবদলের সম্ভাবনা খুব একটা নেই। স্পিন বিভাগে শেষ মুহূর্তে চমক এলেও আসতে পারে। আর এই সিদ্ধান্তই হয়তো ম্যাচের রণকৌশল ঠিক করে দেবে।