কলম্বোর আকাশ যদি একবারও মুখ ভার করে, তাহলে সলমন-বাবরদের সুপার এইট স্বপ্ন মাঠে নামার আগেই শেষ হয়ে যাবে। এখানে ভারতের ভূমিকা গৌণ। সবচেয়ে বড় প্রতিপক্ষ—বৃষ্টি।
.jpeg.webp)
গ্রাফিক্স: গার্গী দাস
শেষ আপডেট: 4 February 2026 11:44
দ্য ওয়াল ব্যুরো: সিদ্ধান্তটা রাজনৈতিক। কিন্তু চূড়ান্ত ফল পুরোপুরি ক্রিকেটীয়। ঘোষিত সিদ্ধান্তমতে, পাকিস্তান (Pakistan) ভারত-ম্যাচ বয়কটের পথে হাঁটতে চলেছে আসন্ন টি-২০ বিশ্বকাপে (T20 World Cup)। অথচ সমস্যার মূলে ভারত নয়। আসল বিপদ লুকিয়ে আকাশে। ভেঙে বললে: কলম্বোর (Colombo) বৃষ্টি। গ্রুপ পর্বের অঙ্ক বলছে, টিম ইন্ডিয়ার বিরুদ্ধে না খেললে শুধু দুই পয়েন্ট নয়, কার্যত সুপার এইটের দরজাও বন্ধ হয়ে যেতে পারে পাকিস্তানের জন্য।
এক ম্যাচ বয়কট, দু’টি ম্যাচ বৃষ্টির মুখে
পাকিস্তান গ্রুপ পর্বে চারখানা ম্যাচ খেলবে শ্রীলঙ্কায়। তার মধ্যে একটি—ভারতের বিরুদ্ধে (India)—সরকারি সিদ্ধান্তে বয়কট। বাকি তিনটির মধ্যে দু’টি খেলাতেই বৃষ্টির আশঙ্কা প্রকট। অ্যাকুওয়েদারের (AccuWeather) পূর্বাভাস অনুযায়ী, ৭ ফেব্রুয়ারি নেদারল্যান্ডসের বিরুদ্ধে বৃষ্টির সম্ভাবনা প্রায় ৬৪ শতাংশ, বিশেষ করে ম্যাচের দ্বিতীয়ার্ধে। অর্থাৎ, খেলা ভেস্তে যাওয়ার বাস্তব সম্ভাবনা ষোলো আনা। ১৮ ফেব্রুয়ারি নামিবিয়ার বিরুদ্ধে ম্যাচে আশঙ্কা তুলনামূলক কম—২৫ শতাংশ। একমাত্র যে ম্যাচে বৃষ্টির কোনও সম্ভাবনা নেই, সেটা যুক্তরাষ্ট্রের বিরুদ্ধে।
সরল অঙ্কে ধরলে—চার ম্যাচের মধ্যে একটিতে খেলাই হবে না, একটিতে পুরো ম্যাচ হওয়ার সম্ভাবনা ক্ষীণ, আর একটিতে আংশিক খেলার ঝুঁকি। এমন পরিস্থিতিতে গ্রুপ থেকে এগনোর জন্য যে ধারাবাহিকতা দরকার, সেটা পাওয়া প্রায় অসম্ভব।
ভারতের বিরুদ্ধে না খেললে রান রেটে ধস অনিবার্য
ভারত-ম্যাচ বয়কট শুধু দুই পয়েন্ট হারানো নয়। সবচেয়ে বড় ধাক্কা আসবে নেট রান রেটে (NRR)। আইসিসি-র (ICC) প্লেয়িং কন্ডিশনের ধারা ১৬.১০.৭ অনুযায়ী, কোনও দল ম্যাচ বয়কট করলে তাকে ‘ফরফিট’ ধরা হয়। ফলাফল—বয়কট করা দলকে পুরো ২০ ওভার খেলে শূন্য রানে অলআউট মনে করা হবে। প্রতিপক্ষের রান রেটে কোনও প্রভাব পড়বে না।
অর্থাৎ, পাকিস্তানের ক্ষেত্রে কাগজে-কলমে এক ম্যাচে ০/২০ ওভার। এমন ধাক্কা সামলে ওঠা কার্যত অসম্ভব, বিশেষ করে যখন বাকি ম্যাচগুলো বৃষ্টির কারণে ছোট হয়ে যাওয়ার জোরালো সম্ভাবনা। বৃষ্টি-বিঘ্নিত খেলায় বড় ব্যবধানে জেতার সুযোগ থাকে না। আর সেটাই পাকিস্তানের সবচেয়ে বড় সমস্যা।
বৃষ্টি বনাম বাস্তব: সুপার এইট কার্যত অধরা
ভারত ম্যাচ খেললে হারলেও পাকিস্তান নেট রানরেটের লড়াইয়ে থাকত। টি-২০ ফরম্যাটে, বিশেষ করে অনিশ্চিত উইকেটে, পাকিস্তান যে কোনও দলের বিরুদ্ধে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করতে পারে—এটা অস্বীকার করার জায়গা নেই। কিন্তু ম্যাচ না খেললে সেই সুযোগটাই উধাও। এর উপর যদি নেদারল্যান্ডস ম্যাচ ভেস্তে যায় বা নামিবিয়া ম্যাচ বৃষ্টিতে কাটছাঁট হয়, তাহলে পয়েন্ট টেবিলের অঙ্ক আরও কঠিন হয়ে উঠবে। গ্রুপ পর্বে প্রতিটি ওভার, প্রতিটি রান তখন সোনার সমান। আর পাকিস্তান শুরু থেকেই সেই দৌড়ে পিছিয়ে থাকবে।
সব মিলিয়ে বাস্তব ছবিটা পরিষ্কার। ভারত বয়কট রাজনৈতিক বার্তা হতে পারে, কিন্তু ক্রিকেটীয় অঙ্কে এটা আত্মঘাতী সিদ্ধান্ত। কলম্বোর আকাশ যদি একবারও মুখ ভার করে, তাহলে সলমন-বাবরদের সুপার এইট স্বপ্ন মাঠে নামার আগেই শেষ হয়ে যাবে। এখানে ভারতের ভূমিকা গৌণ। সবচেয়ে বড় প্রতিপক্ষ—বৃষ্টি।