ভারত–পাকিস্তান ম্যাচ শুধু দুই দেশের দ্বন্দ্ব নয়, বিশ্বক্রিকেটের অর্থনীতির মেরুদণ্ডও বটে। সেই ম্যাচ না হলে যে ক্ষতির বহর কতটা গভীর, তা এখন বোঝা যাচ্ছে।

ছবি: গুগল
শেষ আপডেট: 5 February 2026 16:39
দ্য ওয়াল ব্যুরো: টি–২০ বিশ্বকাপে (T20 World Cup) ভারত–পাক দ্বৈরথ মানে শুধু মাঠের লড়াই নয়, কয়েক হাজার কোটি টাকার অর্থনীতিও বটে। সেই ম্যাচ বয়কট করে পাকিস্তান (Pakistan) যে শুধু টিম ইন্ডিয়াকে (India) বার্তা দিতে চেয়েছে, তাই নয়—বিশ্বক্রিকেটের আর্থিক কাঠামোতেও লেগেছে জোর ধাক্কা। যার পরোক্ষ আঁচ পড়েছে বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ডের (Bangladesh Cricket Board) অন্দরেও।
এমনিতে বাইশ গজের লড়াইয়ের নিরিখে সবচেয়ে লাভজনক ম্যাচ ভারত–পাকিস্তান। সম্প্রচার স্বত্ব, বিজ্ঞাপন, স্পনসরশিপ, টিকিট বিক্রি থেকে শুরু করে আইনসম্মত বেটিং—সব মিলিয়ে এই একটি খেলার আর্থিক মূল্য ধরা হয় আনুমানিক ৫০ কোটি মার্কিন ডলার, ভারতীয় মুদ্রায় প্রায় সাড়ে ৪ হাজার কোটি টাকা। এই বিপুল অঙ্কের বড় অংশ যায় আন্তর্জাতিক ক্রিকেট কাউন্সিলের (International Cricket Council) কোষাগারে। পরে সেই লাভ ভাগ হয়ে পৌঁছয় সদস্য দেশগুলোর কাছে। কিন্তু সেই ম্যাচ না হলে কী হবে? বাংলাদেশ বোর্ডের একাংশের কপালে ভাঁজ পড়েছে এখানে! দেশের শীর্ষ সংবাদপত্র প্রথম আলো-কে (Prothom Alo) নাম প্রকাশ না করার শর্তে এক সিনিয়র বোর্ড কর্তা সাফ বলেছেন, ‘ভারত–পাকিস্তান ম্যাচ না হলে গোটা ক্রিকেট দুনিয়ার আর্থিক ক্ষতি। আমাদের ডিভিডেন্ডও কমবে। আমরা এমন ক্ষতি চাইনি।’
এই মন্তব্যের প্রেক্ষাপট গুরুত্বপূর্ণ। সম্প্রতি টি–২০ বিশ্বকাপ থেকে বাংলাদেশকে বাদ দেওয়া হয়। বিসিবি চেয়েছিল, তাদের ম্যাচগুলো ভারত থেকে সরিয়ে অন্য দেশে আয়োজন করা হোক। আইসিসি সেই দাবি মানেনি। বদলে স্কটল্যান্ডকে (Scotland) সুযোগ দেওয়া হয়। এরপরই পাকিস্তান ভারত ম্যাচ বয়কটের সিদ্ধান্ত নেয়—যাকে অনেকেই দেখছেন বাংলাদেশের পাশে দাঁড়ানোর প্রতীকী প্রতিবাদ হিসেবে।
তবে বাংলাদেশের অন্দরমহলে সবাই যে এই ‘সংহতির রাজনীতি’-তে খুশি, এমনটা নয়। পূর্বোক্ত বোর্ডকর্তার মতে, পাকিস্তানের উদ্দেশ্য নিয়ে খুব একটা ধোঁয়াশা নেই। তাঁর কথায়, ‘পাকিস্তান ভারতীয় ক্রিকেটের আধিপত্যকে চ্যালেঞ্জ জানাতে চেয়েছে। সেই দিক থেকে দেখলে সিদ্ধান্তটা তাদের কাছে যুক্তিযুক্ত মনে হতেই পারে।’
কিন্তু সমস্যা অন্য জায়গায়। আইসিসির কেন্দ্রীয় রাজস্ব তহবিল (ICC central revenue pool) কমলে তার প্রভাব পড়বে সব সদস্য দেশের উপর। শুধু বড় বোর্ড নয়, ছোট দেশগুলোও ক্ষতিগ্রস্ত হবে। আর্থিকভাবে দুর্বল বোর্ডগুলোর টিকে থাকা প্রশ্নের মুখে পড়বে। যে কারণে বাংলাদেশ বোর্ডের আরেক কর্তা উদ্বেগের সুরে বলেন, ‘এই সিদ্ধান্ত সরাসরি আইসিসির আয়ে প্রভাব ফেলবে। আমরা সবাই সেই তহবিলের অংশীদার। কেনিয়া (Kenya) বা উগান্ডার (Uganda) মতো দেশ হয়তো এক–দুই লাখ ডলার পেলেই খুশি। কিন্তু আমাদের পরিকাঠামো, খরচ—সেগুলো কীভাবে চলবে যদি আইসিসির আয় কমে যায়?’
সব মিলিয়ে ছবিটা পরিষ্কার। ভারত–পাকিস্তান ম্যাচ শুধু দুই দেশের দ্বন্দ্ব নয়, বিশ্বক্রিকেটের অর্থনীতির মেরুদণ্ডও বটে। সেই ম্যাচ না হলে যে ক্ষতির বহর কতটা গভীর, তা এখন বোঝা যাচ্ছে। হিসেব করতে বসে বাংলাদেশও যে স্বস্তিতে নেই, এতদিনে সেটা পরিষ্কার।