সব মিলিয়ে বার্তা স্পষ্ট। এই লড়াই শুধু একটি ম্যাচের নয়। এটি ক্ষমতার ভারসাম্য, বোর্ডগুলোর অধিকার আর ক্রিকেট শাসনের প্রশ্ন।

নাজম শেঠি
শেষ আপডেট: 5 February 2026 10:55
দ্য ওয়াল ব্যুরো: টি–২০ বিশ্বকাপে (T20 World Cup) ভারত–পাকিস্তান (India–Pakistan) ম্যাচ আদৌ হবে কি না—এই প্রশ্নে রুদ্ধশ্বাস উত্তেজনা। সেই অনিশ্চয়তার মধ্যে নতুন সম্ভাবনার কথা শোনালেন পাক ক্রিকেট বোর্ডের প্রাক্তন চেয়ারম্যান নাজম শেঠি (Najam Sethi)। তাঁর দাবি, বাংলাদেশ (Bangladesh) যদি ফের টুর্নামেন্টে অন্তর্ভুক্ত করে তাদের ম্যাচ শ্রীলঙ্কায় (Sri Lanka) আয়োজন করা হয়, তাহলে মহারণের দরজা খুলে যেতে পারে।
কেন আটকে ভারত–পাকিস্তান ম্যাচ?
বাংলাদেশকে টুর্নামেন্ট থেকে বাদ দেওয়ার সিদ্ধান্ত ঘিরেই যাবতীয় জট। নিরাপত্তা–সংক্রান্ত কারণে ম্যাচ শ্রীলঙ্কায় সরানোর অনুরোধ করেছিল বিসিবি (BCB)। কিন্তু সেই প্রস্তাবে আমল দেয়নি আইসিসি (ICC)। এর পরেই পাকিস্তানের অবস্থান রাজনৈতিক প্রতিবাদের রূপ নেয়। সরকারি বিবৃতির মাধ্যমে ইঙ্গিত দেওয়া হয়, পাকিস্তান ক্রিকেট বোর্ড (Pakistan Cricket Board) চাইলে টুর্নামেন্ট বয়কটের পথে হাঁটতে পারে।
এই সিদ্ধান্তকে নিছক ক্রীড়াগত ঘোষণা নয়, বরং রাজনৈতিক চাপ হিসেবেই দেখছে ক্রিকেট দুনিয়া। আর তার সবচেয়ে বড় ধাক্কা পড়ছে ভারত–পাকিস্তান ম্যাচে—যেটা নিঃসন্দেহে বিশ্ব ক্রিকেটের সবচেয়ে বড় ‘বাণিজ্যিক ও আবেগে’র ইভেন্ট।
শেঠির প্রস্তাব: এখনও দেরি হয়নি
এই জট খুলতেই শেঠির ‘আপাত-সরল’ প্রস্তাব। তাঁর কথায়, ‘বাংলাদেশকে যদি শ্রীলঙ্কায় ম্যাচ খেলার সুযোগ দেওয়া হয়, তাহলে সমস্যা অনেকটাই মিটে যাবে। ওখানে তো ইতিমধ্যেই একাধিক ম্যাচ হচ্ছে।’একটি সাক্ষাৎকারে তিনি স্পষ্ট বলেন, ‘সবাই ভারত বনাম পাকিস্তান দেখতে চায়। এটা ক্রিকেটের গোল্ড স্ট্যান্ডার্ড।’যুক্তি, বাংলাদেশ ফেরাতে পারলে পাকিস্তানের বয়কটের যুক্তিও অনেকটাই দুর্বল হবে। শেঠি আরও জানান, বর্তমান পিসিবি নেতৃত্ব আইনগত দিক খতিয়ে দেখেই অবস্থান নিয়েছে। অর্থাৎ, সিদ্ধান্ত হঠকারী নয়। তবে সমঝোতার রাস্তা এখনও খোলা বলেই তাঁর বিশ্বাস।
আইসিসি, বিসিসিআই আর পুরনো ক্ষোভ
এই বিতর্কের কেন্দ্রে রয়েছে বিসিসিআইয়ের (BCCI) প্রভাব। শেঠির অভিযোগ, ‘বিসিসিআই বছরের পর বছর অন্য বোর্ডগুলোকে কোণঠাসা করেছে।’তাঁর দাবি, আগে পাকিস্তান একা ছিল। এখন বাংলাদেশও একই অভিজ্ঞতার মুখোমুখি। শেঠি স্মরণ করালেন ‘বিগ থ্রি’ (Big Three) মডেলের বিরোধিতার কথাও—যেখানে ভারত, অস্ট্রেলিয়া ও ইংল্যান্ডের হাতে ক্ষমতা কেন্দ্রীভূত হচ্ছিল। তখন ন’টি বোর্ড চুপ থাকলেও পাকিস্তান প্রতিবাদ জানায়। পরে ভারত–পাক দ্বিপাক্ষিক সিরিজের প্রতিশ্রুতি দিয়েও শেষ মুহূর্তে সরে আসে বিসিসিআই—সেই ক্ষোভও এখনও তাজা।
তাঁর কথায়, ‘বাংলাদেশ আর পাকিস্তান মিলিয়ে ৪০ কোটি মানুষ। এটা দাঁড়ানোর সময়।’ যদিও নাজম মানছেন, এতে স্বল্পমেয়াদে ক্ষতি হওয়ার প্রবল সম্ভাবনা—ভারত–পাকিস্তান ম্যাচ না–ও হতে পারে। কিন্তু দীর্ঘমেয়াদে লক্ষ্য আইসিসির সংস্কার।
সব মিলিয়ে বার্তা স্পষ্ট। এই লড়াই শুধু একটি ম্যাচের নয়। এটি ক্ষমতার ভারসাম্য, বোর্ডগুলোর অধিকার আর ক্রিকেট শাসনের প্রশ্ন। বাংলাদেশকে ফেরানোই কি সেই গিঁট খুলতে পারে? বল এখন আইসিসির কোর্টে।