নাসের হুসেনের মন্তব্য শুধু একটি বিশ্বকাপ ঘিরে নয়। এটা বিশ্ব ক্রিকেটের শাসনব্যবস্থা, ক্ষমতার ভারসাম্য আর ন্যায্যতার প্রশ্নে সতর্কবার্তা।

নাসের হুসেন
শেষ আপডেট: 5 February 2026 10:35
দ্য ওয়াল ব্যুরো: টি-২০ বিশ্বকাপ ঘিরে যে রাজনৈতিক ও প্রশাসনিক টানাপড়েন চলছে, তা আর শুধু মাঠের বাইরের গল্প নয়—এখন তা বিশ্বক্রিকেটের ক্ষমতার ভারসাম্য নিয়েই প্রশ্ন তুলে দিচ্ছে। এই পরিস্থিতিতে আইসিসি (ICC) ও ভারতীয় ক্রিকেট বোর্ড বিসিসিআইয়ের (Board of Control for Cricket in India) ভূমিকা নিয়ে সরাসরি আঙুল তুললেন প্রাক্তন ইংল্যান্ড অধিনায়ক নাসের হুসেন। (Nasser Hussain)। তাঁর স্পষ্ট মন্তব্য—‘বড় বোর্ডদের জন্য এক নিয়ম, ছোটদের জন্য আরেক নিয়ম’আর মেনে নেওয়া যায় না।
ক্ষমতার অসমতা আর আইসিসির দ্বিচারিতা
স্কাই স্পোর্টসের পডকাস্টে মাইকেল অ্যাথার্টনের সঙ্গে আলোচনায় নাসের হুসেন জানান, আইসিসি ধারাবাহিকভাবে প্রভাবশালী বোর্ডগুলোর দিকে ঝুঁকে পড়ছে। তাঁর প্রশ্ন একেবারে সোজাসাপটা—ভারতের জায়গায় অন্য কোনও দেশ থাকলে কি একই রকম কঠোর সিদ্ধান্ত নেওয়া হত?
নাসেরের কথায়, ‘ধরা যাক, বিশ্বকাপের ঠিক এক মাস আগে ভারত বলল—সরকারি কারণে তারা কোনও দেশে খেলতে যাবে না। তখন কি আইসিসি বলত, “নিয়ম তো নিয়মই, তোমরা বাদ?” আমার সন্দেহ আছে।’এই সওয়াল কার্যত গোটা বিতর্কের কেন্দ্রবিন্দু—নিয়ম সবার জন্য সমান, নাকি ক্ষমতার ভিত্তিতে তা বদলে যায়?
বাংলাদেশ–পাকিস্তানের অবস্থান কেন সমর্থনযোগ্য?
সমস্যার সূত্রপাত বাংলাদেশের পেসার মুস্তাফিজুর রহমানের আইপিএল চুক্তি বাতিল হওয়াকে কেন্দ্র করে। যার জেরে বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ড (Bangladesh Cricket Board) বিশ্বকাপের জন্য ভারতে যেতে অস্বীকার করে। পরিস্থিতি আরও ঘোরালো হয়, যখন পাকিস্তান জানায়, তারা ভারতের বিরুদ্ধে গ্রুপ ম্যাচ খেলবে না। এই অবস্থানকে সমর্থন করেই নাসের হুসেন বলেন, ‘আমি সত্যিই ভালো লেগেছে, যে বাংলাদেশ তাদের খেলোয়াড়দের পাশে দাঁড়িয়েছে। পাকিস্তানও বাংলাদেশকে সমর্থন করেছে—এটাও ভালোলাগার কারণ!’ তাঁর মতে, বারবার বাংলাদেশ বা পাকিস্তানকে চেপে ধরলে তাদের ক্রিকেট দুর্বল হয়ে পড়ে। আর তাতে ক্ষতি হয় বিশ্বক্রিকেটের—কারণ তখন ভারত–পাকিস্তান বা ভারত–বাংলাদেশ ম্যাচগুলোর প্রতিদ্বন্দ্বিতা একপেশে হয়ে যায়।
এই প্রসঙ্গে নাসেরের স্পষ্ট বার্তা, ‘ক্ষমতার সঙ্গে দায়িত্বও আসে। শুধু টাকা আছে বলে সব সিদ্ধান্ত নিজের পক্ষে টেনে নেওয়া দীর্ঘমেয়াদে ক্রিকেটের জন্য ক্ষতিকর!’
নিরপেক্ষ ভেন্যুও কি সমাধান নয়?
আগেই চ্যাম্পিয়ন্স ট্রফির জন্য ভারত–পাকিস্তান ম্যাচ নিরপেক্ষ ভেন্যুতে করার সিদ্ধান্ত নিয়েছিল আইসিসি। কিন্তু সেই সমাধানও যে স্থায়ী নয়, সেটা এখন স্পষ্ট। পাকিস্তান নিরপেক্ষ ভেন্যু থাকা সত্ত্বেও ভারতের বিরুদ্ধে খেলতে নারাজ। এখনও তারা আইসিসিকে আনুষ্ঠানিকভাবে জানায়নি, ফলে আইসিসির হাতও আপাতত বাঁধা।
এই প্রসঙ্গে পাকিস্তান ক্রিকেট বোর্ডের (Pakistan Cricket Board) প্রাক্তন চেয়ারম্যান নাজাম শেঠির মন্তব্যও তাৎপর্যপূর্ণ। তাঁর অভিযোগ, বিসিসিআই বারবার প্রভাব খাটিয়ে অন্য বোর্ডগুলিকে কোণঠাসা করেছে। ‘একসময় আমরা একা দাঁড়িয়ে “বিগ থ্রি” মডেলের বিরোধিতা করেছিলাম, কারণ সেটা অসম। পরে অনেক কিছু বদলালেও মনোভাব বদলায়নি!’ বলেছেন শেঠি।
সব মিলিয়ে, নাসের হুসেনের মন্তব্য শুধু একটি বিশ্বকাপ ঘিরে নয়। এটা বিশ্ব ক্রিকেটের শাসনব্যবস্থা, ক্ষমতার ভারসাম্য আর ন্যায্যতার প্রশ্নে সতর্কবার্তা। রাজনীতি বাদ দিয়ে ক্রিকেট খেলাই কি আবার অগ্রাধিকার পাবে? উত্তরটা এখনও অধরা।