ফাইনালে পৌঁছতে পারলে ওসাকার পরিকল্পনা ছিল একেবারে নিজের সংস্করণ: ‘ওসাকা এডিশন লাবুবু’ দুনিয়ার সামনে মেলে ধরার। ম্যাচ শেষে সাংবাদিক সম্মেলনে প্রশ্ন ধেয়ে আসতেই কান্নার সুরে হেসে ফেললেন প্রায়।

নাওমি ওসাকা
শেষ আপডেট: 5 September 2025 15:48
দ্য ওয়াল ব্যুরো: হারার পর অনেকেই কাঁদেন। কেউ ভেঙে পড়েন। কিন্তু নাওমি ওসাকা (Naomi Osaka) পরাজয়ে অবিচলিত। ইউএস ওপেনের (US Open 2025) সেমিফাইনালে তিন সেটের রুদ্ধশ্বাস লড়াইয়ে বিদায় নিলেন। তবু মুখে পরাজয়জনিত দুঃখের সামান্য ছাপ নেই। তিনি বিষণ্ণ ঠিকই। তবে অন্য কারণে। ছদ্ম হাসি বজায় রেখেই জানালেন—ফাইনালে ছাড়পত্র জোটেনি। ফলে নিজের ‘লাবুবু’ খেলনাটি সবাইকে দেখাতে পারলেন না। আর এই কারণেই তিনি আপাতত বেজায় বিমর্ষ!
নিউইয়র্কের গ্যালারিতে গত দু’সপ্তাহ ধরে ওসাকার ব্যাগে লটকে থাকা রঙিন লাবুবু পুতুল ঝড় তুলেছে। জনপ্রিয় ভিনাইল টয় সিরিজ আদতে হংকংয়ের ‘পপ মার্ট’ কোম্পানির তৈরি। মোটা শরীর, ছোট্ট চোখ, আলগা হাসি—এই অদ্ভুত চেহারার কারণে কালেক্টরদের দারুণ পছন্দের। সোশ্যাল মিডিয়ায় গড়ে উঠেছে আলাদা ফ্যান কমিউনিটি।
ওসাকা নিজের ব্যক্তিত্বের ছাপ মিশিয়ে নতুন নতুন সংস্করণ বানিয়ে সেই জনপ্রিয়তাকে আরও বাড়িয়ে তুলেছিলেন। ফলে প্রতিটি ম্যাচেই তাঁর ব্যাগের পাশে লাবুবু আমদানি করে বাড়তি আকর্ষণ। কখনও ‘বিলি জিন ব্লিং’—যেখানে কিংবদন্তি বিলি জিন কিংয়ের (Billie Jean King) অনুপ্রেরণা। কখনও ‘লা-বিলি-বু’—লাল চশমা পরে সেই কিংয়েরই আরেক প্রতিরূপ। কিংবা ‘আর্থার ফ্ল্যাশে’—আর্থার অ্যাশকে (Arthur Ashe) শ্রদ্ধা জানিয়ে বানানো চরিত্র। ম্যাচে যেমন আগ্রহ, তেমনই আলোচনায় সরগরম এই পুতুল সিরিজ।
ফাইনালে পৌঁছতে পারলে ওসাকার পরিকল্পনা ছিল একেবারে নিজের সংস্করণ: ‘ওসাকা এডিশন লাবুবু’ দুনিয়ার সামনে মেলে ধরার। ম্যাচ শেষে সাংবাদিক সম্মেলনে প্রশ্ন ধেয়ে আসতেই কান্নার সুরে হেসে ফেললেন প্রায়। ওসাকার কথায়, ‘আমায় কাঁদিও না প্লিজ! সবচেয়ে ভয়ংকর প্রশ্ন। সত্যি বলছি, ম্যাচ হারা মেনে নিতে পারি। কিন্তু এটা নিয়ে প্রশ্ন কোরো না। হ্যাঁ, ফাইনালের লাবুবু হত আমার নিজের রূপ!’
কেমন দেখাতে পারত সেই সংস্করণ? ওসাকার ব্যাখ্যা, ‘গত বছর ইউএস ওপেনে যে সবুজ পোশাক পরে খেলেছিলাম, সেই লুকেই বানাতাম। সঙ্গে থাকত বো। ভাবতেই কষ্ট হচ্ছে!’
কোর্টের বাইরে রঙিন খুনসুটি থাকলেও ভেতরে এদিন কষ্টের অভিজ্ঞতা। সেমিফাইনালে ২৩ নম্বর বাছাই ওসাকা হারলেন অমান্দা আনিসিমোভার (Amanda Anisimova) কাছে। টাইব্রেকে প্রথম সেট জিতে দারুণ শুরু করেছিলেন। কিন্তু সার্ভিসে বারবার ভুল করায় ম্যাচ হাতছাড়া। শেষ পর্যন্ত স্কোরলাইন ৭-৬ (৭-২), ৬-৭ (৫-৭), ৪-৬।
তবু হতাশ নন বিশ্বের প্রাক্তন এক নম্বর তারকা। মাতৃত্বকালীন বিরতির পর প্রথমবার গ্র্যান্ড স্ল্যামের শেষ চারে উঠেছেন। ভবিষ্যতের দিকে তাকিয়ে ওসাকা বললেন, ‘সত্যি বলতে দুঃখিত নই। অদ্ভুত লাগছে ঠিকই। কিন্তু জানি, আমি সাধ্যমতো দিয়েছি। এটা অনুপ্রাণিত করছে, আরও ভালো ট্রেনিং করতে। আবার চেষ্টা করব, দেখি কোথায় পৌঁছতে পারি!’
চারটি গ্র্যান্ড স্ল্যামের মালিক, বয়স মাত্র ২৭। এই কামব্যাক যাত্রা তাঁকে নতুন আলোয় ফের হাজির করেছে। হার মানিয়েও ভক্তদের কাছে উপহার দিয়ে গেলেন হাসি আর মজার গল্প। তবে ফাইনালে ‘ওসাকা লাবুবু’-কে না দেখানোর আক্ষেপটা রয়েই গেল।