কিছু খেলোয়াড় অধিনায়কের পছন্দের, কিন্তু এর খুব বেশি অর্থ হয় না। যখনই সুযোগ পাবেন তখনই আপনাকে পারফর্ম করতে হবে। যখন আপনি ভাল খেলেন, তখন সবকিছু বদলে যায়।

অমিত মিশ্র, বিরাট কোহলি ও মহেন্দ্র সিং ধোনি
শেষ আপডেট: 5 September 2025 16:27
দ্য ওয়াল ব্যুরো: ভারতের তারকা লেগ স্পিনার অমিত মিশ্র (Amit Mishra) একদিন আগেই প্রাক্তনদের দলে নাম লিখিয়েছেন। ৪২ বছর বয়সি এই ক্রিকেটারের আন্তর্জাতিক কেরিয়ার সবসময়ই উত্থান-পতনে ভরা ছিল। তাঁর কেরিয়ারকে দু’টি পর্যায়ে ভাগ করা যেতে পারে। প্রথম পর্বে, তাঁকে অনিল কুম্বলে, হরভজন সিংয়ের মতো কিংবদন্তির জায়গা পূরণের চাপের মুখোমুখি হতে হয়েছিল, অন্যদিকে দ্বিতীয় পর্বে, তাঁকে রবিচন্দ্রন অশ্বিন, রবীন্দ্র জাদেজা, যুজবেন্দ্র চাহাল এবং কুলদীপ যাদবের মতো নতুন প্রজন্মের স্পিনারদের কাছ থেকে কঠিন প্রতিযোগিতার মুখোমুখি হতে হয়েছিল।
অবসরের পর এখন তিনি এমন কিছু বলেছেন যা সোশ্যাল মিডিয়ায় আলোড়ন তুলেছে। মিশ্র বলেছেন, কিছু খেলোয়াড় অধিনায়কের প্রিয় এবং সেই কারণেই তাঁরা দলে আছেন। সোশ্যাল মিডিয়ায় অমিত মিশ্রের এই বক্তব্যকে অশ্বিন-জাদেজা এবং কুলদীপ-চাহালের সঙ্গে যুক্ত করা হচ্ছে এবং এটিকে প্রাক্তন অধিনায়ক মহেন্দ্র সিং ধোনি এবং বিরাট কোহলির উপর অভিযোগ হিসাবে বিবেচনা করা হচ্ছে।
২২টি টেস্ট ম্যাচে অমিত ৭৬টি উইকেট নিয়েছেন। অমিত মিশ্র তাঁর দ্রুত লেগ-ব্রেক এবং মারাত্মক গুগলির জন্য বিখ্যাত ছিলেন। তা সত্ত্বেও, তিনি প্রায়শই তিন ফরম্যাটেই তৃতীয় পছন্দ ছিলেন। অবসর ঘোষণার পর, মিশ্র বলেছেন, ভারতীয় দলে জায়গা পাওয়া এবং এটি বজায় রাখা তাঁর জন্য খুব কঠিন ছিল। কিছুটা হতাশা থেকেই অমিত বলেছেন, "কখনও কখনও আমি দলে ছিলাম, কখনও বাইরে। কখনও আমি প্লেয়িং ইলেভেনে সুযোগ পেয়েছি, কখনও পাইনি। এটি হতাশাজনক ছিল এবং অনেক সময় আমি খুব হতাশ হয়ে পড়েছিলাম। কিন্তু তখন আমি ভাবতাম, আমার স্বপ্ন ভারতের হয়ে খেলা।"
অমিত মিশ্র তাঁর শেষ আন্তর্জাতিক ম্যাচ খেলেন ২০১৭ সালে ইংল্যান্ডের বিপক্ষে বেঙ্গালুরুতে। সেটি ছিল টি-টোয়েন্টি ম্যাচ। সেই ম্যাচে তিনি ২৩ রান দিয়ে একটি উইকেট নিয়েছিলেন। তবে, একই ম্যাচে যুজবেন্দ্র চাহাল ছয় উইকেট নিয়েছিলেন। অমিতের আইপিএল পারফরম্যান্স অবশ্য খুবই নজরকাড়া। আইপিএলের ১৬২ ম্যাচে ১৭৪ উইকেট নিয়েছেন তিনি। আইপিএলে তাঁর হ্যাটট্রিক সংখ্যা তিনিট, যা আর কোনও বোলারের নেই।
অমিত মিশ্র বিশ্বাস করেন যে, ২০০৮ সালের আইপিএলের হ্যাটট্রিকটি তাঁর ক্যারিয়ারের টার্নিং পয়েন্ট হিসাবে প্রমাণিত হয়েছিল। তিনি বলেন, “২০০৮ সালে একটি হ্যাটট্রিক এবং পাঁচ উইকেট নেওয়ার পর, আমাকে আবার ভারতীয় দলে নির্বাচিত করা হয়। এর আগে, আমি ঘরোয়া ক্রিকেটে ধারাবাহিকভাবে ৩৫-৪৫ উইকেট নিচ্ছিলাম, কিন্তু নির্বাচিত হচ্ছিলাম না। আইপিএল সবকিছু বদলে দিয়েছে। সেই আইপিএল হ্যাটট্রিকটি আমার জন্য সবকিছু বদলে দিয়েছে। এর এক বছর আগে আমি সৈয়দ মুস্তাক আলিতেও ভাল পারফর্ম করেছিলাম এবং ২৫ উইকেট নিয়েছিলাম, যা আমাকে আইপিএল চুক্তি (দিল্লি ডেয়ারডেভিলস) পেতে সাহায্য করেছিল। সেই হ্যাটট্রিকের পর, আমি ভারতীয় দলে ফিরে আসি এবং টি-টোয়েন্টিতে আমার কেরিয়ারও শুরু হয়। ২০০৮ সালে সেই পাঁচ উইকেটের হ্যাটট্রিকটি আমার জীবনের একটি বিশেষ মুহূর্ত।”
অমিত মিশ্র স্বীকার করেছেন, ক্রিকেটে অধিনায়কদের নিজস্ব পছন্দ থাকে এবং এটি স্বাভাবিক। তিনি বলেন, “কিছু খেলোয়াড় অধিনায়কের পছন্দের, কিন্তু এর খুব বেশি অর্থ হয় না। যখনই সুযোগ পাবেন তখনই আপনাকে পারফর্ম করতে হবে। যখন আপনি ভাল খেলেন, তখন সবকিছু বদলে যায়।” তিনি আরও বলেন, আইপিএলে ভারতীয় ব্যাটারদের বিরুদ্ধে বোলিং করা বিদেশি খেলোয়াড়দের তুলনায় অনেক বেশি কঠিন ছিল। অমিত বিশেষভাবে বীরেন্দ্র সেওয়াগ, রোহিত শর্মা, যুবরাজ সিং, গৌতম গম্ভীর এবং বিরাট কোহলির মতো ব্যাটারদের নাম এক্ষেত্রে উল্লেখ করেন।