ক্রিকেট দুনিয়ায় কেউই প্রকাশ্যে পাকিস্তানের পাশে দাঁড়াচ্ছে না। বরং, বোর্ডরুমে ধীরে ধীরে কোণঠাসা হয়ে পড়ছে পিসিবি।

জয় শাহ ও মহসিন নকভি
শেষ আপডেট: 3 February 2026 13:10
দ্য ওয়াল ব্যুরো: বিশ্বকাপের ভারত ম্যাচ বয়কট করে আন্তর্জাতিক মহলে জল মাপার চেষ্টা করেছিল পাকিস্তান ক্রিকেট বোর্ড। কিন্তু বাস্তবে যা ঘটেছে, তা মহসিন নকভিকে স্বস্তিতে রাখবে না! ফেব্রুয়ারির ১৫ তারিখের ভারত–পাকিস্তান ম্যাচ ঘিরে নেওয়া বয়কট-অবস্থানে সমর্থন তো দূরের কথা, উলটে ক্রমশ একঘরে হয়ে পড়ছে পিসিবি (Pakistan Cricket Board)। আন্তর্জাতিক ক্রিকেট দুনিয়ায় তাদের পাশে দাঁড়াল—এমন একটি বোর্ডের নামও খুঁজে পাওয়া যাচ্ছে না।
একাধিক সূত্র জানিয়েছে, ভারতের বিরুদ্ধে নামার সিদ্ধান্তে সমর্থন পেতে পিসিবি (Pakistan Cricket Board) বিভিন্ন দেশের ক্রিকেট বোর্ডের সঙ্গে যোগাযোগ করেছিল। কিন্তু প্রত্যেক জায়গা থেকে শোনা গিয়েছে একটাই বার্তা—এই ইস্যুতে পাকিস্তানের কোনও ‘লিগ্যাল স্ট্যান্ডিং’ নেই।
বোর্ডরুমে একা পিসিবি, আইসিসিতেও পৌঁছয়নি চিঠি
সবচেয়ে বড় ধাক্কা, এখনও পর্যন্ত আন্তর্জাতিক ক্রিকেট কাউন্সিলের (International Cricket Council) কাছেই নাকি কোনও আনুষ্ঠানিক চিঠি দেয়নি পাকিস্তান ক্রিকেট বোর্ড (Pakistan Cricket Board)! অথচ পাকিস্তান সরকারের তরফে সোশ্যাল মিডিয়ায় ম্যাচ বয়কটের ঘোষণা হয়ে গিয়েছে। এই দ্বৈত অবস্থান পিসিবিকে আরও অস্বস্তিকর জায়গায় ঠেলে দিচ্ছে। আন্তর্জাতিক বোর্ডগুলোর সামগ্রিক বক্তব্য—বিশ্বকাপের মতো টুর্নামেন্টে ‘সিলেক্টিভ পার্টিসিপেশন’মানে নিজের সুবিধেমতো ম্যাচ খেলব, আবার খেলব না—এই তত্ত্ব মেনে নেওয়া যায় না। বিশেষ করে যখন খেলা নিরপেক্ষ ভেন্যু কলম্বোয় হওয়ার কথা, তখন নিরাপত্তার যুক্তিও টেকসই নয়।
আরও বড় সমস্যা, বাংলাদেশ ইস্যুতে মুখে ‘সংহতি’ দেখানোর কথা বললেও, বাস্তবে পাকিস্তানের কাজকর্মে তার কোনও ধারাবাহিকতা নেই। অনূর্ধ্ব-১৯ বিশ্বকাপে ভারত–পাক ম্যাচ হয়েছে, সেখানে কোনও প্রতিবাদ ছিল না। একই দিনে পাকিস্তান মহিলা ‘এ’ দলও ভারত ‘এ’ টিমের বিরুদ্ধে মাঠে নেমেছে, রাইজিং স্টারস এশিয়া কাপেও বয়কটের কোনও নামগন্ধ ছিল না। ফলে আন্তর্জাতিক মহলের চোখে এই অবস্থান আসলে তৈরি করা সমস্যা… ‘ম্যানুফ্যাকচার্ড ক্রাইসিস’!
নিষেধাজ্ঞা ও আর্থিক বিপর্যয়ের আশঙ্কা
সমর্থন না পেয়ে এবার উলটে বড়সড় বিপদের মুখে পাকিস্তান ক্রিকেট বোর্ড (Pakistan Cricket Board)। সূত্রের খবর, আন্তর্জাতিক ক্রিকেট কাউন্সিল (International Cricket Council) ইতিমধ্যেই ‘দীর্ঘমেয়াদি নিষেধাজ্ঞা’-র সম্ভাবনার কথা জানিয়েছে। ম্যাচ বয়কট করলে শুধু পয়েন্ট হারানো নয়, ৩৮ মিলিয়ন ডলারেরও বেশি আর্থিক ক্ষতির ঝুঁকি। স্পনসরশিপ, সম্প্রচার চুক্তি—সবই প্রশ্নের মুখে।
এই আবহে বোর্ডগুলোর স্পষ্ট বার্তা—বিশ্বকাপ কোনও দ্বিপাক্ষিক সিরিজ নয়। এখানে নিয়ম সবার জন্য এক। পাকিস্তান যদি শেষ মুহূর্তে সরে দাঁড়ায়, তাহলে তা শুধু প্রতিপক্ষ নয়, পুরো টুর্নামেন্ট কাঠামোকেই আঘাত করবে। যার ফল ভুগতে হবে পাকিস্তান ক্রিকেটকে।
এখনও কি পথ বদলের সুযোগ আছে?
ক্রিকেট দুনিয়ায় কেউই প্রকাশ্যে পাকিস্তানের পাশে দাঁড়াচ্ছে না। বরং, বোর্ডরুমে ধীরে ধীরে কোণঠাসা হয়ে পড়ছে পিসিবি। তবু সময় পুরোপুরি ফুরোয়নি। শেষ মুহূর্তে অবস্থান বদলালে হয়তো বড় বিপর্যয় এড়ানো সম্ভব। কিন্তু যদি অনড় থাকে পাকিস্তান ক্রিকেট বোর্ড (Pakistan Cricket Board), তাহলে এই বয়কটের সিদ্ধান্ত ইতিহাসে লেখা থাকবে প্রতিবাদের নামে নিজের পায়ে কুড়ুল মারা এক ভয়াবহ ভুলের নজির হিসেবে!