এখন দেখার, শেষ পর্যন্ত পিসিবি অবস্থান বদলায় কি না। না বদলালে, এই সিদ্ধান্তের মূল্য দিতে হতে পারে মাঠের বাইরে—কাগজে–কলমে, আদালতে এবং আর্থিক খাতায়।

মহসিন নকভি
শেষ আপডেট: 4 February 2026 11:16
দ্য ওয়াল ব্যুরো: টি–২০ বিশ্বকাপের (T20 World Cup) মঞ্চে ভারতের বিরুদ্ধে ম্যাচ না খেলার সিদ্ধান্তে পাকিস্তান ক্রিকেট বোর্ডের (Pakistan Cricket Board – PCB) সামনে বড়সড় আইনি ও আর্থিক বিপদের ঘণ্টা বাজাল আন্তর্জাতিক ক্রিকেট কাউন্সিল (International Cricket Council – ICC)। স্পষ্ট করে জানানো হয়েছে—এই সিদ্ধান্ত থেকে সরে না এলে সম্প্রচারকারী সংস্থা জিওহটস্টার (JioHotStar) আইনি পথে হাঁটতে পারে। আর তার সরাসরি ফলবাবদ পাকিস্তানের বার্ষিক রাজস্ব থেকে প্রায় ৩৫০ কোটি টাকা কেটে নেওয়া হতে পারে।
ম্যাচ বয়কট, আইনি নোটিসের আশঙ্কা
আইসিসি সূত্রে খবর, ১৫ ফেব্রুয়ারি সরকারের নির্দেশে ভারতের বিরুদ্ধে নির্ধারিত ম্যাচ বয়কট করার সিদ্ধান্ত নেয় পিসিবি। কিন্তু এখনও পর্যন্ত আইসিসির কাছে লিখিতভাবে কোনও ব্যাখ্যা জমা দেয়নি পাকিস্তান ক্রিকেট বোর্ড। এই অবস্থায় আন্তর্জাতিক ক্রিকেট কাউন্সিলের স্পষ্ট বক্তব্য—বিশ্বকাপের অফিসিয়াল সম্প্রচারকারী সংস্থা জিওস্টারের সঙ্গে করা চার বছরের বাণিজ্যিক চুক্তিতে ভারত–পাকিস্তান ম্যাচ ছিল অন্যতম মূল উপাদান। সেই ম্যাচ না হলে তারা চুক্তিভঙ্গের অভিযোগে আইনি মামলা করতে পারে। এমনকি পাকিস্তানের পুরো বার্ষিক রাজস্ব অংশ—প্রায় ৩৫ মিলিয়ন মার্কিন ডলার, ভারতীয় মুদ্রায় আনুমানিক ৩৫০ কোটি টাকা—আটকে রেখে সেই অর্থ সম্প্রচারকারী সংস্থাকে ক্ষতিপূরণ হিসেবে দেওয়া হতে পারে।
ডিআরসি-তে যাওয়ার পথও বন্ধ?
পিসিবি চেয়ারম্যান মহসিন নকভি (Mohsin Naqvi) ইতিমধ্যে বোর্ডের আইনি পরামর্শদাতাদের সঙ্গে আলোচনা করে বিষয়টি পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী শাহবাজ শরিফকে (Shehbaz Sharif) জানিয়েছেন। তবু বাস্তব পরিস্থিতি মোটেও স্বস্তির নয়। পিসিবিরই এক সূত্রের মন্তব্য, ‘পাকিস্তান যদি সিদ্ধান্তে অনড় থাকে, তাহলে আর্থিক জরিমানার পাশাপাশি সম্প্রচারকারীর মামলার মুখেও পড়তে পারে। এমনকি আইসিসির ডিসপিউট রেজোলিউশন কমিটিতে (Dispute Resolution Committee – DRC) গিয়েও বিশেষ সুবিধা মিলবে না।’কারণ ডিআরসি মূলত আইসিসির অভ্যন্তরীণ কমিটি। নিজেদের বোর্ডের সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে সেখানে আপিল শোনার সুযোগ নেই।
‘নিরপেক্ষ ভেন্যু’ যুক্তি কেন দুর্বল?
আরও একটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় সামনে এসেছে। পাকিস্তান নিজেদের সব ম্যাচ খেলছে নিরপেক্ষ ভেন্যু শ্রীলঙ্কায় (Sri Lanka)। অর্থাৎ, তারা মাঠে নামতে অস্বীকার করছে না—স্রেফ ভারতের বিরুদ্ধেই খেলতে নারাজ। আইসিসির যুক্তি, অতীতে ভারত সরকার পাকিস্তানে খেলতে অনুমতি না দিলেও নিরপেক্ষ ভেন্যুতে ভারত-পাক ম্যাচে কোনও আপত্তি তোলা হয়নি—এশিয়া কাপ বা আইসিসি ইভেন্টে তার নজির রয়েছে। এই প্রেক্ষাপটে আরও দুর্বল হয়ে পড়ছে পিসিবির অবস্থান। উপরন্তু, এই বয়কট সিদ্ধান্তকে বাংলাদেশের (Bangladesh) পাশে দাঁড়ানোর প্রতীকী পদক্ষেপ হিসেবে দেখা হচ্ছে বলেও সূত্রের দাবি।
বড় ছবি কী বলছে?
আইসিসি ও সম্প্রচারকারী সংস্থার মধ্যে হওয়া বাণিজ্যিক চুক্তির ভিত্তিতেই প্রতিটি দেশের রাজস্ব বণ্টন হয়। ভারত-পাকিস্তান ম্যাচ বাদ গেলে শুধু টুর্নামেন্টের সম্প্রচারমূল্য নয়, পুরো আর্থিক কাঠামোই ক্ষতিগ্রস্ত হবে। তাই আইসিসির অবস্থান পরিষ্কার—এটা কেবল রাজনৈতিক বা কূটনৈতিক ইস্যু নয়, সরাসরি চুক্তিভিত্তিক দায়বদ্ধতার প্রশ্ন।
সংক্ষেপে বললে, ভারতের বিরুদ্ধে ম্যাচ না খেললে পাকিস্তানের সামনে তিনটে ঝুঁকি একসঙ্গে—
১) ৩৫০ কোটি টাকা রাজস্ব হারানো।
২) সম্প্রচারকারীর আইনি মামলা।
৩) আইসিসির অভ্যন্তরীণ ব্যবস্থায় কোনও কার্যকর আপিলের পথ না থাকা।
এখন দেখার, শেষ পর্যন্ত পিসিবি অবস্থান বদলায় কি না। না বদলালে, এই সিদ্ধান্তের মূল্য দিতে হতে পারে মাঠের বাইরে—কাগজে–কলমে, আদালতে এবং আর্থিক খাতায়।