সৌরভের কথা যদি ফলে যায়, ইডেন গার্ডেন্সের পিচে যদি সত্যিই রানবন্যা হয়, তাহলে যে দল প্রথমে বড় স্কোর গড়বে, তারাই নি:সন্দেহে এগিয়ে থাকবে।

সৌরভ গঙ্গোপাধ্যায়
শেষ আপডেট: 1 March 2026 12:45
দ্য ওয়াল ব্যুরো: ইডেন গার্ডেন্সে বাঁচা-মরার লড়াইয়ের আগে বড় মন্তব্য করলেন সৌরভ গঙ্গোপাধ্যায় (Sourav Ganguly)। তাঁর স্পষ্ট ভবিষ্যদ্বাণী—ভারত বনাম ওয়েস্ট ইন্ডিজ ম্যাচ হবে ‘হাই-স্কোরিং গেম’।
শনিবার সন্ধ্যায় ভারতীয় দলের অনুশীলনের সময় মাঠে হাজির ছিলেন টিম ইন্ডিয়ার প্রাক্তন অধিনায়ক৷ এখন তিনি ক্রিকেট অ্যাসোসিয়েশন অফ বেঙ্গলের (Cricket Association of Bengal) সভাপতি। মাঠে ড্রিলের মধ্যে ঢোকেননি, একপাশে দাঁড়িয়ে চুপচাপ দেখছিলেন অনুশীলন। তারপর চলে যান প্রেসিডেন্ট রুমে—যে ঘর একসময় তাঁর মেন্টর জগমোহন ডালমিয়ার ছিল। বাইরে তখন টিকিটের আশায় লম্বা লাইন। অন্দরে নকআউট ম্যাচের রণকৌশল নিয়ে চিন্তাভাবনা।
সৌরভ যদিও চাপের তত্ত্বকে খুব বেশি গুরুত্ব দিতে নারজ৷ বললেন, ‘বিশ্বকাপে যখন এমন পরিস্থিতি আসে, যেখানে জিততেই হবে, তখন চাপ থাকেই।’ তাঁর মতে, ২০১৬ সালের স্মৃতি টেনে লাভ নেই। সৌরভের যুক্তি, ‘ওটার এখন কোনও মানে নেই। দু’টো দলই ভাল। সমান সুযোগ রয়েছে। এটা ডু-অর-ডাই ম্যাচ।’
ভারতের কম্বিনেশন নিয়ে প্রশ্ন রয়েছে। দল কি সঠিক ভারসাম্য খুঁজে পেয়েছে? সৌরভের উত্তর, ‘সঞ্জু (Sanju Samson), ঈশান (Ishan Kishan) আর অভিষেক (Abhishek Sharma) দারুণ খেলোয়াড়। আমরা বাঁ-ডান কম্বিনেশন চেয়েছিলাম। সেটাই হয়েছে।’ প্রাক্তন অধিনায়ক মনে করেন, আধুনিক সাদা বলের ক্রিকেটে ভারসাম্যই আসল। ওপেনিং থেকে মিডল অর্ডার—সব জায়গায় বিকল্প দরকার।
প্রতিপক্ষ ওয়েস্ট ইন্ডিজ (West Indies) টিমে একঝাঁক পাওয়ার-হিটার। তাঁদের কয়েক ওভারে ম্যাচ ঘোরানোর ক্ষমতা রয়েছে। এই দলের একাধিক ক্রিকেটারের সঙ্গে ব্যক্তিগতভাবে কাজ করেছেন সৌরভ। দক্ষিণ আফ্রিকার টি-২০ লিগে (SA T20) প্রিটোরিয়া ক্যাপিটালসের কোচ থাকাকালীন তিনি শাই হোপ (Shai Hope), শেরফেন রাদারফোর্ড (Sherfane Rutherford) ও রস্টন চেজদের (Roston Chase) সঙ্গে কাজ করেছেন। সেই প্রসঙ্গ উঠতেই একগাল হেসে সৌরভ বলেন, ‘আমি ওদের দক্ষিণ আফ্রিকায় খেলার টিপস দিয়েছি। ইডেনে নয়।’ তারপর যোগ করেন, ‘ওরা ভাল দল। কিন্তু ভারতের পাওয়ার-হিটাররাও কম যায় না—হয়তো আরও বেশি শক্তিশালী।’ শেষে রেখে গেলেন চূড়ান্ত বার্তা—‘ম্যাচটা হবে হাই-স্কোরিং।’
সৌরভের কথা যদি ফলে যায়, ইডেন গার্ডেন্সের পিচে যদি সত্যিই রানবন্যা হয়, তাহলে যে দল প্রথমে বড় স্কোর গড়বে, তারাই নি:সন্দেহে এগিয়ে থাকবে। বিশ্বকাপের স্বপ্ন বাঁচিয়ে রাখতে রবিবার রাতে বড় ইনিংসই হতে পারে সবচেয়ে বড় চাবিকাঠি।