বস্তুত, স্রেফ ফাইনালে নয়, পুরো টুর্নামেন্টেই ঈশানের পারফরম্যান্সও নজর কেড়েছে। নয় ইনিংসে তিনি মোট ৩১৭ করেন। বিশ্বকাপে রানসংগ্রাহকদের তালিকায় চতুর্থ স্থানে নাম তুলেছেন ঈশান।
.jpeg.webp)
ঈশান কিষাণ
শেষ আপডেট: 9 March 2026 11:41
দ্য ওয়াল ব্যুরো: ব্যক্তিগত জীবনে বড় ধাক্কা। তার মধ্যেই বিশ্বকাপের মঞ্চে দায়িত্ব পালন। গতরাতে আমদাবাদের মাঠে ঈশান কিষাণ (Ishan Kishan) ঠিক সেটাই করলেন। পরিবারের শোকের খবর পেয়েও তিনি নামলেন টি–২০ বিশ্বকাপ (T20 World Cup 2026) ফাইনালে। আর খেললেন গুরুত্বপূর্ণ ইনিংস। শুধু ব্যাট হাতে রান নয়, নিলেন গুরুত্বপূর্ণ ক্যাচও। যা নিউজিল্যান্ডকে শেষমেশ পরাজয়ের দিকে ঠেলে দেয়। ভারত জিতে নেয় বিশ্বকাপ ট্রফি!
রবিবার আমদাবাদের নরেন্দ্র মোদী স্টেডিয়ামের (Narendra Modi Stadium) ফাইনালে নিউজিল্যান্ডের (New Zealand) বিরুদ্ধে ২৫ বলে ৫৪ রান করেন ভারতীয় বাঁ-হাতি ব্যাটার। ম্যাচের আগে কিছু জানা না গেলেও খেলা খতম হতেই সামনে আসে—ফাইনালের দু’দিন আগে সড়ক দুর্ঘটনায় মারা গিয়েছিলেন তাঁর ভাই ও জামাইবাবু।
পরিবারের শোক, মাঠে থাকার সিদ্ধান্ত
সংবাদমাধ্যম টাইমস অব ইন্ডিয়া-র (Times of India) প্রতিবেদন অনুযায়ী, শুক্রবার সড়ক দুর্ঘটনায় মারা যান ঈশানের এক খুড়তুতো ভাই ও জামাইবাবু। ফাইনালের ঠিক দু’দিন আগে এমন বিপর্যয় আকস্মিক। দুর্ঘটনার পর পরিবারের পরিস্থিতি সামলাতে ব্যস্ত হয়ে পড়েন ঈশানের বাবা প্রণব পাণ্ডে (Pranav Pandey)। সেই কারণে তিনি ফাইনাল দেখতে আমদাবাদ যেতে পারেননি। বলেন, ‘বড় বিপদ হয়ে গেছে। আমরা সবাই এখন সমস্যার মধ্যে আছি। সবাই শকে রয়েছি।’খবর পেয়ে ঈশান নিজেও পরিবারের কাছে যেতে চেয়েছিলেন। কিন্তু সামনে বিশ্বকাপ ফাইনাল থাকায় শেষ পর্যন্ত দলের সঙ্গে থাকার সিদ্ধান্ত নেন।
অনুশীলনে চুপচাপ ঈশান
এমন ধাক্কা সামলানো কঠিন। যে কারণে দলের অনুশীলনেও ঈশানের আচরণে মানসিক চাপের ছাপ দেখা যায়। সাধারণত প্রাণবন্ত, চনমনে স্বভাবের হলেও ফাইনালের আগে ঈশান অনেকটাই চুপচাপ ছিলেন। কারও সঙ্গেই সেভাবে কথা বলেননি। ব্যাটিং সেশনও নাকি অন্যান্য দিনের তুলনায় ছোট ছিল। সতীর্থদের অনেকে এগিয়ে এসে তাঁর পাশে দাঁড়ান, সান্ত্বনা দেন, ভরসা জোগান। মাঠে নেমে অবশ্য এই অবসাদের ছিটেফোঁটা বুঝতে দেননি ঈশান। ম্যাচের সময় পুরো মনোযোগ ছিল একমাত্র খেলাতেই।
ফাইনালে ঝোড়ো অর্ধশতক
ফাইনালে ঈশান নেমেছিলেন তিনে। শুরু থেকেই আক্রমণাত্মক ব্যাটিং চালান। মাত্র ২৫ বলে ৫৪ রান। ইনিংস সাজানো একাধিক বাউন্ডারি ও বড় শটে। অর্ধশতরান পূর্ণ করার পর ব্যাট তুলে আকাশের দিকে তাকান। তখন বোঝা না গেলেও অনেকেই এখন মনে করছেন, সেটি ছিল প্রয়াত আত্মীয়দের উদ্দেশে তাঁর নীরব, বিনম্র শ্রদ্ধা।
গতরাতে ব্যাটিংয়ের পাশাপাশি ফিল্ডিংয়েও দুরন্ত ছিলেন এই তরুণ খেলোয়াড়। আউটফিল্ডে লুফে নেন দুটি কঠিন ক্যাচ। সাজঘরে ফেরান বিপজ্জনক রাচিন রবীন্দ্র (Rachin Ravindra) এবং টিম সেইফার্টকে (Tim Seifert)।
বস্তুত, স্রেফ ফাইনালে নয়, পুরো টুর্নামেন্টেই ঈশানের পারফরম্যান্সও নজর কেড়েছে। নয় ইনিংসে তিনি মোট ৩১৭ করেন। বিশ্বকাপে রানসংগ্রাহকদের তালিকায় চতুর্থ স্থানে নাম তুলেছেন ঈশান।