গম্ভীরের কথায়, ‘একক তারকার মাইলস্টোন নয়, ট্রফিই আসল। এত বছর আমরা ব্যক্তিগত রেকর্ড উদযাপন করেছি। এবার সময় এসেছে শুধু দলগত সাফল্য উদযাপন করার।’
.jpeg.webp)
গৌতম গম্ভীর
শেষ আপডেট: 9 March 2026 11:10
দ্য ওয়াল ব্যুরো: ২০২৬ টি–২০ বিশ্বকাপ জয়ের পর যেন একরকম স্বস্তির নিঃশ্বাস ফেললেন ভারতের কোচ গৌতম গম্ভীর (Gautam Gambhir)। গত দু’বছর ধরে তাঁর কোচিং নিয়ে নানা প্রশ্ন উঠেছিল। নিউজিল্যান্ড ও দক্ষিণ আফ্রিকার বিরুদ্ধে টেস্ট সিরিজে হার, সমালোচনা, সোশ্যাল মিডিয়ার চাপ—সব মিলিয়ে সময়টা সহজ ছিল না। কিন্তু বিশ্বকাপ জিতে টিম ইন্ডিয়ার হেডস্যার স্পষ্ট জানিয়ে দিলেন, তাঁর কাছে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ কারা।
ফাইনালে নিউজিল্যান্ডকে ৯৬ রানে হারিয়ে ইতিহাস গড়েছে ভারত। এটাই টিম ইন্ডিয়ার তৃতীয় টি–২০ বিশ্বকাপ—২০০৭, ২০২৪ এবং ২০২৬। একই সঙ্গে প্রথম দল হিসেবে শিরোপা ধরে রাখার নজিরও গড়েছে তারা। আর এহেন সাফল্যের দিনে গম্ভীর এই ট্রফিটি উৎসর্গ করলেন দু’জন বিশেষ মানুষকে—রাহুল দ্রাবিড় (Rahul Dravid) এবং ভিভিএস লক্ষ্মণ (VVS Laxman)।
‘আমার জবাবদিহি সোশ্যাল মিডিয়ার কাছে নয়’
ফাইনালের পর সাংবাদিক বৈঠকে গম্ভীর নিজের স্বভাবসিদ্ধ স্পষ্টভাষী ভঙ্গিতেই কথা বলেন। জানান, সমালোচনার জবাব দেওয়ার জন্য নয়, দলের ভেতরের মানুষের প্রতি দায়বদ্ধতা থেকেই তিনি কাজ করেন। গম্ভীরের কথায়, ‘আমার জবাবদিহি সোশ্যাল মিডিয়ার কাছে নয়। ড্রেসিংরুমের সেই ৩০ জন মানুষের কাছে, যাদের সঙ্গে আমি কাজ করি। কোচ তখনই ভাল, যখন তার দল ভাল খেলছে। খেলোয়াড়রাই আমাকে সেই কোচ বানিয়েছে।’
গতরাতে ভারত ফাইনালে ব্যাট হাতে দুরন্ত পারফরম্যান্সে ৫ উইকেট খুইয়ে ২৫৫ রান তোলে। তারপর বল হাতে নিউজিল্যান্ডকে ১৫৯ রানে গুটিয়ে দেয়। আগামী কী হবে কেউ জানে না ঠিকই। কিন্তু এই জয়ের সুবাদে সমালোচকদের এখনকার মতো অনেকটাই চুপ করিয়ে দিয়েছেন গম্ভীর।
দ্রাবিড় ও লক্ষ্মণকে শ্রদ্ধা
যদিও সাফল্যের মুহূর্তেও গম্ভীর ভুললেন না আগের কোচ রাহুল দ্রাবিড়কে। যিনি, তাঁর মতে, দলের ভিত তৈরি করেছিলেন। গম্ভীরের মন্তব্য, ‘এই ট্রফিটা আমি রাহুল ভাইকে উৎসর্গ করতে চাই। ভারতীয় দলকে তিনি এমন জায়গায় রেখে গিয়েছেন, যেখানে দাঁড়িয়ে আমরা এগোতে পেরেছি।’
সঙ্গে তিনি ধন্যবাদ জানান ভিভিএস লক্ষ্মণকে, যিনি বেঙ্গালুরুর বিসিসিআই সেন্টার অফ এক্সেলেন্সে (BCCI Centre of Excellence) তরুণ ক্রিকেটারদের গড়ে তুলছেন। গম্ভীরের মতে, ভবিষ্যতের ভারতীয় দলের জন্য শক্তিশালী পাইপলাইন তৈরি হয়েছে সেখান থেকে।
দুঃসময়ে ফোন করেছিলেন জয় শাহ
বিশ্বজয়ের দিন গম্ভীর ফিরে দেখেছেন অতীত। যে অতীত কণ্টকিত, রক্তাক্ত। ব্যর্থতার দিনে যখন সবাই খড়্গহস্ত, কোচের পদ থেকে সরানোর আওয়াজ উঠছে, তখন সর্বোচ্চ মসনদে বসে তাঁকে অভয় জুগিয়েছিলেন যিনি, তাঁর নাম জয় শাহ। গম্ভীর জানান, তাঁর কঠিন সময়ে কিছু মানুষ পাশে ছিলেন। বিশেষভাবে নির্বাচক প্রধান অজিত আগরকার (Ajit Agarkar) এবং আইসিসি চেয়ারম্যান জয় শাহ (Jay Shah)। তাঁদের ধন্যবাদ জানিয়ে ভারতের কোচ বলেন, ‘আগরকার অনেক সমালোচনা সহ্য করে সততার সঙ্গে কাজ করেছে। আর জয় ভাই—আমার সবচেয়ে খারাপ সময় যখন চলছিল, নিউজিল্যান্ড আর দক্ষিণ আফ্রিকার কাছে হারার পর—আমাকে ফোন করেছিলেন।’
দুনিয়া হাতের মুঠোয়। যদিও ভারতীয় দলের সামনে এখন আরও বড় লক্ষ্য—২০২৮ লস অ্যাঞ্জেলেস অলিম্পিক্সে (Los Angeles Olympics 2028) ক্রিকেটে সোনা জেতা। গম্ভীরের কথায়, ‘একক তারকার মাইলস্টোন নয়, ট্রফিই আসল। এত বছর আমরা ব্যক্তিগত রেকর্ড উদযাপন করেছি। এবার সময় এসেছে শুধু দলগত সাফল্য উদযাপন করার।’