ওভালে ভারতীয় ক্রিকেট দলের শক্তি ও ঐক্যের উৎস হয়ে ওঠে ষোড়শ শতাব্দীর হিন্দু ভক্তিমূলক স্তোত্র ‘শ্রী শিব রুদ্রাষ্টকম’ স্তুতি।

টিম ইন্ডিয়া
শেষ আপডেট: 13 August 2025 15:53
দ্য ওয়াল ব্যুরো: বলতে গেলে খাদের কিনারায় দাঁড়িয়ে থেকেই ওভাল টেস্টে (Oval Test) খেলতে নেমছিল শুভমান গিল ব্রিগেড। এটাই ছিল ইংল্যান্ড-ভারত পাঁচ টেস্টের সিরিজের শেষ ম্যাচ। ওভালে হেরে যাওয়া মানেই ছিল সিরিজ খোয়ানো। তবে গৌতম গম্ভীররে টিম ইন্ডিয়া সেই টেস্ট ছয় রানে জিতে ২-২ সমতায় শেষ করে সিরিজ।
এবার ওভাল টেস্ট নিয়ে শোনা গেল এক অজানা কাহিনী। আর এই কাহিনি শোনালেন টিম ইন্ডিয়ার প্রধান থ্রো-ডাউন স্পেশালিস্ট রঘু (রাঘবেন্দ্র)। তিনি বলেন, “ওভাল টেস্টে নামার সময় সিরিজও ঝুঁকির মুখে ছিল। সিরিজ বাঁচাতে ভারতকে যেকোনও মূল্যে জিততেই হতো। প্রথম ইনিংসে টিম ইন্ডিয়ার শুরুটা খুবই খারাপ হয়। যশস্বী জয়সওয়াল (০২) এবং কেএল রাহুল (১৪) মাত্র ৩৮ রানে প্যাভিলিয়নে ফিরে যান। এরপর আমি ভারতীয় দলের ড্রেসিংরুমে 'শ্রী শিব রুদ্রাষ্টকম' (Shri Shiva Rudrashtakam) স্তোত্র বাজাতে শুরু করি। পাঁচ দিন ধরে টিম ইন্ডিয়ার ড্রেসিংরুমে এই প্রার্থনা বাজতে থাকে। শেষ পর্যন্ত, আমরা ম্যাচটি জিতে যাই।”
নমামিশ্মীষণ নির্বাণরূপম, বিভুম বিশ্বপ্রম ব্রহ্মবেদ: স্বরূপম..
ওভালে ভারতীয় ক্রিকেট দলের শক্তি ও ঐক্যের উৎস হয়ে ওঠে ষোড়শ শতাব্দীর হিন্দু ভক্তিমূলক স্তোত্র ‘শ্রী শিব রুদ্রাষ্টকম’ স্তুতি। ড্রেসিংরুমে বাজানো এই স্তোত্রটি হাই-ভোল্টেজ টেস্ট ম্যাচে চাপের মধ্যেও প্রশান্তি ও শক্তির অনুভূতি জাগিয়ে তোলে ভারতীয় ক্রিকেটারদের মধ্যে। এমনকি সিরিজ শেষ হওয়ার পরেও ক্রিকেটাররা মন্ত্রটি শুনে ভগবান শিবের সঙ্গে ভক্তির সংযোগ অনুভব করে চলেছেন।
ইংল্যান্ডে যাওয়া ভারতীয় দলের একজন সদস্য জানিয়েছেন, “আমি এটা আগে কখনও শুনিনি। তবে এটি খুব আশ্চর্যজনক ভাবে আমাদের মনে প্রশান্তি এনে দিয়েছিল। আমরা কোনও চাপ অনুভব করিনি। বিষয়টি খুবই আশ্চর্যজনক ছিল।”
কথিত আছে, যদি কোনও শত্রু তোমাকে কষ্ট দেয়, তাহলে শিব মন্দিরে বা বাড়িতে কুশ আসনে বসে সকাল ও সন্ধ্যায় টানা সাত দিন ধরে 'শ্রী শিব রুদ্রাষ্টকম' স্তব পাঠ করলে, ভগবান শিব এক মুহূর্তের মধ্যে সবচেয়ে বড় শত্রুকেও ধ্বংস করে দেন এবং সর্বদা তাঁর ভক্তদের রক্ষা করেন। রামায়নে কথিত, রাম রামেশ্বরমে একটি শিবলিঙ্গ স্থাপন করেন এবং রাবণকে জয় করার জন্য ভক্তি সহকারে 'শ্রী শিব রুদ্রাষ্টকম' স্তব পাঠ করেন। ফলস্বরূপ, শিবের কৃপায় রাবণও ধ্বংস হয়ে যায়।
ইংল্যান্ডে যাওয়া ভারতীয় দলের আরেক সদস্য বিষয়টি নিশ্চিত করে বলেছেন, “ম্যাচের সময় টিম ইন্ডিয়া ড্রেসিংরুমে সবসময় গান বাজানো হয়। আমরা যখন ইংল্যান্ডে অনুশীলন করতাম, তখন মাঠেও গান বাজতে শুনেছেন নিশ্চয়ই। অনেক সময় আমরা স্পিকারে হনুমান চালিশাও শুনি এবং অনুশীলন করি। কিন্তু এই প্রথম আমরা পাঁচ দিন ধরে ‘শ্রী শিব রুদ্রাষ্টকম’ শুনেছি। আমি বলব না আমরা কেবল এই কারণেই জিতেছি, তবে এটি আমাদের অপ্রত্যাশিত শক্তি জুগিয়েছে।”