সাম্প্রতিক সময়ে অস্ট্রেলিয়ার বিরুদ্ধে ৩–০ সিরিজ জয় আত্মবিশ্বাস বাড়িয়েছে। অশ্বিনের মতে, ‘পাকিস্তানের সবচেয়ে বড় শত্রু পাকিস্তান নিজেই। মানসিকতা ঠিক না থাকলে সমস্যা।’

গম্ভীর ও অশ্বিন
শেষ আপডেট: 4 February 2026 12:31
দ্য ওয়াল ব্যুরো: ভারত–পাকিস্তান ম্যাচ শুধু ক্রিকেট নয়—টেলিভিশন রেটিং, স্পনসরশিপ, আইসিসির রাজস্ব আর বিশ্ব ক্রিকেটের বাণিজ্যিক ভারসাম্যের প্রশ্নও বটে। কিন্তু সেই খেলাই যদি না হয়? প্রশ্ন উঠেছে পাকিস্তানের ভারত-ম্যাচ বয়কটের হুঙ্কারে! এই নিয়ে বিশ্ব ক্রিকেটে চাপা উত্তেজনা। যদিও টি–২০ বিশ্বকাপে (T20 World Cup 2026) ভারতের বিরুদ্ধে সলমন-বাবরদের না খেলার সিদ্ধান্ত নিয়ে এবার ভিন্ন সুরে জোরালো ভবিষ্যদ্বাণী করলেন প্রাক্তন স্পিনার রবিচন্দ্রন অশ্বিন (Ravichandran Ashwin)। তাঁর দাবি, ‘চার–পাঁচ দিনের মধ্যেই পাকিস্তান পিছু হটবে।’
অন্যদিকে, একই ইস্যুতে ভারতীয় দলের হেডকোচ গৌতম গম্ভীর (Gautam Gambhir) একেবারে নীরব। এড়িয়ে গেলেন প্রশ্ন। ফলে একদিকে অশ্বিনের আত্মবিশ্বাসী বিশ্লেষণ, অন্যদিকে গম্ভীরের কৌশলী নীরবতা—দুটো মিলিয়ে আসন্ন ম্যাচ ঘিরে জল্পনা আরও ঘনীভূত।
অশ্বিনের ভবিষ্যদ্বাণী: ‘ম্যাচ হবেই, না হলে ক্ষতি পাকিস্তানের’
নিজের ইউটিউব চ্যানেলে স্পষ্ট ভাষায় অশ্বিন বলেন, ‘১০০ শতাংশ নিশ্চিত, ম্যাচটা হবে। পাকিস্তান চার–পাঁচ দিনের মধ্যেই অবস্থান বদলাবে।’তাঁর যুক্তি ভারত–পাক খেলা না হলে সম্প্রচারকারী সংস্থাগুলোর (Broadcasters) বিপুল আর্থিক ক্ষতি। শুধু তাই নয়, আইসিসির (ICC) অন্যান্য সদস্য দেশও এর ফল ভুগবে। যে কারণে আইসিসি বৈঠকে পাকিস্তান ক্রিকেট বোর্ডের (Pakistan Cricket Board) উপর। চাপ বাড়বেই।
অশ্বিন আরও জানান, এই সিদ্ধান্তের প্রভাব পড়তে পারে পাকিস্তান সুপার লিগে (Pakistan Super League)। বিদেশি ক্রিকেটারদের এনওসি (NOC) পাওয়া নিয়ে সমস্যা দানা বাঁধবে। অর্থাৎ, বয়কট শুধু রাজনৈতিক বার্তা নয়, ক্রিকেটীয় ও আর্থিক দিক থেকেও আত্মঘাতী হওয়ার জোরালো সম্ভাবনা।
যদিও অশ্বিনের সবচেয়ে কড়া মন্তব্যটা নীতিগত। তাঁর কথায়, ‘নিরপেক্ষ ভেন্যুতে ম্যাচ হচ্ছে। সেখানে বলার সুযোগ নেই, যে আমি অমুক দলের বিরুদ্ধে খেলব না। এটা গ্রহণযোগ্য নয়!’ তাঁর আশা, শেষ পর্যন্ত বোধবুদ্ধিই নিয়ামকের ভূমিকা নেবে।
গম্ভীরের নীরবতা: কূটনৈতিক বার্তা?
গতকাল এয়ারপোর্টে সাংবাদিকদের মুখোমুখি হন গৌতম গম্ভীর (Gautam Gambhir)। বিশ্বকাপের প্রস্তুতি নিয়ে শুভেচ্ছার প্রত্যুত্তরে ধন্যবাদ জানালেও পাকিস্তানের বয়কট প্রসঙ্গে প্রশ্ন শুনেই হাঁটা লাগান। কোনও মন্তব্য নয়। কোনও প্রতিক্রিয়া নয়। এই নীরবতা কি সুচিন্তিত কৌশল? অনেকেই মনে করছেন, বিষয়টি রাজনৈতিক ও কূটনৈতিকভাবে সংবেদনশীল। তাই কোচ হিসেবে প্রকাশ্যে কিছু না বলাই শ্রেয় মনে করেছেন গম্ভীর। ভারতীয় শিবির আপাতত মাঠের প্রস্তুতিতেই মন দিতে চায়—দক্ষিণ আফ্রিকার (South Africa) বিরুদ্ধে ওয়ার্ম–আপ ম্যাচ, তারপর গ্রুপ পর্বের লড়াই।
বিশ্বকাপে টিম ইন্ডিয়া ও পাকিস্তান একই গ্রুপে—সঙ্গে নামিবিয়া (Namibia), নেদারল্যান্ডস (Netherlands) ও আমেরিকা (USA)। সূচি অনুযায়ী ১৫ ফেব্রুয়ারি কলম্বোতে (Colombo) ভারত-পাক মহারণ হওয়ার কথা।
আইসিসির চাপ ও পাকিস্তানের দ্বিধা
এর মধ্যে আইসিসির (ICC) স্পষ্ট বার্তা—ভারতের বিরুদ্ধে ম্যাচ না খেললে ‘গুরুতর পরিণতি’ হতে পারে। যদিও এখনও পর্যন্ত পাকিস্তান ক্রিকেট বোর্ড (Pakistan Cricket Board) আনুষ্ঠানিকভাবে কোনও চিঠি দেয়নি। ফলে অচলাবস্থা চলছে। তবে অশ্বিন সাবধান করে দিয়েছেন, পাকিস্তানকে হালকাভাবে নিলে সেটা বড় ভুল হতে পারে। সাম্প্রতিক সময়ে অস্ট্রেলিয়ার (Australia) বিরুদ্ধে ৩–০ সিরিজ জয় আত্মবিশ্বাস বাড়িয়েছে। অশ্বিনের মতে, ‘পাকিস্তানের সবচেয়ে বড় শত্রু পাকিস্তান নিজেই। মানসিকতা ঠিক না থাকলে সমস্যা।’