মাত্র ২৯ বলে অর্ধশতক—গ্যালারিতে অনুরাগীরা না থাকলেও উচ্ছ্বাস ছড়িয়ে পড়ে সোশ্যাল মিডিয়ায়। অফসাইডে ড্রাইভ, পাঞ্চ, সঙ্গে দ্রুত রান নেওয়া—চেনা বিরাট চেনা মেজাজেই ধরা দেন।
_1.jpeg.webp)
বিরাট কোহলি
শেষ আপডেট: 26 December 2025 11:40
দ্য ওয়াল ব্যুরো: একই দিনে দুই শহরে দুই তারকার দুই রকম গল্প। জয়পুরে যেখানে প্রথম বলেই ফিরে গেলেন রোহিত শর্মা (Rohit Sharma), বেঙ্গালুরুতে ব্যাট হাতে ঝলসে উঠলেন বিরাট কোহলি (Virat Kohli)। সেঞ্চুরি না এলেও ৭৭ রানের ইনিংস বুঝিয়ে দিল—ফর্মে কোনও ঘাটতি নেই। বিজয় হাজারে ট্রফিতে (Vijay Hazare Trophy 2025–26) দিল্লির জার্সিতে আবারও দলের ভরসা হয়ে দাঁড়ালেন বিরাট।
ঝড়ো শুরু, দ্রুত ফিফটি
বেঙ্গালুরুর বিসিসিআই সেন্টার অফ এক্সেলেন্সে (BCCI Centre of Excellence, Bengaluru) গুজরাতের বিরুদ্ধে ম্যাচে দ্বিতীয় ওভারেই নামতে হয় কোহলিকে। ওপেনার প্রিয়াংশ আর্য (Priyansh Arya) ফিরতেই দায়িত্ব কাঁধে। সিটি গাজার (CT Gaja) প্রথম স্পেলে একেবারেই সময় নষ্ট করেননি বিরাট। প্রথম ১৬ বলে পৌঁছে যান ৩০-এর ঘরে। স্ট্রাইক রেট তখন ১৯০-এর উপরে।
মাত্র ২৯ বলে অর্ধশতক—গ্যালারিতে অনুরাগীরা না থাকলেও উচ্ছ্বাস ছড়িয়ে পড়ে সোশ্যাল মিডিয়ায়। অফসাইডে ড্রাইভ, পাঞ্চ, সঙ্গে দ্রুত রান নেওয়া—চেনা বিরাট চেনা মেজাজেই ধরা দেন। প্রথম ম্যাচে অন্ধ্রপ্রদেশের (Andhra) বিরুদ্ধে সেঞ্চুরির পর মনে হচ্ছিল, টানা দ্বিতীয় শতরান সময়ের অপেক্ষা।
অ্যাঙ্করের ভূমিকায় বিরাট
যদিও অন্য প্রান্তে একের পর এক উইকেট পড়ে যাওয়ায় বিরাটকে ইনিংসের গতি বদলাতে হয়। অর্পিত রানা (Arpit Rana) করেন ১০, নীতিশ রানা (Nitish Rana) ফেরেন ২২ বলে ১২ রানে। দিল্লির ইনিংস তখন টলমল করছে। এই পরিস্থিতিতে আক্রমণাত্মক কোহলিকে একটু সংযত হতে হয়। ফিফটির পর স্ট্রাইক রেট নামলেও উইকেটে দাঁড়িয়ে থাকার দায়িত্ব নেন। দলের প্রয়োজনে ঝুঁকি কমান। শেষ পর্যন্ত ৬১ বলে ৭৭ রানে থামতে হয় তাঁকে—ঘাতক সেই সিটি গাজা! ১৩টি চার ও একটি ছক্কায় সাজানো ইনিংসটা সেঞ্চুরি না হলেও ছিল সম্পূর্ণ নিয়ন্ত্রিত, পরিণত।
জয়পুরে উল্টো ছবি, রোহিতের গোল্ডেন ডাক
একই দিনে সম্পূর্ণ বিপরীত ছবি জয়পুরে। সাওয়াই মান সিং স্টেডিয়ামে (Sawai Mansingh Stadium, Jaipur) উত্তরাখণ্ডের (Uttarakhand) বিরুদ্ধে ম্যাচে নামতেই বিপর্যয়। আগের ম্যাচে সিকিমের (Sikkim) বিরুদ্ধে ১৫৫ রানের বিধ্বংসী ইনিংসের পর রোহিত শর্মার থেকে প্রত্যাশা ছিল আকাশছোঁয়া। কিন্তু প্রথম ওভারেই সব শেষ। দেবেন্দ্র সিং বোরার (Devendra Singh Bora) বলে পুল করতে গিয়ে ফাইন লেগে জগমোহন নাগরকোটির (Jagmohan Nagarkoti) হাতে ক্যাচ। গোল্ডেন ডাক! গ্যালারিতে উপস্থিত হাজারো দর্শকের মুখে নেমে আসে হতাশা।
দুই শহর, দুই বার্তা
বিজয় হাজারে ট্রফির এই দিনে রোহিত-বিরাট জুটি আবারও দেখিয়ে দিল—ফর্ম আর ব্যর্থতা পাশাপাশি হাঁটে। রোহিতের জন্য দিনটা ভুলে যাওয়ার মতো, বিরাটের জন্য আরেকটা ফর্মে থাকার প্রমাণ। সেঞ্চুরি না হলেও ৭৭ রানের ইনিংস বুঝিয়ে দিল, ঘরোয়া ক্রিকেটে নামাটা তাঁর কাছে শুধুই নিয়মরক্ষা নয়—সর্বার্থে প্রস্তুতির মঞ্চ। একদিকে গোল্ডেন ডাক, অন্যদিকে দায়িত্বশীল ৭৭। একই দিনে দুটো আলাদা ছবি, কিন্তু ভারতীয় ক্রিকেটের দুই স্তম্ভ এখনও আলোচনার কেন্দ্রেই।